ঘর লেখক আহা বই

বাংল ছন্দে মহলসহ্হ্ ব্রবাীস্ছ্বনাঘথের “মানসী, ৩৩1 আধুনিক সাভিত্তশিজ্জপা

হপরি 2০

(রবীন্দ্র-কাব্যের.মূলসুত্র )

্রীঘমূল্যন মুখোগাখ্যায়, এম্-এ, পি-আর্-এস্‌

কলিকাতা যোগমাধা দেবশ কলেজের ইংরাজণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালযের স্নাতকোত্তর বিভাগের উপাধ্যায়

£ স্ক়ুর হেব গজ * কমিকাডা

প্রথম প্রকাশ--রাস পহর্পিমা ১৩৬৮

প্রচ্ছদ নিমাই নন্দশ

প্রইমশিকামতগ মরি টির

মিত্রা বহায়ম্্হবিতিজজ্লন্তল মকেভ & শঙ্কর ঘোষ বেন | কলিকাতা

মুদ্ধক আীসৌরেন্দ্রনাথ মিত্র” এমএ বোধি প্রেস 1 শশ্কর ঘোষ লেন কম্িিকাতা

সুচাপত্র

প্রস্তাবনা_+ন্বর্গের চক্রান্ত” ( কথিকা ) কবিগুরু কবিগুরু রবীন্দ্রকাব্যের মর্্মবাণী রবীন্দ্র-মানসের ত্রিধারা রবীন্দ্রনাথের সাধন। রবীন্দ্রকাব্যে পর্ব যুগ-বিভাগ রবীন্দ্রকাব্যের ক্রমবিকাশ যুগসন্ধ্যা__ ১ম পর্ব্ব (সন্ধ্যাসঙগীত ) প্রথম যুগ

২য় পর্র্ব (প্রভাতসঙ্গীত, ছবি গান )...

৩য় »* (কড়ি কোমল )

৪র্থ » (মানসী ) দ্বিতীয় যুগ__

৫ম পর্ব ( সোনার তরী )

৬ষ্ঠ », ( চিত্রা, চৈতালি )

৭ম ১», ( কল্পনা_-কথা কাহিনী ) **

তৃতীয় যুগ : ৮ম প্র (ক্ষণিকা ) ৯ম (নৈবেষ্ঠ ) ১০ম »১ ( উৎসর্গ, স্মরণ, শিশু )

৮০১---৯১৯ ৭১৬১----১৯১০ ০১৭---১৯০০

১০৯---১৯০৪ ১০৫---৯১০ ১১১---১৩২ ১৯১৫--১২৪৩ ১২১--১২৬ ১২৭---১৩২

চতুর্থ যুগ__ ১১শ পর্ধব (খেয়া )

» ( গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য, তালি) ১৩শ » (বলাকা, পলাতকা, শিশু ভোলানাথ)

পঞ্চম যুগ ১৪শ পর্ব ( পূরবী )

১৫শ » ( মহুয়া__পরিশেষ ) ১৬শ » ( পুনশ্চ শ্যামলী ) অন্তিম যুগ

ংল] ছান্দে রবীন্দ্রনাথের সাধনা সিদ্ধি

নির্ঘণ্ট

১৭শা (

॥০

প্রান্তিক সানাই ) ১) ( রোগশয্যায়__শেষলেখা )

পরিশিষ্ট

পৃষ্ঠ

৬৩৩---১৬৩ ১৩৯--১৪৩ ১৪৪-_-১৫১ ১৫২--১৬৩ ১৬৪--১৮৫ ১৭২--১৭৪ ১৭৫--১৭৯ ১৮০---১৮৫ ১৮৬--১৯৫ ১৯০---১৯২ ১০১৩---১৪৯৫

১৯৬--২১৪ ২১০৫--*৬

গ্রস্তাবন!

“জের চক্রান্ত” ( কথিকা )

“বর্গের চক্রান্ত” স্বর হয়েছে

পিতামহ ব্রহ্মার কাছে পৌছেচে আর্ত ধরিত্রীর ক্রন্দন-_-

হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্থী, নিত্য নিঠুর দ্য

সেখানে লেগেই আছে মর্থ্যের উদ্ধার যে কি করে হবে, তা কেউ ভেবে স্থির কর্তে পাচ্ছেন না। |

যুগে যুগে বিষণ ভূভার হরণের জন্য অবতীর্ণ হন, কিন্তু এবার তিনি আর যেতে রাজী নন। তিনি বলে পাঠিয়েছেন যে মানবের উদ্ধারের চেষ্ট] পণ্ুশ্রম মাত্র পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য এবং মানবের মুক্তির জন্য তিনি বারে বারে চেষ্টা করেছেন, ছুষ্কৃতকারীদের বিনাশ ক'রে ধর্মরাজ্য স্থাপন ক'রে দিয়েছেন, আদর্শ মানবের চরিত্র লোকের সাম্নে তুলে ধরেছেন মানব তার পুজা করেছে এবং এখনও করে, কিন্তু তার মহৎ আদর্শের অন্থসরণ করে নি। এই সে দিনও তিনি শাক্যমুনিরূপে গিয়ে ত্যাগ প্রেমের বাণী প্রচার করে এসেছেন কিন্তু শাক্যমুনির ভক্তরা তার বাণী পালন করে নি, করেছে তার নখদস্তের পুজা, আর হিংঅ জ্তর মত পরস্পরকে করেছে নখদস্তাঘাত। তাই তিনি স্থির করেছেন যে কাল পূর্ণ না হ'লে তিনি আর মর্ত্যে যাবেন না* এবং যখন যাবেন তখন বর্তমান নরজাতির উৎসাদন ক'রে আসবেন ঘ-_-১

কবিগুরু

ধূর্জাটি অনত্ত কাল ধরে ধ্যানমগ্ন। মহামায়ার রহস্তাভেদ কি আজও হ'ল না? যা হোক, তাকে খবর দেওয়া বুথা। ধ্যানভঙের পর তিনি যদি এই সব অনাচারের সংবাদ পান, তা হ'লে তার তৃতীয় নয়নের ন্প্ত বহ্ছি হয়ত আবার ভুলে উঠবে এবং ব্রহ্মার স্কুমার স্যৃ্টি -নর- হয়ত মারের মতনই অবিলম্বে ধ্বংস হবে কিংবা আপন ভুলে এমন প্রলয় নাচন আরম্ভ কর্বেবন যে ব্রহ্মার জটিল স্থষ্টির সমস্ত বধনই খুলে যাবে।

তবে, উপায় কি?

৯৫ মি মর

ব্যথিত স্বর্গে সেই নিবর্বাক সভাগৃহে ব্রহ্মার করুণ নয়ন ছুইটি সন্ধ্যাতারার মত ফুটিয়া রহিল

অন্তরালে দেবী ভারতীর নয়ন হইতে ছু'ফৌট! অশ্রু যেন বাল্সীকির দুটি শ্লোকের মতই ঝরিয়া পড়িল।

(২)

এমন সময় রক্তভাল লাজনভ্রশিরে একজন অগ্রসর হইয়া ব্রহ্মার চরণে একটি খেত শতদল রাখিয়া প্রণাম করিল

সভাস্থ সকলে চাহিয়া দেখিল, সে দেবী ভারতীর মালঞ্চের মালাকর। সকলে বলিত যে ভারতীর বিশেষ অন্নগ্রহ প্রসাদ সে লাভ করিয়াছিল। ন্বর্গে সে নবাগত। পুরে সে ছিল অলকার অধিবাসী, নটরাজের ভক্ত মহাকালের নৃত্যের তালে সে পাইয়াছিল মুক্তির মন্ত্র তাহার প্রিয়ার সহিত একাসনে বলিয়া! একমনে নটরাজের পুজা করিত, ধূর্জটির মুখের পানে পার্ধতীর হাসি দেখিয়া সে "থয হইত একদা দোলফাগুনের চাদের আলোয় স্বাধিক1পপ্রমণ্ড হওয়ায়

স্বর্গের চক্রাস্ত ৩.

সে শাপেনাস্তংগমিতমহিমা হইয়া বর্ষকাল পৃথিবীতে বিরহ যাপন করিয়াছিল। সেই সময়ে সে দেখিয়াছিল ধরণীর অতুল সৌন্দর্য্য, আর অনুভব করিয়াছিল মানবহদয়ের অনন্ত মাধুর্য ! সমুদয় মানবের সৌন্দর্য্যে ডুবিয়া তাহার হৃদয় অক্ষয় স্থন্দর হইয়াছিল। নিজে বিরহের ক্লেশ ভোগ করিবার সময় বিডশ্বিত মানবের প্রতি তাহার গভীর সহান্ৃভৃতির উদ্রেক হইয়াছিল অনেক সময় অদ্ধরাত্রি অনিদ্র“ নয়ান থাকিয়৷ সে ভাবিত- মানুষকে

কে দিয়াছে হেন শাপ, কেন ব্যবধান ? কেন উদ্দে চেয়ে কাদে রুদ্ধ মনোরথ ? কেন প্রেম আপনার নাহি পায় পথ ?

পরে পুণ্যফলে তাহার গতি হয় ব্রহ্মলোকে | মানবের প্রতি. তাহার * অপরিসীম সহানুভূতি দেখিয়া মহবি বাল্মীকি তাহার বীণাযন্ত্ তাহাকে দান করিয়াছিলেন সঙ্গীত কাব্যে তাহার অতুল অধিকার জন্মিয়াছিল, স্বুরসভাতলে উর্বশী তাহারই ছন্দের তালে নৃত্য করিত

(৩)

ব্রহ্মা স্মিতমুখে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন__-বৎস, কি চাও ?

সে বলিল,_প্রভূ, আমাকে অক্ষম মানবের সেবার অধিকার দিন।

ব্রহ্মা জিজ্ঞাসা করিলেন”_তোমার উপকরণ কি কি?

