পথে প্রান্তরে

বিদ্বোদয় লাইব্রেরী প্রাইভেট লিমিটেড ৭২ মহাত্মা! গান্ধী রোড : কলিকাতা

প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ১৯৫৮

প্রচ্ছদ জ্রীনীলরতন চটোপাধ্যায়

ীষনোমোহন মুখোপাধ্যায় কত্তৃফ্ি বিদ্যোদয় লাইজেরী প্রাইভেট লিষিটেতের পক্ষ হইতে প্রকাশিত এবং এ্অনৃতলাল কুণু কর্তৃক, জালোদয বোস (১৭, হায়াৎ খা! লেন, কলিকাতা ») হইতে যুজিত

তারপর !

অসমাপ্ত কাহিনীর যবনিক! টানতে অনেক অনাহুত স্মৃতি বিশেষ- ভাবে মনের কোণায় উকি দ্রিতে আরম্ভ করেছে। কার কথা বাদ দিয়ে কার কথা বলব। কাউকে বাদ দিতে গেলে তার উপর অবিচার কর! হবে, আবার অবিচার করা হবে নিজের উপর কাহিনী কাহিনী- কার, উভয়েই বঞ্চিত হবে।

দুনিয়াটা আসা-যাওয়ার পথ। পরিচিতি অনেকের সাথে ; কেউ ছায়া, কেউ কায়া। যারা কায়া তাদের প্রভাব অনস্বীকার্য, আর যারা ছায়া তারাও স্তিমিত-স্মৃতির গহ্বর থেকে অবচেতন মনকে পাথেয় সংগ্রহের পথ দ্রেখায়। বিশিষ্টতা হয়ত তাদের নেই, গৌরব করবার মতো বস্ত্র তাদের হয়ত ধরা-্োয়ার বাইরে, তবুও তাদের বাদ দিয়ে মানুষের জীবন অচল হয়ে ওঠে সময় সময়। সহসা সামান্তের সঙ্গে সামান্য সৌন্ৃগও সংশয়াকুল সংসারে স্থায়িত্ব এনে দেয় অপরিমেয়। সেই অপরিমিত লাভের মূল্য নিরূপণ অসম্ভব !

পাঁতুর মা আমাদের কেউ নয়; যে নয় সে যে হয় না, একথা বল। ঠিক হবে কি ! কেউ না হয়েও সে আমাদের অনেক কিছু পারিবারিক জীবনে সে অনেকটা৷ স্থান অধিকার করে রেখেছিল অনেক দিন, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব আজও অনুভব করি, অনুভূতির মাঝ দিয়ে বিশ্লেষণ করবার চেষ্টা করি। যে কেউ ন! হয়েও স্মেহের ভাগার উজাড় করে

| শখে প্রান্তরে দিয়েছিল, ঘার মমতার আঙিনায় পিছলে পড়তাম অনবরত, সেই অনাত্বীয়! রমণীর কাহিনী না বললে কাহিনী হয়ত অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ছোটবেলায় এতই স্নেহ পেয়েছি তার কাছে, যার পরিমাপ করবার সামর্থ্য আজ পরিণত বয়সেও সম্ভব নয়। .

হয়ত জামবাটি ভরি চিড়ে-ছুধ-কলা মেখে খেতে দিল। সামান্ত আপত্তি করে বললাম, অত খেতে পারৰ না মামীমা |

মুখের কথা কেড়ে নিয়ে পাতুর ম! সাথে সাথে বলত, খুব পারবি, খুব পারবি

খিদে নেই যে।

খা-খা, খুব খিদে আছে আগের দিনে বামুনের মুখ দিয়ে আগুন বের হত, কঙ্গির বামুন তোরা) তোদের পেটের আগুনও নিভে গেছে দেখছি। নে, খা।