সে বলিল,_ প্রভু, শুধু এই ছিন্নতন্ত্রী বীণা, আর আমার যাত্রা" সহচরীর দেওয়া এই' অল্লান মাধবীমঞ্জরীর রাখি

একটু ভাবিয়া ব্রহ্মা বলিলেন,__যাও, বৎস, তোমার পন্থা জয়যুক্ত

কবিগুরু

হউক মানবের মুক্তির যথার্থ সন্ধান তুমিই পাইয়াছ। রবির হ্যায় দীপ্তি হইবে তোমার প্রতিভার ইন্দ্রের হ্যায় গৌরব হইবে তোমার জীবনের বিশ্ব-ভারতীর বাণী তোমার কণ্ঠে ধ্বনিত হইবে অশীতি- বর্ষকাল এই বাণী মর্ত্যে প্রচার করিয়া রাখি-পুণিমার দিনে আবার এখানে ফিরিয়। আসিবে

কবিগুরু

কবিগুরঃ (১)

আমাদের দেশে মহাপুরুষ অনেক জন্মিয়াছেন, তাহাদের স্মৃতি দেশ যত্বে রক্ষা করিয়া রাখিয়াছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের স্মরণে শিক্ষিত বাঙ্গালী হৃদয়ে হৃদয়ে যে স্পন্দন অনুভব করেন, তাহা অন্য কোন মহাপুরুষের স্মৃতিতে করেন কি না সন্দেহ অবশ্য কোন কোন দিক্‌ দিয়া রবীন্দ্র নাথের অপেক্ষা মহত্তর পুরুষের আবির্ভাব যে আধুনিক কালেও বঙ্গদেশে হয় 'নাই তাহা নহে। তাহারা আমাদের নমস্ত, তাহাদের কাছে আমরা খণী, তাহাদের দান দেশকে উন্নত বা সম্দ্ধ করিয়াছে, তাহাদের ধী চরিত্রের গৌরব দেশের মুখ উজ্জল করিয়াছে কিন্ত তবুও স্বীকার করিতে হয় যে, রবীন্দ্রনাথের স্বৃতি আমাদের মর্মে রক্তে যে দোলা আনিয়া দেয়, যে পুলকের আভাস মনে সঞ্চার করে, তাহা বোধ হয় আর কাহারও ম্মৃতিতে আমরা অন্নুভব করি না। অন্যান্য মহাপুরুষদের আমরা ভক্তি করি, রবীন্দ্রনাথকে আমরা সকল হৃদয় দিয়া ভালবাসি, রবীন্দ্রনাথের জন্মতিথি আমাদের কাছে শুধু তাহার স্মতিপূজার দিন নয়, তাহা আমাদের অস্তরাত্মার উৎসবের দিন।

রবীন্দ্রনাথের স্মরণ মাত্রে আমাদের যে এই পুলকমিশ্র হৃৎস্পন্দন হয়_এ কি শুধু তাহার কবিত্বের জন্য ? এইজন্যই কি সরন্বতী পুজার হ্যায় নগরে - নগরে পল্লীতে পল্লীতে রবীন্দ্রস্বৃতিপূজার ভিড় জমিয়া উঠে? মহাকবি আরও অনেক জন্মিয়াছেন 91781598799876 জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, কিস্তু তাহার জন্মদিনে কি ইংরেজ-হাদয়ে

কবিগুরু

এমন হিল্লোল বহিয়া যায়? এমন কি সমগ্র ভারতের মুগ্ধ গ্রীতির অর্থ্য যে মহাকবি দ্বিসহত্র বৎসর ধরিয়া পাইয়া আসিয়াছেন, সেই কবিকুল- শিরোমণি কালিদাসের স্মবৃতিও আমাদের মনে প্রাণে এমন তরঙ্গ

তুলিতে পারে না।

(২)

রবীন্দ্রনাথ যে আমাদের মনে এমন ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করিয়াছেন, তাহার কারণ রবীক্দ্রনাথ মাত্র কবি ছিলেন না ইংরাজ সমালোচকেরা যাহাকে 47006787099” অর্থাৎ রসাত্মক বাক্য মাত্র বলিয়াছেন, তাহাতেই রবীন্দ্রনাথ সীমাবদ্ধ ছিলেন না| 97780:98- 79879, কালিদাস-__ইহারা অবশ্যই মহাকবি তাহাদের চেয়ে রবীন্দ্র- নাথ বড় কবি কিনা সে তর্ক নিক্ষল নিম্য়োজন | তবে কথ! ঠিক যে, শুধু কবি হিসাবেই: রবীন্দ্রনাথকে দেখিলে তাহার মহত্ব ঠিক অন্থধাবন করা যাইবে না। “তোমার কীত্তির চেয়ে তৃমি যে মহং”__ একথা আমরা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহেই বলিতে পারি

অবশ্য কবি হিসাবে রবীন্দ্রনাথের এই্বর্ধ্য ছিল অপর্য্যাপ্ত | কাব্য- ছন্দ এবং আন্ষগিক অন্যান্ত আঙ্গিকের উপর অভূতপুর্্ব আয়ন্তি, কবিকল্পনার বৈভব, ধ্বনির অপরূপ হিল্লোল, অলঙ্কারের দীপ্তি, অপ্ুর্ব্ব বৈচিত্র্য ব্যঞ্জনা, ভাষার ছটা, ভাবের প্রাচুর্য, প্রসার গভীরতা, এই সমস্ত উপকরণের সম্পূর্ণ স্ুসমঞ্জস সৌধম্য এবং ভাস্বর রসলোক স্ষ্টির ক্ষমতা-_-এ সমস্তের দিক্‌ দিয়া রবীন্দ্রনাথ অতুলনীয় তাহার কাব্যকে লক্ষ্য করিয়া বল! হইয়াছে “বাঙ্গালী আজ গানের রাজা” সে কথ! কিছুমাত্র অতুযুক্তি নহে বাঙ্গলা ভাষার রন্ধে রন্ধে যে এত সর বাজিতে পারে, তাহা রবীন্দ্রনাথের পুর্বে কে ভাবিতে পারিত ?

কবিগুরু

তাহার আজিকের মধ্যে যদি কোন দোষ থাকে, তাহা সম্পদের আতি- শয্য- _রাজোচিত অতিদাক্ষিণ্য | কিন্তু কোন দেশে বা যুগে কোন কবিই এত বহুল পরিমাণে, এত বিচিত্র রকমের উৎকৃষ্ট কাব্য ৬০ বৎসর ধরিয়া সদাসব্ধবদ! স্থষ্টি করেন নাই যদি “সরম্বতীর বরপুত্র' কাহাকেও বলিতে হয়, তবে রবীন্দ্রনাথই সেই অভিধার শ্রেঠ অধিকারী

তবুও একথা মানিতে হইবে যে, শুধু কবি বলিয়াই রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রীতি ভক্তির পাত্র নহেন» রবীন্দ্রনাথ আরও অনেক কিছু সাহিত্য ক্ষেত্রে তিনি ওপন্যাসিক, গল্পলেখক, নাট্যকার, নিবন্ধকার ; রাষ্ত্রীয় সামাজিক ক্ষেত্রে তিনি সংস্কারক, প্রচারক, শিক্ষাব্রতী, রাষ্ট্রধিদ্‌, জননায়ক ; তিনি গায়ক, সঙ্গীতজ্ঞ, স্থরঅষ্টাঃ নৃত্য- শিল্পবিৎ, অভিনেতা এবং চিত্রকর ; তিনি জগৎবিখ্যাত বক্তা, পণ্ডিত, দার্শনিক, জ্ঞানী মনীষী তিনি আজীবন কন্মী; রাষ্ট্র জাতির উন্নয়ন গঠনমূলক সব্র্ববিধ আন্দোলন প্রচেষ্টার সহিত যেমন তিনি বিজড়িত ছিলেন, আবার তেমনি অতি ক্ষুদ্র গ্রামের উন্নতি ও' গ্রাম- বাসীর সেবাতেও তিনি উৎস্থষ্ট ছিলেন। সব্্বদেশের মনীষীদের সহিত যেমন তিনি চিন্তা ভাবের সংযোগ রক্ষা করিতেন, তেমনি আবার সামান্য পরিচারক দর্শনার্থী কিশোর-কিশোরীর মনোভাব হদয়ঙ্গম করিয়া তাহাদের তৃপ্তি বিধানে যত্ববান্‌ ছিলেন। “অজত্র সহত্রবিধ চরিতার্থতায়' আত্মপ্রকাশ করিবার জন্য তাহার জীবনআোত বহু ধারায় প্রবাহিত হইত তাহার মহত্বের পরিচয় শুধু কবিত্বে নয়, সংসারের কর্মপ্রবাহেও ; শুধু রসলোকে বিহারের ক্ষমতাতে নয়, ধুলির ধরণীর আপাত-নীব্রস কর্মে নিষ্টা কূশলতাতে-ও | |

& ইহাকে কোন কোন সমালোচক 7:০11510 বা বানুল্যদোষ বলিয়াছেন বস্ততঃ ইহ) এক্জাতীয় রোমান্টিকন্তার জক্ষণ।

১০ কবিগুরু

তাহার উপর, রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব রূপে, স্বাস্থ্যে, কণ্ঠস্বরে_আলাপে, পরিহাসে, বাগ্সিতায়, ব্যবহারে, শীলে_ উদ্যমে, ধৈর্য্য, সহিষু্তায়_ধৃতিতে ধী-শক্তিতে-_বাহা আন্তরিক সৌম্যতায়-এক কথায় সাবিক “দৈবী সম্পদে” তাহার সমতুল আধুনিক জগতে কে জন্মিয়াছেন ?

(৩)

অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ছিলেন আমাদের খণ্ডিত, সঙ্কুচিত জীবনের মাঝখানে পুর্ণ তর মানবতার অবতার, আমাদের ঈক্সিত স্বর্গের দূত জীবন্ত প্রতিচ্ছবি এইজন্য রবীন্দ্রনাথের নাম স্মরণ করিলেই যেন একটা আকাজ্কষিত স্বর্গের স্পর্শ আমরা অন্থভব করি এইখানেই; রবীন্দ্রনাথের বিশেষত্ব তিনি শুধু রূপদক্ষ স্ুরত্রষ্টাী রসবিলাসী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের জীবনের মূর্ত আদর্শ আধুনিক যুগে সমস্ত ভারতবর্ষ ব্যাপিয়া যে অভিনব সাধনা চলিতেছে, যে সাধনার বিভিন্ন রূপ আমরা মহাত্মা হইতে আরম্ভ করিয়া তরলমতি তরুণ তরুণীর ভাব চিন্তার মধ্যে দেখিতে পাই, সেই সাধনার পরিপূর্ণ আদর্শ যেন বিকশিত হইয়া উঠিয়াছিল রবীন্দ্রনাথের দেহে, মনে জীবনে এক দিক্‌ দিয়া তিনি 4১০ 0: 707 মানবতায় পরিপূর্ণ “পৃথিবীর শিশু”, আর এক দিক্‌ দিয়া তিনি 45০07) ০£ 90০” _ৈবী প্রেরণার অবতার, দৈব এশ্বর্যের বিগ্রহ এইজন্য তিনি শুধু কবি নহেন, তিনি কবিগুরু

বস্তৃতঃ রবীন্দ্রনাথকে আধুনিক যুগের [0:0707)66 বলা যাইতে পারে। প্রাচীন ইহুদীদিগের ইতিহাসে কোন কোন যুগে যেমন 188181), ৩০) প্রভৃতি পয়গম্বর ভগবত-প্রেরণা লাভ করিয়া সমগ্র

কবিগুরু /১১

জাতির ভাব কর্মধারা নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়াস করিয়াছিলেন, মানব- জীবনের সত্য আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করিয়াছিলেন, রবীন্দ্রনাথ আধুনিক যুগে পৃথিবীতে সেই কর্তব্য সম্পাদন করিয়াছেন তাহার রচনায় জীবনাদর্শের মধ্যে আধুনিক মানবচিত্ত এমন কিছুর সন্ধান পাইয়াছে যাহা পরশপাথরের মত মানবপ্রকৃতির একটা মৌলিক পরিবর্তনই সাধন করিতে পারে বর্তমান কালের খণ্ডিত বন্ধ- জটিল জীবনে তিনি আনিয়াছেন পূর্ণতার আভাস পরিত্রাণের আশ্বাস। এইজন্যই পৃথিবীর সব্বদেশেই ফাহারা শ্রেষ্ঠ মনীষী জ্ঞানী, তাহার! রবীন্দ্রনাথকে আপনার বলিয়া বিবেচনা করিয়াছেন, তাহাকে গুরুর হ্যায় শ্রদ্ধা করিয়াছেন, তাহার বাণীআবাহন করিয়াছেন। আধুনিক যুগে খিন্ন নিপীড়িত বিষয়-বিষ-বিকার-জীর্ণ মানব আত্মাকে যথার্থ মুক্তির বাণী যে রবীন্দ্রনাথই শুনাইয়াছেন, তাহা সব্ধদেশের স্বধীবৃন্দ স্বীকার করিয়াছেন। যে অন্কুতুতি উপলন্ধষির ফলে জীবনের অস্তদ্বন্দের অবসান হয় মনুষ্যত্বের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব হয়, তাহাই রবীন্দ্রসাহিত্যের উপজীব্য এই অন্থুভব মানুষের প্রাণে আবিভূতি" হইলে সমগ্র মানবসত্তায় চরিতার্থতার বঙ্কার বাজিয়া উঠে, অমৃত- লোকের আনন্দে চিত্ত আপ্লুত হয়। এই আনন্দ-ই মুক্তির লক্ষণ, এবং ইহারই বাণী রবীন্দ্রসাহিত্যে ধ্বনিত হইয়াছে পৃথিবীর ছুর্ভাগ্য যে, সে বাণী সর্বত্র সবর্বদা অন্ুস্থত হয় নাই

রবীন্দ্রনাথকে কেহ কেহ খষি বলিয়াছেন এবং এই কথা লইয়া কিছু কিছু প্রতিকূল সমালোচনাও হইয়াছে প্রাচীন ভারতীয় মুনি ধাধিদের হ্যায় আহার-বিহার, আচার জীবনধারা অবশ্য রবীন্দ্রনাথের ছিল না, কিন্তু সমস্ত তর্ক সম্পূর্ণ অবাস্তর আহার বা আচারের কোন বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করিলেই কেহ খধি হইতে পারেন না।

১২ কবিগুরু

ধিনি জীবন-সত্যের সহজদ্রষ্ঠা, সেই সত্যের মূর্ত প্রতীক প্রচারক, সেই সত্যের মন্ত্রবলে যিনি সমগ্র জাতিকে বা জগৎকে উদ্ধদ্ধ করিতে পারেন, তিনিই খষি ইহাই যদি ধধিত্বের পরিচায়ক হয়, তবে রবীন্দ্রনাথকে খষি কিংবা প্রাচীন খধিদের উত্তরসাধক বলিতে আমাদের কোন দ্বিধা থাকিতে পারে না। বেদ ব্রাহ্মণের মাহাত্ম্য অস্বীকার করিয়াও যদি শাক্যসিংহ বোধ লাভ করিয়া দশাবতারের মধ্যে অন্যতম বলিয়া গণ্য হইতে পারেন, তবে রবীন্দ্রনাথও প্রাচীন মুনিদের আচার পালন এবং সব্বতোভাবে তাহাদের মতান্ুসরণ না করিয়াও জীবনসত্যের অন্যতম দ্রষ্টা হিসাবে খষি বলিয়া পরিগণিত হইতে পারেন অবশ্য প্রাচীন খষিদের সহিত তাহার অনুভূতির দৃষ্টির পার্থক্য আছে। তিনি আধুনিক জগতের কবি ; বৈজ্ঞানিক যুক্তি বিচারের দ্বারা তাহার কাব্য পরিশীলিত ; বুদ্ধির দ্বারা তাহার দৃষ্টি পরিচালিত ; সংসার তাহার কাছে মায়া নয়, সত্য, এবং এই!

ংসারের বিচিত্র সত্যের তিনি দ্রষ্টা ভোক্তা ; মানবস্থলভ অন্ুভূতিই 'তাহার উপলন্ধির মূল তত্রাচ খধিদের সহিত এই হিসাবে তাহার মিল আছে যে খষিদের ন্যায় তাহারও জীবন ছিল একটা সাধনা সত্যোপলন্ধির একটা একান্তিক প্রয়াস তাহার সাহিত্য-চ্চা, রাজ- নৈতিক ক্রিয়াকলাপ, গ্রামসেবা* নৃত্যগীতাদি সুকুমার শিল্পের অনুশীলন ইত্যাদি জীবনব্যাপী নানা কর্মের সমস্তই ছিল সত্যকে উপলব্ধি করিবার জীবনের মধ্যে তাহাকে পরিস্ফুট করিবার প্রয়াস মহাত্মা হ্যায় ভাহারও জীবন ছিল একটা সাধন! বা “105109727009106 ৮7101) 0০010, |

কবিগুরু ১৩.

(৪)

এই সাধনার ইতিহাস রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারায় পরিস্কুট | “সন্ধ্যা- সঙ্গীত' হইতে “শেষ লেখা” পর্যস্ত রবীন্দ্রনাথের সমস্ত কাব্যগ্রন্থ যদি আমর] মনোযোগ দিয়া পাঠ করি, তবে দেখিতে পাইব যে, তাহার মধ্যে রহিয়াছে এক উন্মুখ মানবাত্মার ক্রমবিকাশের ইতিহাস বিশ্বের বিচিত্র লীলার মধ্যে বিশ্ব-আত্মার প্রকাশ, সেই বিশ্ব-আত্মার স্বরূপ সম্পর্কে কবিহৃদয়ের উপলব্ধির বিকাশ এবং এই উভয়ের মধ্যে একটা নিবিড় যোগাযোগ-_-এই কয়টি বিষয় অবলম্বন করিয়াই রবীন্দ্রকাব্য গড়িয়া উঠিয়াছে। নিরপেক্ষ স্বয়ংসিদ্ধ মানবিকতার কবিতা তিনি কখনও কখনও রচনা করিয়া থাকিলেও তাহার কাব্য প্রধানত; একটা আত্তিক্য ভাবে অনুপ্রাণিত; তাহার প্রেরণা, তাহার ধর্ম মূলতঃ আত্মিক “ও ইতি ব্রহ্ম" যাহা কিছু মানবান্নৃভৃতির বিষয় সমস্তই ব্রহ্ম__ইহাই তাহার মন্ত্র। তাই বলিয়া যেন কেহ মনে না করেন যে, রবীন্দ্রকাব্যে মানবস্থলভ অনুভূতি বা আবেদনের অভাব আছে। বস্ততঃ আধ্যাত্মিকতা মানবতা উভয়ই রবীন্দ্রকাব্যে ওতপ্রোত, এইখানেই রবীন্দ্রপ্রতিভার বেশিষ্ট্য তাহার কাছে যাহ! ইন্জরিয়গ্রাহা তাহাই অতীন্দ্রিযরূপে প্রতিভাত হইয়াছে, প্রেয়সীই দেবী হইয়! উঠিয়াছে। তীহার কাব্যে “জীৰন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে” একটা রহস্যলোকের আভা প্রতিফলিত হইয়া মানব জীবনের অন্নুভব আকাতজ্ষাকে উদ্ভাসিত, রঞ্জিত রূপায়িত করিয়াছে তাহার কাব্য- সাধনায় মানবপ্রেম ঈশ্বরভক্তি একই: হইয়! ঈাড়াইয়াছে, তথাকথিত মোহ-ই: যুক্তির সন্ধান আনিয়া দিয়াছে তিনি যথার্থই “৮:৪৪ 0159 (00750. 70011069 ০9117995679 21501707006” ) মর্ত্য অন্ৃভূতি স্বর্গের উপলব্ধি যেখানে পরস্পরকে স্পর্শ করিয়াছে, ,সেই মিলন-

১৪ কবিগুরু

রেখাতেই তাহার কাব্যের স্থান “আকাশপুথিবীর বিবাহমন্ত্রগুঞ্জন৮-ই রবীন্দ্রকাব্যের বাণী |

এই জন্যই রবীন্দ্রনাথের আধুনিকতা কখনও ছুঃখবাদঃ সংশয়বাদ বা আত্ম-অবিশ্বাসে পর্যবসিত হয় নাই

(৫)

রবীন্দ্রপ্রতিভার মৌলিকতা হইল মানুষের মানবিক বৃত্তি আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে এই সংযোগশ্মত্রের আবিষ্ষারে ইহার দ্বারা রবীন্দ্রনাথ ভারতের সাধনার সনাতন ধারাকে নৃতন দিকে, নূতন আদর্শের অভিমুখে মোড় ফিরাইয়! দিয়াছেন। ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথের ইহাই বিশিষ্ট দান। বিষয় ইন্দ্রিয়ের সহিত আধ্যাত্মিক সাধনার বিরোধিতা- ইহা স্বতঃসিদ্ধ সত্যরূপে চিরদিনই গৃহীত হইয়া আসিয়াছে “যোগঃ চিত্তবৃত্তি-নিরোধ?” ইহাই সাধন-মার্গের গোড়ার কথা সঙ্কল্পজাত কামনাসমূহকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করিয়া এবং মনের দ্বারা ইন্ড্রিয়- সমূহকে বিষয়-ব্যাপার হইতে নিবৃত্ত করিয়া সাধনমার্গে অগ্রসর হইতে হইবে, এই উপদেশই শাস্রকারের! দিয়াছেন শঙ্করাদি আচার্যগণের মতেও একমাত্র পথ হইল বিষয়াদি হইতে ইন্ড্রিয়সমূহের প্রত্যাহার, বিবিস্তসঙ্গ হইয়া অবস্থিতি, কুম্মনীতি গ্রহণ এবং একমাত্র লক্ষ্য হইতেছে নিবর্বাণ__বৌদ্ধমতের নিবর্বাণ না হউক, ব্রহ্মনিববাণ। সত্ব রজোগুণের মধ্যে তাহারা কোন মিল দেখেন নাইঃ রজোগুণকে জয় করাই ছিল তাহাদের লক্ষ্য সংসারের বন্ধনকে এড়াইতে হইবে, বিষয়কে ত্যাগ করিতে হইবে”এই কথাই তাহার! বলিয়াছেন ; মানবস্বলভ সমস্ত প্রবৃত্তির শিরে মোহমুদগরের আঘাত

কবিগুরু ১৫

হানিয়া বৈরাগ্যের ধূসর পথ-ই একমাত্র মুক্তিপথ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন |

বীততধুষ্টের সুমহান্‌ নীতিধন্মও এবছ্িধ মতের উপর প্রতিষ্ঠিত স্বর্গরাজ্য (01089020 ০৫ 7398591)) বা মুক্তির আশা করিলে পাথিব রাজ্য (7099০020009 108৮০) অর্থাৎ ভোগস্খ একেবারে বিসর্জন দিতে হইবে, ইহাই ছিল যীশুর অভিমত