আমার পেট, আমি জানিনে_ বলেই অনুযোগকে হাসি দিয়ে শুধরে নিলাম।

মামীমাও হাসির বদলে হাসি দিয়ে বলল,'তা বটে। তোর ক্ষিদের কথা তুই তো বেশী জানবি। তবে, আমি তো তোর পেটে হইনি, তুই আমার পেটে হয়েছিস, বুঝলি

যুক্তির অসারত। বুঝাবার ক্ষমতা যেমন সেদিন ছিল না, তেমন তাকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলবার সাহসও ছিল না। হয়ত অক্ষুধায় গুরুভোজন হয়ে যেত, তবুও রাগ করতে পারতাম না। মামীমার হুকুম তামিল করতে দশট! অসুরের বল সংগ্রহ হয়ে যেত। তবুও মামীমাকে অথুশী করবার সাহস পাইনি

আমাদের বিস্তিদিদি এসেছে। বিস্তিদিদির নাম শুনেছি, চোখে দেখিনি কখনো

শুনেছিলাম আমার যখন তিন বৎসর বয়স তখন বিস্ভতিদিদির বিয়ে হয়েছিল। বছর ন৷ ঘুরতেই বিস্তিদিদির কপাল পুড়ল। সেই থেকে বিস্তিদিদি জ্যাঠামশায়ের কাছে থাকে আমাদের বাড়ি থেকে ভাদের বাড়ি ছুদিলের পথ তাদের সাথে দেখাশোনা করবার

দ্বিতীন্ন পর্ব সুযোগ হয়নি পর্যস্ত। এই চৌদ্দ বছর বয়সে বিস্তিদিদিকে প্রথম দেখলাম যাকে বলে ভাকসাইটে সুন্দরী, গৌরবরনে লালের প্রলেপ, টানা-টানা চোখ, স্বাস্থ্যের লালিত্য উপচে পড়ছে তার সারা শরীর বেয়ে। তাকিয়ে দেখবার মতে। তার রূপ। সে বয়সে অমন সুন্দর কাউকে দেখেছি বলে স্মরণ হয় না।

বিস্তিদিদি এসেছে চিকিৎসা করাতে কি রোগ নাম জানি না। পুরুষ ডাক্তারের সাথে আমাদের প্রভামাসী আসে অনেক কথা হয়, নানাগন্ধের ওষুধ দেয়, আমি গিয়ে ওষুধ নিয়ে আসি ডাক্তারখান৷ থেকে বিস্তিদিদি খায়-দায় গল্প করে, াতে পোড়া তামাকের গুল দিয়ে ফচাৎ-ফচাৎ করে স্থানে-অস্থানে থুথু ফেলে ম্বর-জারি নেই, সবল মানুষ--তার আবার ডাক্তার দরকার হয় কেন 1--ভেবেই পেতাম না।

হঠাৎ একদিন পাতুর মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ই! মামীম! আমাদের বিস্তিদির কি হয়েছে? অত ডাক্তার আসে তবু কখনে৷ শুয়েও থাকে না, জ্বরও হয় না।

মামীমা আমার মুখের দিকে অনিমেষভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল। তার সেই অস্তরভেদী দৃষ্টির কথা আজও আমার মনে পড়ে। মামীমা বোধ হয় দেখে নিল, আমার কিশোরস্থলভ জানার ইচ্ছার বাইরে অন্য কিছু আছে কি না। আমি ভয়ে ঘাবড়ে গেলাম। মামীমা তার স্বভাবকোমল কণ্ঠে বলল, কানু, ওকথা জেনে তোর দরকার নেই, যখন বড় হবি তখন আপন! থেকেই জানতে পারবি

তার দৃষ্টিটাই আমার পক্ষে যথেষ্ট, এরপর জিজ্ঞাসী' করবার ক্ষমতা আমার ছিল না। তার শালীনতাবোধ যে কত বক্স তা আজকে বুঝছি, অথচ সেদিন আমাকে সুস্থতার মাঝ দিয়ে হুর্মদ করে তোলবার চেষ্টাও তার কম ছিল না। |