মোটের উপর বলা যাইতে পারে যে, পুর্ধাচার্য্যগণ প্রায় সকলেই মানবস্লভ প্রবৃত্তি আধ্যাত্মিক মুক্তি_-এতছ্ভয়ের মধ্যে বিরোধিতা কল্পনা করিয়া আসিয়াছেন। ইহারা স্থ্টির মধ্যে দেখিয়াছেন একটা বিরাট দ্বিধাভাগ (€ 0191,06০10% ), বিধাতার পরিকল্পনার মধ্যে লক্ষ্য করিয়াছেন একটা অনাবশ্যক, নিষ্ঠুর দ্বন্দ যে সহজ প্রবৃত্তি জীবনকে নিরন্তর পরিচালিত করিতেছে, সেই প্রবৃত্তির সহিত জীবনের লক্ষ্যের কোন সঙ্গতি নাই, ইহাই তাহাদের অভিমত এরূপ দৃষ্টি যে একদেশদশিতাছুষ্ট, তাহা অবিলম্বেই প্রতীত হয়। জীবন সংসারের অখণ্ড সত্যকে বুঝিবার সেই সত্যকে যথার্থরূপে গ্রহণের অক্ষমতাই এই একদেশদশিতা!র দ্বারা স্মচিত হয় বিধাতার পরিকল্পনার মধ্যে একটা মৌলিক অসামঞ্জস্ত অপচয় কখনই সত্য হইতে পারে না।

রবীন্দ্রনাথও মুক্তি-সন্ধানী, কিস্তু তাহার মত পুরর্ধাচাধ্যগণের মত হইতে বিভিন্ন! এই মত একটা মহত্তর সমন্থয়ের (17161527951061.6918) উপর প্রতিষ্টিত। অবশ্য সমাজে ধর্মব্যবস্থায় ভারত অনেক সমন্বয় পুবেবে করিয়াছে, কিন্তু সে সমন্বয় আংশিক, তাহার পরিধিও সন্কীর্ণ। আধুনিক জগতের পীড়িত আত্মা যে সমন্বয় চায়, সে সমন্বয়ের পথ রবীন্দ্রনাথই পুরাপুরি দেখাইয়াছেন | সমন্বয় শুধু প্রাচ্য পাশ্চাত্তের ভাব, চিন্তা বা আদর্শের সমন্বয় নহে। এসমন্বয় এছিকের

১৬ কবিগুরু

সহিত পারক্রিকের, কর্মের সহিত ধর্মের, বুদ্ধির সহিত বোধির, রজোগুণের সহিত সন্বগুণের, ভোগের সহিত ত্যাগের, “সঙ্গের সহিত মুক্তির, নীরস কর্তব্যপালনের সহিত রসোচ্ছল উপলব্ধির সমন্বয় সন্কীর্ণতর ক্ষেত্রে ইহা কাজের সহিত খেলার সমন্বয়, গগ্ভের সহিত পছ্যের সমন্বয়

এইখানেই: রবীন্দ্রনাথের বৈশিষ্ট্য মানবপ্রকৃতির নানা বৃত্তির মধ্যে যে একটা পারস্পরিক আপাতবিরোধ আছে বলিয়া মনে হয়, তাহার অপুর্ব সমন্বয়ে সেই বিরোধের অবসান ঘটিয়াছে এবং সমগ্র- ভাবে মানবসত্তা মানববৃত্তির সমাকলন (11366878807) হইয়াছে, মানবের যুগপৎ আনন্দ মুক্তির অভিনব পথ খুলিয়া গিয়াছে। অসংখ্য ভগবানকে আসিতে দেখিয়াছেন এই অনুভবের ফলে রবীন্দ্রসাহিত্যে ফুটিয়া উঠিয়াছে একটা জীবনব্যাপী স্বরসঙ্গতির বোধ এই সঙ্গতি “বসম্ভরাগেন যতিতালাভ্যাং গেয়” কোন আলাপ (99199) নহে, ইহা একটা মহত একতান (15%70002)5) 1 জীবনের সব কিছুকে জানিয়া, ছুঃখ বেদনাকে গ্রহণ করিয়া, কঠোর কর্তব্যপালনের সহিত মহত্তের প্রতি অবিচলিত নিষ্ঠার সামঞ্জন্য সাধন করিয়া এই একতানের সথষ্টি। জীবনে অন্নুভূতির একতানের মধ্যে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞতাই একটা খণ্ড সুরের মত, তাহাদের সমাবেশের মধ্যে একটা মহাসৌন্দর্যের স্বত্র নিহিত রহিয়াছে এই মহাসৌন্রর্ধ্য যখন জীবনে উপলব্ধ হয়, তখনই লাভ হয় যথার্থ মুক্তি। “ভুমৈব স্তুখং নাল্সে স্ুখমস্তি ।” “বিশ্বাতোমুখ”, “অনেকবণ” বিচিত্রের-ই জয়গান রবীন্দ্রসাহিত্যে ধবনিত হইয়াছে

রবীন্দ্রনাথের সাধনায় শুষ্ক বৈরাগ্য নাই, কিন্ত তামসিক আসক্তিও

কবিগুরু ১৭

নাই ববীন্দ্রনাথ ওমর খেয়াম নহেন, সংশয়বাদীর ভোগ-তৃষ্ণা তাহার নাই | জীবনে যে একটা শুদ্ধ উপভোগের দিক আছে, তাহাকে তিনি কোন মূল্য দেন নাই। এমন কি সেই দিকৃটার প্রতি তাহার নজর নাই বলিলে চলে জীবনে কোমলতা লালিত্যের চচ্চাকে তিনি কখনই প্রাধান্য দেন নাই | ছুঃখ মৃত্যুর কথাই বোধ হয় তাহার কাব্যে বেশী “আম্ৃত্যুর ছুঃখের তপস্তা জীবন-_-সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে”__ইহাই তাহার জীবনের বাণী জ্যোৎ্সা ফুলের কথা রবীন্দ্রকাব্যে যে অপেক্ষাকৃত কম, শুধু তাহাই নহে, জ্যোৎস্না ফুলের যে স্থুল ভোগের দিকৃটা আছে, তাহাকে উপেক্ষা করিয়া তাহার স্থক্ম আধ্যাত্সিক আবেদনের কথাই রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন। আসলে কোন বস্তগত ভোগের প্রতি, কোন বিশেষ বস্তর প্রতিই তাহার কোন লিগ্পা নাই “ভাল মন্দ যাহাই আস্মক, সত্যেরে লও সহজে” ইহাই তাহার মুল মন্ত্র। এই উদার বলিষ্ঠ মনোবৃত্তি-ই তাহার গৌরবস্থল বিষয়কে তিনি বজ্গন করেন নাই, আবাল তাহাকে আকড়াইয়াও ধরেন নাই ; ছঃখকে তিনি ভয় করেন নাই, অশান্তিতে তিনি বিচলিত হন নাই বুহত্তর সত্যের সহিত সংঘাতের ফলেই জীবনে ছুঃখের উৎপত্তি, অহঙ্কার ক্ষুদ্রতা হইতে ভূমার উপলন্ষিতে আরোহণের ইহা সোপান. মানবের আত্মবিকাশের জন্যই ইহার প্রয়োজনীয়তা--এ কথা তিনি বারংবার বলিয়া গিয়াছেন। মোটের উপর সব্রবিধ অভিজ্ঞতাকেই তিনি ভগবানের প্রকাশ জানিয়া গ্রহণ করিয়াছেন, সমস্তই তাহার মুক্তির সহায়ক হইয়াছে ইহাই সাহার বাজযোগ্ন

৬৮ কবিগুরু

(৬)

গ্রই যোগের রহন্য রবীন্দ্রনাথ পাইয়াছেন মানবের সহজ (সৌন্দর্ধ্যবোধের মধ্যে ইহাই ভুলোক ত্বর্লোকের যোগসেতু, ইহাই মর্ত্যজীবনে অস্থতের স্পর্শ আনিয়। দেয়, ইহার আস্বাদন স্ষ্টিতেই মানবজীবনের সার্থকতা

সৌন্দ্্যাহ্ৃভূতির ঘে বিশেষ লক্ষণটির উপর রবীন্দ্রনাথ জোর দিয়াছেন, তাহা হইতেছে পুলক-স্পন্দন বা ছন্দোময়তা ছন্দোময় অনুভূতির দ্বারাই রবীন্দ্রনাথ স্কুলের সহিত স্ক্ষ্ের, ছুঃখের সহিত আনন্দের সামপ্ুস্ প্রতিষ্ঠা করিয়া অসম্ভবকে সম্ভব করিয়াছেন যখন বেগের সহিত যতির, নিয়মের সহিত গতির, আবেগের সহিত সংযমের সমাবেশ সামগ্তস্ত ঘটে, তখনই ছন্দের স্ষ্টি হয় পরস্পরের সহিত অঙ্জাজিভাবে জড়িত ছুইটি আ-বিরোধী শক্তির পারস্পরিক ক্রিয়ার দ্বারাই ছন্দের উৎপত্তি হয় এবং তাহার ফলে এক অভিনব স্পন্দন অস্তিত্বের আবির্ভাব হয় এই আবির্ভাব একটা নৃতন স্থষ্টি ; এই স্থষ্টির মূলে যে দ্বিবিধ শক্তির ক্রিয়া আছে, তাহার সমন্বয় হতে ইহা উদ্ভূত হইলেও ইহার প্রকৃতি অন্যরূপ | ইহা উপাদানীভূত শক্তির প্রভাব হইতে মুক্ত একটা নৃতন উপলব্ধি আমাদের আনিয়া দেয় | এই ছন্দোময় অনুভুভিতেই আনন্দ মুক্তির সন্ধান রবীন্দ্রনাথ পাইয্মা- ছেন। এই আনন্দ পাথিব স্খভোগ হইতে সঞ্জাত নহে বরং সুখের আকাত্ষা অপরাপর পাথিব বন্ধ হইতে যখন আত্মার মুক্তি ঘটে, যখন অন্তর বিকশিত, নিন্ম্ল স্বভাবশ্নুন্দর হয়, যখন বিশ্বের সহিত আত্মার যোগ সাধিত হয় এবং এশ ছন্দে জীবন প্রবাহিত হয়, তখনই আনন্দের উপলব্ধি হয় তখন অন্তর জাগ্রত, উচ্ভত, নিঃসংশয় নির্ভয় হয়| “আনন্দং ব্রহ্মণো বিদ্বান বিভেতি কুতশ্চন 1”--তখন

কবিগুরু ১৪

ব্রহ্মানন্দ লাভের ফলে আমরা আর কিছুতেই ভয় পাই না আমাদের সাংসারিক জীবনে ছুঃখ আছে, সুখ আছে, কান্নাও আছে, হাসিও আছে, কিছুতেই যথার্থ আনন্দ বা মুক্তি নাই কিন্ত যদি আমরা “কান্নাহাসির দোল দোলানো পৌষ-ফাগুনের পালা”র ছন্দের তালে তালে নৃত্য করিতে পারি, তবে সেই নৃত্যের ছন্দেই আমরা উপলন্ধি করিব আনন্দ, লাভ করিব মুক্তি সমস্ত জগত্ময় চলিতেছে একটা ছন্দের লীলা, সেই লীলায় যোগ দিবার জন্যই কবিগুরু আহবান করিয়াছেন |

“পারবি না কি যোগ দিতে এই' ছন্দে রে,

খসে যাবার, ভেসে যাবার ভাঙবারই আনন্দে রে |

সেই আনন্দচরণপাতে ছয় খতু যে নৃত্যে মাতে,

প্লাবন বহে যায় ধরাতে বরণ-গীতে গঞ্ধে রে ॥৮ আসক্তি-ই মৃত্যু, এইজন্য “তেন ত্যক্তেন ভুঞ্ীথাঃ” ইহাই শাস্ত্রের উপদেশ “পথের মাঝে নিজ সিংহাসন পাতা'_ইহাতেই আত্মার অপমান অধোগতি | রবীন্দ্রনাথ একান্ত সৌন্দর্যযসাধনার 41৮০ $০৮/৪:৮-এ নিজে বাস কন্েন নাই, বা কাহাকেও আহবান করেন নাই | এমন কি ভজন, পৃজন, আত্মোপলব্ধির নিভৃত মন্দিরেও তিনি প্রয়াণ করেন নাই তাহার মতে, জগতের ছন্দে ছন্দে সুর মিলাইয়া মানবাত্মা তীর্থযাত্রীর মত স্্দূর লক্ষ্যের দিকে কেবলই অগ্রসর হইবে, ইহাতেই মুক্তি তৃপ্তি। তীর্ঘযাত্রীর পক্ষে পথের মুল্য নাই; যাত্রারই মূল্য আছে, অথচ পথ ধরিয়াই তাহাকে চলিতে হয়। চলার পথে অগ্রসর হইতে হইলে পশ্চাতের পথের প্রেমে আবদ্ধ হইয়া থাকিলে চলিবে না জীবনের বস্তু অভিজ্ঞতা এইভাবেই অপরিহার্য অথচ উপেক্ষণীয় |

২০ কবিগুরু

এই জন্য বরবীন্দ্রনাথের দেবতা নটরাজ, কারণ নৃত্যেই ছন্দোময় সত্তার প্রকাশ শিশু ভোলানাথ নৃত্য-পাগল, বস্তুর প্রতি আসক্তিহীন, এই জন্য সে কবির আদরশস্থানীয় এই নৃত্যের স্পন্দন, মুক্তির সাধন বিশ্বের সব্বত্র,_ প্রকৃতির কন্দরে, নদীর প্রবাহে, আকাশে বাতাসে, পত্রে পু্পে, গ্রহে নক্ষত্রে, অণুতে রেণুতে এই নৃত্যচ্ছন্দে প্রাণ জাগ্রত হইলে সব বন্ধন হইতে মুক্তি হয়। নতুবা প্রেমও নিগড় হইয়া দাড়ায়

এইভাবে রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় সাধনাকে জীবনে জগতে সার্থক পুর্ণ করার পথ নির্দেশ করিয়াছেন এই পথে চলিলে আমরা যাহা পাইব, তাহা৷ ব্রঙ্গানির্ববাণ নহে, স্পন্দনময় ব্রন্মানম্দ। এই আনন্দ তিনি মূর্ত করিয়া তুলিয়াছিলেন শুধু কাব্যে নয়, জীবনেও-_বিশেষ করিয়া সেই মুহূর্তগুলিতে যাহার পরিচয় পাওয়া যায় রবীন্দ্র-সঙ্গীতে

এই রবীন্দ্রসঙ্গীত ভারতের সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অপূর্ব স্ষ্টি। যে স্বরলোকে রবীন্দ্রনাথ বাস করিতেন, তাহার প্রত্যক্ষ পরিচয় পাওয়া যায় এই সঙ্গীতে “সবরের গুরু, দাও গো সবরের দীক্ষা” ইহাই ছিল জীবনদেবতার নিকট তাহার প্রার্থনা! এই স্ুরলোক *[১8/2,0199” নয়, গোলোক বা শিবলোকও নয় ; ইহা রবীন্দ্রনাথেরই স্ষ্টি, অতি সুক্ষ সৌন্দর্য্যান্ুভূতি মানবাত্মার উচ্চতম প্রবৃত্তি ইহার উপাদান ইহার রূপ রস অপুবর্ব। রবীন্দ্রসজগীতের মুচ্ছনা এই স্বরলোকের আভাস আমাদের মনে আনিয়া দেয়, বস্তময় জগৎ হইতে উদ্ধারের মন্ত্র আমাদের কানে কানে গুঞ্তরণ করেঃ 20 6809 101 (09 11020169+ জীবনযাপনের প্রেরণা দেয় অসীমের স্বরে জ্লীবনতন্ত্রী বাঁধিয়া দেয় | ইহার বঙ্কারে অকস্মাৎ আমাদের বক্ষমাঝে চিত্র আত্মহারা হয়। ইহাই হয়ত রবীন্দ্র-প্রতিভার শ্রেষ্ঠ অবদান |

কবিগুরু ২৯

ঠী

রবীন্দ্রনাথকে একটা নবধন্মের প্রচারক বলিলে হয়ত অনেকেই আপত্তি করিবেন যে অর্থে আমরা হিন্দু, মুসলমান, খুষ্টায় মতবাদ অন্নুশাসনকে ধর্ম বলির! থাকি, সে অর্থে রবীন্দ্রনাথ কোন ধর্মের প্রচার অবশ্য করেন নাই রবীন্দ্রনাথ নিজে কখনও ধর্মগুরু বলিয়। আত্মপ্রচার করেন নাই

তত্রাচ রবীন্দ্রনাথের স্থ্টি, ভাবনা প্রেরণা একটা নবজীবনের বাণী মুক্তিসাধনার আদর্শ আধুনিক জগতে উপস্থাপন করিয়াছে, অনির্বচনীয়ের স্পর্শ লাভ করিবার সন্ধান দিয়াছে! সেই হিসাবে তিনি একটা অভিনব ধর্ম্মের, অন্ততঃ পন্থার প্রবর্তক বলা যাইতে পারে

এই নবধর্ম্মের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে প্রথমতঃ, ইহা আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টির সহিত সঙ্গত অ-লৌকিক উপলব্ধির সহিত ইহার সংশ্রব নাই, কোন তন্ত্রমনত্র আচার-অন্ুষ্ঠান বা গুঢ় প্রক্রিয়ার উপর ইহার বিশ্বাস নাই | পারত্রিক মতবাদ, তাত্বিক গৌড়ামি, আপ্তবাক্য ইত্যাদিতে ইহার প্রত্যয় নাই দ্বিতীয়তঃ, বাস্তব জগৎ সাংসারিক সত্যের প্রতি ইহার ওদাসীন্য নাই, বরং সামশ্রিক- ভাবে মানবিক বৃত্তি ক্ষমতার বিকাশ এবং জীবন-সাধনাই ইহার স্ত্র তৃতীয়ত, সুস্থ মানবের সহজ সংস্কারে যাহা স্বাভাবিক, সুন্দর মহৎ বলিয়া প্রতীত হয়, তাহার দ্বারাই ইহা জীবনের মুল্যায়ন করে ; ** বহুমুখী মানবপ্রীতিই ইহার ভিত্তি |

সমস্তই বিধৃত রহিয়াছে এক মহান্‌ আস্তিক্য উপলন্ধিতে | অনুভবের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী, বিশ্বনিয়ন্তা, আনন্দস্বরূপ এক বিরাট সত্তার স্পর্শলাভ করাই এই' ধর্ম্মের লক্ষ্য, সেই পরমপুরুষের কাছে

* এজন্য কেহ কেহ্‌ রবীন্দ্রনাথকে ৬£০০০522, বলিয়া কটাক্ষ করিয়াছেন

কবিগুরু

আত্মনিবেদনই পরমার্থ সঙ্গীত, প্রেম, ত্যাগ পৌরুষের সাধনা সেই' পরমার্থলাভের উপায়ন্বরূপ

(৮)

“লিপিকা*য় একটা কথিকা আছে। এক ফালি সরু, বাঁকা গলি, _ জঞ্জালে আলো-আজধারিতে পূর্ণ-_তাহার মাঝে এক ঝলক স্থর্য্যা- লোক হঠাৎ কখন আসিয়া পড়ে, গ্রলির মনে একটা সন্দেহ জাগে হয়ত বা আরও কিছু আছে, হয়ত অন্য রকমের একটা অক্তিত্বও সম্ভব। আধুনিক জগতে রবীন্দ্রকাব্য সেই রকম একটা বিস্ময় পুলকিত সন্দেহ জাগায় আজকাল জগতে নানাভাবে পু পুগ্ত জণ্ডাল জমিয়া উঠিতেছে ; সত্যের সন্ধানের পরিবর্তে স্থলতন্থ বস্তুর লালসাই জীবনে প্রবল হইয়াছে, দর্শন হইয়াছে জড়বাদী, মানুষে মান্বষে মিলনের স্থলে দ্বন্ব সংগ্রামেই ক্ষমতা ব্যয়িত হইতেছে, আম্ুরী সম্পদই হইয়াছে একমাত্র লক্ষ্য, মানুষ হইয়াছে বস্ত্রজগতের কৃমিকীট, লোকে “অনেক- চিত্ত-বিভ্রান্তা মোহজাল-সমাবৃতাঃ প্রসক্তাঃ কামভোগেষু” হইয়া পড়িয়াছে ; এমন কি

“অসত্যমপ্রতিষ্ঠন্তে জগদাহ্‌রনীশ্বরম্‌

অপরস্পরসম্ভৃতং কিমন্যৎ কামহেতুকম্‌ 1 এখন জীবনে “নাই সুরঃ নাই' ছন্দ”ঃ শুধু আছে “অর্থহীন, নিরানন্দ জড়ের নর্তন।” ফলে মানবজীবন “7১৮০ 1,97)0” অর্থাৎ উর মরুভূমিতে পরিণত হইয়াছে ইহার মাঝখানে রবীন্দ্রকাবা বাজাইতেছে একটা সুন্দরের স্বর, “জটিল সে ঝঞ্চনায়-বাধিয়। তুলিতে চায়__ সৌন্দর্যের সরল সঙ্গীতে ।” পৃথিবীতে মানবজীবনে আজ সৌন্দর্যের স্থান সঙ্কীর্ণ। এমন কি সাহিত্যেও আছে প্রধানতঃ

কবিগুরু ১৩

আধুনিক মনোবিকারের পরিচয়, তাহাতে শাশ্বত মানব-আত্মার তৃপ্তি বা আশ্রয়ের নির্দেশ নাই | জীবনে প্রেম অপেক্ষা উদগ্র কামনা এবং ধন্ম অপেক্ষা 70০9৪ [0116109 108৮ 1[0116108-র প্রভাবই বেশী। এইভাবে “নিখিল করিছে মগ্র_জড়িত মিশ্রিত ভগ্ন গীতহীন কলরব কত” ; রবীন্দ্রনাথের বাণী “পড়িতেছে তারি পর-_ পরিপূর্ণ সুধাস্বর-_পরিশ্ফুট পুষ্পটির মত।” সে বাণী আমাদের অহরহ স্মরণ করাইয়া দিতেছে যে মক্ুষ্যত্ের পরিচয় বিকাশ স্ন্দরের আরাধনা স্স্টিতে ;-স্বন্দরের গ্রীতির জন্যই মানুষ পশু হইতে শ্রেষ্ট সুন্দর-ই মর্তো স্বর্গের প্রকাশ যেমন আলোকের আরাধনায় পঙ্গে কমল ফুটিয়া উঠে, তেমনি সুন্দরের আকর্ষণেই মানুষের মন, হৃদয় আত্মা বিকশিত হয় সুন্দরের আরাধনার মধ্যে পীড়ন বা জ্বালা নাই, সুদ্রুতা বা পঞ্ষিলতা নাই ; আছে সখ, গ্রীতি, স্থির স্সিগ্ধ হদ্য অনুভূতি আনন্দ ইহাতে হয় সত্বগুণের বিকাশ | রবীন্দ্রনাথ এই আনন্দ সৌন্দর্য্যের বাণী নৃতন করিয়া জগৎকে শুনাইয়াছেন | তাহার ধ্যান- দৃষ্টি স্থষ্টিকুশল কল্পনার সাহায্যে তান উপলব্ধি করিয়াছেন ঘে কি ভাবে বর্তমান জগতের দ্বন্ঘ সমস্ত্াঃ বিরাট কর্মমপ্রচেষ্টা বিচিত্র অভিজ্ঞতা সৌন্দর্য্যের অনুভূতিতে রূপায়িত হইতে পারে, মানুষ

ংসারে থাকিয়াও “অমুতস্ত পুত্রাঃ” অভিধার যোগ্য হইতে পারে এবং মর্ত্যজীবনের সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়াই দিব্যজীবন যাপন করিতে পারে “সত্যম্‌ আনন্দরূপমম্ৃতং”_-এই বলিয়া যাহার নির্দেশ করা হয়, তাহারই আভাস তিনি দিয়াছেন এই জন্যই রবীন্দ্রনাথের বাণী পাশ্চাত্য জগতেও এত শ্রদ্ধা অর্জন করিরাছিল, এমন সাড়া জাগাইয়াছিল। এই জন্য রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি নহেল, তিনি জগদ্গুর |

ববান্্রকাব্যের মরমবাণী

সুর্য্যমণ্ডলের স্বরূপ নির্ণয় করার উদ্দেশে দীপ্ত মধ্যাহহূর্ষেটর প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে তাহার প্রদীপ্ত প্রভায় যেভাবে আমাদের চক্ষু ঝলসিয়া যায় এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তিই সাময়িকভাবে যেন অবলুপ্ত হইয়া পড়ে, রবীন্দ্রকাব্যের প্রকৃতি লক্ষণ নিদ্ধারণ করিতে গেলেও আমাদের প্রায় সেই দশাই ঘটে। তীহার কাব্যের এশ্বর্ধ্য এত অধিক এত প্রোজ্জল যে, সমালোচকের বিচারশক্তি সাময়িকভাবে পঙ্গু হইয়া পড়ে, এবং অতিশয়োক্তির আশ্রয় লইয়া নিজের অক্ষমতা গোপন করিতে হয়। তাহার কাব্যে “এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে”, এত বিচিত্র অনুভূতি, ভাব চিন্তার অপরূপ ছটা আছে যে সমা- লোচনার মানদণ্ডে তাহাদের মূল্য নিরূপণ করা, এমন কি তাহাদের প্রকৃতি নিদ্ধারণ করাই ছুরূহ হইয়া পড়ে তথাচ যেভাবে ধুত্র কাচ- খণ্ডের অন্তরাল হইতে দৃষ্টিক্ষেপ করিলে রবিরশ্মির তীক্ষ দীপ্তির প্রভাব এড়াইয়া স্র্যযমণ্ডলের অনেক লক্ষণ গোচর করা যায়, সেইভাবে রবীন্দ্রকাব্যের ভাব চিন্তার সম্পদ এবং তাহার ভাষা ছন্দ প্রভৃতি আঙ্গিকের এশ্বধ্য উপেক্ষা করিয়া যদি তাহার অন্তরের উপলব্ধি তাহার হৃদয়ের স্পন্দন বিশেষ করিয়া লক্ষ্য কর] যায়, তবে রবীন্দ্র- কাব্যের বিশিষ্ট প্রকৃতি লক্ষণগুলি নির্ণয় করা সম্ভব হইতে পারে এবং তাহা কেবলমাত্র আমাদের" মুগ্ধ বিষ্ময়ের উদ্রেক না করিয়া আমাদের বিচারশক্তিকে উদ্ুদ্ধ করিতে পারে, আমাদের রসবোধকে জাগ্রত করিতে পারে, আমাদের সত্যপর্শনের সহায়তা করিতে পারে।

রবীন্দ্রকাব্যের মন্মবাণী ২৫

রবীন্দ্রকাব্যের মধ্যে যাহা “বাহ” তাহা অতিক্রম করিয়। কাব্যের মর্্ম- স্থলে প্রবেশ করিতে না পারিলে আমাদের পক্ষে রবীন্দ্রকাব্যের চষ্চা বহুল পরিমাণে ব্যর্থ হইবে

(২)

রবীন্দ্রকাব্যের মন্্কিথা কি তাহা নির্দেশ করার চেষ্টা অনেকে করিয়াছেন এমন কি রবীন্দ্রনাথ নিজেও বাদ যান নাই কিন্ত সমালোচক রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও ব্বীকার করিতে হইবে যে, কবি রবীন্দ্রনাথকে সমালোচক রবীন্দ্রনাথও সম্পূর্ণ আয়ত্ত করিতে পারেন নাই রবীন্দ্রকাব্যের সমস্ত পবের্বই “সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন স্বর” এই একটি মাত্র মূল স্বর ধ্বনিত হইতেছে, অথবা “বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়” ইহাই রবীন্দ্রকাব্যের মর্ম্মবাণী,_ইত্যাঁক।র উক্তি ভ্রান্ত না হইতে পারে, কিন্তু ইহাতেই রবীন্দ্রকাব্যের বিশিষ্ট তত্টি ধরিতে পারা যায় না। সীমার মাঝে অসীমের সুরের ঝঙ্কার আরও অনেক কবি উপলব্ধি করিয়াছেন, ইংরেজী কাব্যের ইতিহাসে রোম্যান্টিক যুগের অনেক কবিই তো তাহ! করিয়াছেন, কিন্ত তাহাদের কাব্যের মন্ম্মকথা এবং রবীন্দ্রকাব্যের মন্মকথা ঠিক এক বলিয়া আমাদের মনে হয় কি? “বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সেআমার নয়” একথা ব্রাউনিং-এর কাব্যেরও বাণী, তত্রাচ রবীন্দ্রনাথ ব্রাউনিং এই উভয়কে আমরা সহোদর ভাই বলিয়া বিবেচনা করিতে পারে না। স্বৃতরাং “এহ বাহা, আগে কহ আর” এই কথাই বলিতে ইচ্ছা! হয়। রবীন্দ্রকাব্যে ভারতবর্ষের সনাতন সাধনার বাণী ব্যক্ত হইয়াছে, এবম্বিধ মত শুনিলেও অতৃপ্তি জন্মে। যদি ধরিয়াও লওয়া যায় যে, নানা বিরোধী আচার সাধন-

২৬ কবিগুরু

মার্গ ভারতবর্ষে প্রচলিত পরিগৃহীত হওয়া সত্বেও ভারতের সাধনার একটি সনাতন আদর্শ আছে, তবে তাহার বাণী কি বৈরাগ্য সাধনে মুক্তিরই উপদেশ দেয় মা? “উবর্ধশী” “শেষের কবিতা” যদি রবীন্দ্র- নাথের লক্ষণীয় রচনা হয়, তবে তাহার সাঁহত ভারতের সনাতন সাধনার আদর্শের সামপ্ডস্য কোথায়?

(৩)

ছন্দ, ভাষা নানা কবিকল্পনার হ্যায় নানা ভাব চিন্তা কাব্যের বহিরঙ্গ মাত্র কোন কবির ভাব চিন্তা সঙ্কলন করিলেই তাহার যথার্থ পরিচয় পাওয়া যায় না, তাহার কাব্যের যথার্থ রস বা আবেদন কি তাহা ধরিতে পারা যায় না, তাহার কাব্যের মধ্যে উৎকৃষ্ট অপকৃষ্টের পার্থক্য বিচার করা যায় না। কাব্য একটা স্ষ্টি, তাহারও একটা আত্মা আছে; সে আত্মা “ধ্বনি” বা অন্য যাহা কিছু হোক, সেই আত্মার জন্যই কাব্যের মূল্য। কাব্যের সমস্ত উপাদান সেই আত্মার দ্বারাই বিধুত, তাহার সঞ্ভীবনীশক্তির প্রভাবেই ভাষা ইত্যাদি কাব্যের উপাদান অলৌকিক মহিমায় উদ্ভাসিত হয় আবার কবিই কাব্যের জননী, কাব্যের আত্মা কবির আত্মা হইতেই উদ্ভূত, উভয়ের মধ্যে নাড়ীর সংযোগ আছে, কবির অন্তরের স্পন্দনই কাব্যে প্রাণ সঞ্চার করে যেখানে এই আত্মার প্রকাশ আছে সেখানেই কাব্য সার্থক ; যেখানে এই স্পন্দনের অভাব বা যেখানে এই স্পন্দন ক্ষীণ, সেখানে কাব্য নানালঙ্কৃত সারগর্ভ রচনা হইতে পারে কিন্তু প্রাণহীন নিরর্থক এই জন্য 110011১07-এর 7,06০8-98,6০7৪ সার্থক কবিতা এবং 10.51]3 ০0? 01)8 176 চিন্তিত রচনা হইলেও কাব্য হিসাবে ব্যর্থ আবার কবি 1:927)507-এর যথার্থ পরি৯য় পাইতে

রবীন্দ্রকাব্যের মন্মরবাণী ২৭

হইলে তাহার নৈতিক আদর্শ, তাহার সামাজিক রাস্থীয় লক্ষ্য, তাহার ধর্মমত, এমন কি তাহার কাব্যের দার্শনিক তত্ব দেখিলেই চলিবে না, তাহার কাব্যের প্রাণস্পন্দন কোথায় তাহ! দেখিতে হইবে হয়ত সেই প্রাণের স্ম্পষ্ট পরিচয় আমরা পাইব 07058177669 ০০ অর্থবা 7983, $016 €9৪,:৪ প্রভৃতি স্বল্পপরিসর কবিতায়, চ81709698 বা [9113 05 1115 প্রভৃতি সুদীর্ঘ নানাতত্বময় কাব্যে নয়৷ কবি কাব্যের সত্য পরিচঘ পাইতে হইলে বা৷ রসগ্রহণ করিতে হইলে কাবোর ভাব তত্তের অন্তরে যে প্রাণস্পন্দনটুকক আছে তাহা আমাদের লক্ষ্য করিতে হইবে 1 রবীন্দ্রকাব্যের ত্বরূপ বুঝিতে হইলে এইভাবেই আমাদের অগ্রসর হইতে হইবে

(৪)

এইভাবে যদি আমরা ববীন্দ্রকাব্যের মর্মোদঘাটন করার চেষ্টা করি, তাহা হইলে যাহা পাইব তাহা কোন ধন্মমত নয়। কোন দার্শনিক তত্ব নয়, কোন আদর্শ নয় আমরা পাইব এক অসাধারণ মানব আত্মার নিগুট় সত্য, তাহার হৃদয়ের স্পন্দন। রবীন্দ্রনাথ ঝধি ছিলেন কি না, কোন অপৌরুষেয় সত্য তিনি নিরীক্ষণ প্রচার করিয়াছিলেন কিনা, তিনি হস্তামলকবৎ শ্রহ্মকে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিলেন কি না_-এ সমন্ত তর্কে প্রবৃত্ত হইব না। আমরা তাহার কবি-হ্দয়ের যথার্থ প্রকৃতি প্রবৃত্তি বুঝিবার চেষ্টা করিব তাহার মনোমুকুরে কোন কোন তত্ব প্রতিভাত হইয়াছিল এবং সেই প্রতিভাসের মূল্য কি, তাহার মধ্যে কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা, সমস্ত আলোচনা বর্তমান প্রসঙ্গের মধ্যে আনিব না।

এই প্রসঙ্ে কবি 1'6575890-এর কথা আর একবার উত্থাপন

২৮ কবিগুরু

করিব রবীন্দ্রনাথ '['625012-এর অন্নুরাগী ভক্ত ছিলেন, তাহাব কবিপ্রকৃতির সহিত 1101015)800-এর যথেষ্ট মিল ছিল। আধুনিক যুগের সমালোচকেরা.1[911)580:0-এর কাব্যের মর্মোদ্বাটন করিয়া পাইয়াছেন কোন দাঁশনিক তত্ব বা আদর্শবাদ নহে, পাইয়াছেন এক ভীত নি:সঙ্গ মানবাত্মার আর্ত ক্রন্দন অজানা জগতের গোধুলিময় প্রান্তে দাড়াইয়া কবির চিত্ত শিহরিয়া উঠিয়া অস্ফুটন্বরে বলিতেছে-_ “হারিয়ে গেছি আমি” ; সেই হারিয়ে যাওয়া আত্মার আর্তনাদ শিহরণ-ই '[0107301)-এর কাব্যের মন্ম্রকথা |

রবীন্দ্রনাথের কাব্যের নানা ভাব, চিন্তা, আদর্শ ইত্যাদির মুলে আছে একটা বিশিষ্ট অনুভূতি আকৃতি | তাহার প্রায় সমস্ত কাব্য, মৌলিক লক্ষণীয় গগ্ রচনা, নাটক, এমন কি তাহার চিন্তাধারার মধ্যে ইহা গানের রেশের ন্যায় ঝঙ্কৃত হইতেছে ! ইহাই তাহার গান, তাহার সাহিত্য তাহার চিত্রের ঘুল স্বর | এখানেই রবীন্দ্রপ্রতিভার সত্য সার্থক পরিচয়

(৫)

রবীন্দ্রচিত্তের এই বিশিষ্ট অনুভূতির সন্ধান পাওয়া যায় রবীন্দ্র- সঙ্গীতে | ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে রবীন্দ্রসঙ্গীত যে একটা অভিনব স্বষ্টি, বাঙলার রামপ্রসাদী সঙ্গীত বা কীর্ভনের মত ইহার যে একটা নিজন্ব অতুলনীয় আবেদন আছে তাহা সকলেই জানেন স্বীকার করেন এই সঙ্গীতের মধোই যে রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব প্রতিভার, তাহার রসোপলন্ধির সব্বাপেক্ষা সহজ স্বাভাবিক প্রকাশ তাহা রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলিয়াছেন এবং রবীন্দ্রকাব্যরসিক মাত্রেই স্বীকার করেন। সুতরাং এই রবীন্দ্রঙ্গীতের বিশিষ্ট প্রকৃতি কি তাহা অস্থু-

রবীন্দ্রকাব্যের মর্্মবাণী ২৯ ৮৫

ধাবন করিলে রবীন্দ্রচিত্তের বিশিষ্ট অন্নৃভূতি কি তাহা নির্ণয় করার স্ববিধা হইবে |

সঙগীতকলার দিক্‌ দিয়া রবীন্দ্রসগীতের গঠনকৌশলের মধ্যে কি কি বৈশিষ্ট্য আছে তাহা সঙ্গীতাচার্যযদিগের আলোচ্য বিষয়। মার্গসঙ্গীত- বিশারদগণের মতে রবীন্দ্রস্গীতে মাধুর্য থাকিলেও রাগ-রাগিনীর শুদ্ধ রূপ রক্ষিত হয় নাই তীহার প্রায় সমস্ত সঙ্গীতই মিশ্র-জাতীয় | এই সম্পর্কে বল! যাইতে পারে যে, রবীন্দ্রনাথের শিল্পকল! সর্ববিধ একদেশদশিতার বিরোধী, বৈচিত্র্যের সন্ধানই তাহার ধর্ম, সমন্বয়ই তাহার লক্ষ্য সনাতন রাগ-রাগিনীর মধ্যে একটা স্ুমহৎ অথচ একান্তবর্তী ভাববিলাস আছে, উদ্ধলোকেই তাহার যথার্থ স্থানঃ বাস্তব জীবনের সহিত তাহার সঙ্গতি নাই, রবীন্দ্রপ্রতিভা কখনও তাহাতে সম্পূর্ণ পরিতৃপ্তি লাভ করিতে পারে না এবং সেই পরিসরে আবদ্ধ থাকিতে পারে না। যাহ। হউক এখানে সেই সঙ্গীতের আবেদনই আমাদের বিবেচ্য রবীন্দ্রসঙগীতের রস যখন আমাদের চিত্তে অনুপ্রবিষ্ট হয়, তখন মনে একটা “বেদনাবিধুর” অথচ অভিনব পুলকমিশ্র বেপথুময় ভাবের সঞ্চার হয়। মনের অনাবিষ্কত কোমল পর্দা গুলির উপর অতি স্থক্ম অঙ্গুলিক্ষেপণ করিয়া যেন কোন “অলক্ষ্য স্রন্দরী” আমাদের “হৃদয়গহনের দ্বার” ঈষৎ উন্মোচন করিয়া দেয় সেই রহম্যঘন রসলোক হইতে এক অপাথিব মাধুর্যের আভাস আমাদের চিত্তকে স্পর্শ করিয়া উদ্‌ত্রাস্ত করিয়া তোলে এক বিশ্ৃতপ্রায় বিরহ-বেদনা যেন মনকে আকুল করিয়া তোলে ; বিরহ কাহার জন্ঠা তাহা নির্দেশ করা যায় না, মনে হয় সেই “অজানা” “গানের ওপারে” থাকিয়া বীণা বাজাইতেছে ; এবং “সহসা জগৎ, ছায়াবৎ হয়ে যায় তাহারি চরণের পরশের লালসে”-_ আমাদের প্রাণে

৩০ কবিগুরু

রহিয়৷ যায় শুধু একটা উন্মুখ ব্যাহত “চঞ্চলতা” এবং তাহার ফলে একটা ছন্দের আন্দোলন আবর্তন। একটা অতি-কোমল, স্থুল- হস্তের স্পর্শকাতর, রহস্যোন্ুখ, ছন্দোবিলমিত অধীরতা কম্পিত দীপশিখার মত শিহরণ করিতে করিতে একটা পরিক্ষীয়মাণ মুচ্ছনার মধ্যে বিলীন হইয়া খায়, রাখিয়া যার একটা অতৃপ্ত স্পন্দন যেন প্রণয়োন্মুখ বিরহখিন্ন তরুণীচিত্তের স্বতঃপ্রকাশ |

(৬)

রবীন্দ্রকাব্যের মন্স্থলে প্রবেশ করিলে যে কেন্দ্রীয় উপলন্ধির পরিচয় পাওয়া যায়, তাহ। রবীন্দ্রসঙ্গীতেরই অনুরূপ নানা কবিতায় নানা ভাব আদর্শের সহযোগে ইহা ব্যক্ত হইয়াছে, যথেষ্ট উদ্ধৃতির দ্বারা তাহা পরিস্ফুট করা প্রবন্ধের পরিসরের মধ্যে সম্ভব নহে তবে তাহার শেষ বয়সের একটি লেখা হইতে কয়েকটি পংক্তি এখানে উদ্ধৃত করিতেছি, রবীন্দ্রনাথের কাব্যের মর্মস্থলে ষে অনুভূতি আছে তাহা শুদ্ধরূপে এখানে পরিব্যক্ত হইয়াছে “একদিন নিমফুলের গন্ধ অন্ধকার ঘরে অনির্বচনীয়ের আমন্ত্রণ নিয়ে এসেচে ; মহিষী বিছানা ছেড়ে বাতায়নের কাছে এসে দাড়ালো, মাহষীর সমস্ত দেহ কম্পিত, ঝিল্লী-বঙ্কৃত রাত, কৃষ্ণপক্ষের চাদ দিগন্তে ।” ( শাপমোচন-_ পুনশ্চ ) একটু বিশ্লেষণ করিলে এখানে রবীন্দ্রকাব্যের অনেকগুলি বিশিষ্ট লক্ষণের পরিচয় পাওয়া যাইবে

রবীন্দ্রকাব্যের মন্্বাণী ৩5

(ক) “অনিরর্বচনীয়ের” উপলব্ধি

এই লক্ষণটি রবীন্দ্রসাহিত্যে সকলেই লক্ষ্য করিয়াছেন এবং ইহাকেই সাধারণতঃ “অসীমের স্ুর' ইত্যাদি কথার দ্বারা নির্দেশ করা হয়। কিন্তু শুধু অনিরর্চনীয় বা অসীম ইত্যাদি নেতিবাচক শব্দ দ্বারা ইহার স্বরূপ ঠিক ব্যক্ত করা যায় না “অবাউ মনসোগোচরম্” বলিতে সাধুসন্তরা যাহা বুঝিতেন, সে উপলব্ধি এখানে নাই.

৫010 70098 6178 21)6269৮ 0109576] 108, 019৬9 ০092 1৮9

[10007696196 009 06610 119 6০9০ 99610 [শে 692,8১৮ কথায় ৮০0709৮০011, হাসিকান্নার সীমান। ছাড়াইয়া৷ যে উপলন্ধির আভাস দিয়াছিলেন, তাহাঁও এখানে নাই রবীন্দ্রনাথের কাব্যে যে মুক্তির কথা আছে, সে মুক্তি ভোগেরই উধ্বগে সংস্করণ (8010170)95107) | “যে কিছু আনন্দ আছে দৃশ্যে গদ্ধে গানে” তাহারই। উপর ইহা প্রতিষ্ঠিত ; “এই বস্ধার মৃত্তিকার পাত্রখানি” সেই আনন্দের রসে পরিপূর্ণ সংসারের ক্ষুদ্র বৃহৎ কর্মে সংসারের নানা স্খ-ছুঃখময় অভিজ্ঞতার স্পর্শে সেই আনন্দ বিধৃত এক কথায় বলিতে গেলে, তাহ! বস্তর মধ্যে রসের উপলব্ধি, একপ্রকার 1)181)97 ৪9৪01)9- 6101970. “রসো বৈ সঃ” ব্রহ্ষের এই পরিচয়ের উপরই রবীন্দ্রনাথ বার বার জোর দিয়াছেন, কিস্তু “রস” কথাটি বৈষ্ণব মহাজন অন্যান্য শাস্ত্র কারেরা যে অর্থে গ্রহণ করিয়াছিলেন, রবীন্দ্রনাথ সে অর্থে গ্রহণ করেন নাই বৈষ্ণবদের “শুদ্ধা ভক্তি”র ম্যায় ইহা কোনরাপ “শুদ্ধা” কিংবা নিরপেক্ষ উপলব্ধি নহে ইহার সহিত সাংসারিক বস্তঃ বিষয় ব্যবহারের একাস্ত অত্যন্ত সংযোগ আছে, এবং এই সংযোগই রবীন্দ্রনাথের কাব্য দর্শনের প্রধান তত্ব ইহা সত্যই “দেবতারে প্রিয়” করিতে পারে কিন! তাহা সন্দেহের বিষয় ; তবে ইহ] *প্রিয়েরে

৩২ কবিগুরু

দেবতা” করিয়া তোলে তাহা নিশ্চিত। ইহা দ্বারা ৪1)0৮1790319 ০: 19 ৪/618610 10061 সাধিত হয় অর্থাৎ রসবৃত্তিতেই দৈবীভাবের সঞ্চারণ কর৷ হয়। অতি শৈশবে যখন তিনি “জল পড়ে-_পাতা নড়ে” এই সরল বাক্য দুইটি হইতে কাব্যদীক্ষা পাইয়াছিলেন অথবা খিড়কীর বাগানে নবধারাবর্ষণের দৃশ্য জানালার খড়খড়ির ভিতর দিয়া দেখিয়া! অনির্বচনীয় পুলক অন্নুভব করিয়াছিলেন, সেই সময় হইতে তাহার এই রসোপলব্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। সাধারণ অনুভব অপেক্ষা এই উপলব্ধি বহুগুণে তীব্র, প্রগাঢ়, ব্যাপক মর্মস্পর্শা এই রসান্ৃভৃতির প্রবণতা ছিল বলিয়াই “যা দেখেছি যা পেয়েছি তুলনা তার নাই”, “মধুময় পৃথিবীর ধুলি”__এই স্বীকৃতি তাহার জীবনের শেষকথা |

তবে এই সম্পর্কে একটা কথা প্রণিধানযোগ্য যদিও এই! রসোপলন্ধির সহিত সাংসারিক কর্মময় জীবনের সংযোগ আছে, সে কর্মের পরিধিতে এই উপলব্ধি সীমায়িত নহে “অজজ্ম সহত্রবিধ চরিতার্থতা”র কথা রবান্দ্রকাব্যে সাংসারিক জীবনের আদর্শ হিসাবে স্থান পাইয়াছে বটে, কিন্তু যে বিশিষ্ট অনুভূতির স্পন্দন রবীন্দ্রকাব্যের মন্মস্থিলে আমরা পাই* তাহার উৎস বাস্তব জীবনের বিস্তৃতির মধ্যে নহে, ভাবের গোপন নিবিড়তার মধ্যে রোম্যান্টিকভার উচ্চতম পর্দাতেই রবীন্দ্রকাব্যের সুর বাধা ভাবাবেশেই তাহার চরিতার্থতা। «মোর কিছু ধন আছে সংসারে, বাকি সব ধন স্বপনে, _নিভূভ স্বপনে,” ইহাই কবির স্বীকৃতি রবীন্দ্রনাথের কাব্য নাটকে যে যে চরিত্রের মধ্যে কবির বিশিষ্ট মনোবৃত্তি প্রকাশ পাইয়াছে, তাহারা সংসারে থাকিয়াও সংসার-বিমুখ ; “ছুয়ে থেকে ছলে শিশির খেমন শিরীষ ফুলের অলকে” সেইভাবেই তাহারা জীবনযাপন করিতে চায়

রবীন্দ্রকাব্যের মন্ম্বাণী ৩৩

সংসারে তাহার! রসোপলব্ধির স্বযোগই খু'জিয়া থাকে, “কর্ম্মবন্যার উচ্ছলিত তত” বা “মহাবিশ্ব-জীবনের তরঙ্গ” হইতে একান্তে থাকিয়। “চক্ষে স্বপ্াবেশ” লইয়া বাশি বাজাইতে বাজাইতে সংসার- সীমা ছাড়াইয়া “রসলোকের একান্ত সুদূরে” চলিয়া যাইবার দিকেই তাহাদের প্রবৃত্তি “মালঞ্চের মালাকর”* “ব্রজের রাখাল বালক”, ঠাকুরদা, বাউল, পঞ্চক, “ডাকঘরে*র অমল প্রভৃতি চরিত্রেই রবীন্দ্র- কাব্যের মর্ম্মবাণী ফুটিয়া উঠিয়াছে। এমন কি “যোগাযোগের হ্যায় বাস্তবধন্মী উপন্যাসের নায়িকা কুমুও সাংসারিক গ্রানির মধ্যে গীতবা্ভের রসেই শাস্তি জীবনের সার্থকতার সন্ধান পাইয়াছে |

এই: “একান্ত স্তর” সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের ধারণা স্স্পষ্ট নহে এবং হইতেও পারে না, কারণ ইহা অনির্বরচনীয়। ইহার কয়েকটি লক্ষণ রবীন্দ্রনাথের চিত্তে প্রতিভাত হইয়াছিল

প্রথমতঃ, ইহা রহস্যময়, ইহার নিদিষ্ট রূপ নাই, ইহার ব্বরূপ নির্ণয় করা যায় না।

দ্বিতীয়তঃ, ইহার মধ্যে একটা! ব্যক্তিত্ব, একটা ইচ্ছাশক্তির ক্রিয়া দেখিতে পাওয়া যায় ইহাকে জীবনদেবতা৷ বা এবংবিধ নামে অভিহিত করা যাইতে পারে কবিকে লইয়া ইহা নানাভাবে লীলা করিয়া থাকে, কখনও বা কঠোর স্বামিনীর মত, কখনও বা প্রণয়ীর মত, কখনও বা সখীর মত ইহা ব্যবহার করে; কিন্তু চিরদিনই ইহা “হাসালো, কীদালো, চিরদিন দিল ফাঁকি”। ইহার সম্বন্ধে কোন সুস্পষ্ট দার্শনিক প্রত্যয় বা প্রাচীন যুগের সাধকদের ন্যায় কোন প্রত্যক্ষ দৃষ্টি কবির নাই এই *ক্কীকিই” রবীন্দ্রনাথের সাধনার শেষ কথা যে জিজ্ঞাসা ভাহার অন্তরে জাগ্রত হইয়াছিল শেষ পর্য্যস্ত তাহার “মেলেনি উত্তর”,

ঘ-_-৩

৩৪ কবিগুরু

অন্ত রহস্য তাহার কাছে কখনই হস্তামলকবৎ হয় নাই অনিশ্চয়ের দোছুল স্থত্র অবলম্বন করিয়া তাহার ভাবাবেগ উচ্ছৃসিত হইয়াছে

তৃতীয়ত, এই অনির্ধচনীয়ের প্রকাশ সুন্দরের মধ্যে; সে সৌন্দর্য্য বিশ্বপ্রকৃতির প্রায় সব্ধবত্র-_তাহার রুদ্র কান্ত, স্তব্ধ উদ্দাম সমস্ত রূপে এবং মানবচরিত্রের স্ুকুমারবৃত্তির মধ্যে প্রকাশিত। এই সৌন্দর্য্যের কয়েকটি লক্ষণ হইল সৌষম্য, সামঞ্জস্, সমন্বয় এবং তাহার সহিত কমনীয়তা রমণীর রূপ প্রকৃতি সেই অনস্ত রহস্যময় সৌন্দর্য্যের মূর্ত প্রকাশ প্রতীক ; “রমণীরূপে আপন মাধুরী আপনি বিশ্বের নাথ করিছেন চুরি”, “রমণী ক্ষণকাল” আমাদের পাশে আসিয়া সেই প্রহস্ত-আ সে” চিত্ত ভরিয়া দেয়। এইজন্য রবীন্দ্রকাব্যে শুধু স্বর্গের “অনম্তযৌবনা উব্বশী” নহে, পৃথিবীর প্রতিবেশিনী “পঞ্চদশী” কিশোরীও অনির্বচনীয়ের আত্বাদ আনিয়া দিয়াছে এইজন্য “নরনারী-মিলন মেলায়” যে প্রেমের মাল্য গ্রথিত হয়ঃ রবীন্দ্র- সাহিত্যে তাহার বিশেষ একটা মূল্য আছে, এই বরমাল্য বধুর জন্য রচিত হইলেও তাহা জীবনদেবতারই কণ্ঠে অপিত হয়। প্রেমই বন্তিকাহস্তে আমাদিগকে সসীম হইতে অসীমের “নিশীথ-অন্ধকার” পথে লইয়া যায়। কিন্তু এই প্রসঙ্গে একটা কথা আমাদের স্মরণ রাখিতে হইবে যে, ব্রবীন্দ্রকাব্যের প্রেম ধরাছোয়ার প্রেম নহে, তাহা একটা চিরন্তন মানসিক অভিসার; তাহার “একটুকু ছোঁওয়া”' আমাদের মনে “ফাল্ভনীর” মাধুর্য স্থপতি করে, অনন্তের আভাস আমাদের মনে আনিয়া দেয় এই ম্বপন-বিহারী প্রেমেরই জয়গান রবীজ্দকাঁব্যে ধ্বনিত হইয়াছে

রবীন্দ্রনাথ অধীম অনির্বচনীয়ের প্রকাশ কেবল যে প্রকাতির জীবনের নান! সৌন্দর্য্যের মধ্যে লক্ষ্য করিয়াছেন তাহা নহে, মানব-

রবীন্দ্রকাব্যের মন্মবাণী ৩৫

চরিত্রে পৌরুষের লীলার মধ্যেও তাহা প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। মানুষ যখন কর্তব্যের আহ্বানে, মহত্বের প্রতি একান্তিক নিষ্ঠায় “বজ্রাদপি কঠোর” হয়, লাভালাভ (উপেক্ষাপুর্র্বক সক্কোচের বিহবলতা সঙ্কটের ভয় দমন করিয়া ছুদ্দিনের বারিধারার মধ্যে অবিচলিতচিত্তে অগ্রসর হয়