পৃূজাটা সবে পেরিয়েছে, ছ-একদিনের মধ্যেই লক্ষ্মীপুজ।। বস্ঠীর দিন থেকে লক্ষ্মীপূজার পরদিন পর্যস্ত মামীমার আমি স্থায়ী অতিথি। ভালমন্দ আমার উদরে প্রবেশ না করিয়ে সে শাস্তি পায় না। এই শিশুসেবায় তার কি যে পরিতৃপ্তি, সে হয়ত নিজেই বলতে পারত না।

| পথে প্রান্তরে

হুপুরলবেলায় নদীর কিনারায় বন্ধুবান্ধব মিলে গাছতলায় তাস খেলছি। নতুন ত্রীজখেলা শিখেছি, তাই .উতসাহ অত্যধিক বেশী। স্থবিধেমতো পেটকৌচড়ে এক প্যাকেট তাস নিয়েই ঘুরতাম ফিরতাম। স্থান-অস্থান কিছু নেই, নিরিবিলি হলেই হল। সেদিনও জটলা বসিয়েছি। এমন সময় মামীমার রাখাল হস্তদস্ত হয়ে ছুটে এসে বলল, চলেন গো বাবুর বেটা, দ্যাব-গির্নি ডাকিচ্ছে।

তাসের আসর জমজমাট। এমন সময় বাধ! পড়ল সহ হচ্ছিল না, মুধীর তো রেগেই উঠল তাদের থামিয়ে বললাম, কেন রে £

সংক্ষেপে সে উত্তর দিল, তা জা'ন্‌ না। তার উত্তর দান প্রস্থান একই সময় ঘটায় নেহাত অনিচ্ছায় মামীমার ছুয়ারে হাজিরা দিতে হল।

মামীমা আমার আগমন প্রত্যাশায় বসেছিল। উৎফুল্ল হয়ে বলল, তোর জন্যই বসে আছি।

কেন মামীমা ?

লক্ষ্মীপূজ৷ এসে গেছে, জানিস তো

তাই বামুন ভোজনের নেমতন্ন দিচ্ছ বুঝি! জান মামীমা, পেটে তিল থাকলে পেটুক হয়, আমার পেটে ছুটে মস্ত বড় তিল রয়েছে।

বুঝেছি পেটুকরাম, কিন্তু পুজার যোগাড় করেছিস কিছু ?

কি আনতে হবে বল, এখুনি তোমার বাজার করে দিচ্ছি। এত ভাবন! কিসের ?

বাজার তোর মামাই করতে পারে, ষে কাজ সে পারে না জেইটে তোকে করতে হবে।

মাম! পারে না এমন কাজ দুনিয়ায় আছে বলে তো শুনিনি। সারা ছুনিয়া ঘুরে মাম! পয়স! রোজগার করে, আর লক্ষ্মীপূজার যোগাড় করতে পারে না, কেমন কথা তবুও বললাম, আমার সাধ্যমতো! হলে করব বইকি |

আমার একটা মানসিক আছে। সে মানসিকের জিনিস যোগাড় হয়নি। দশগণ্ড। পদ্ম দিয়ে লক্ষ্মীর পূজা! করব বলে মানসিক করে- ছিলাম, তুই যদি চৌধুরীর বিল থেকে পদ্মফুল তুলে আনতে পারিস

দ্বিতীয় পর্য তা হলে মানসিক পুরণ হত। পারবি যেতে, সোনা ছেলে আমার, যাবি চৌধুরীর বিলে ?

সে যে অনেক দূর মামীমা। শহর ছেড়ে এক-দেড় মাইল যেতে হবে যে।

তুই কেমন ছেলেরে ? চৌদ্দ-পনর বছরের জোয়ান মদ্দ, এককোশ আধকোশ পথ আবার পথ না কি, ওতো নস্তি। পায়ে ব্যথা হবে বুঝি, বেশ, গরম তেল পায়ে মালিশ করে দেব, কেমন ?

মামীমা হাসল

মামীমার সেই হাসিতে শ্লেষ ছিল কি না স্মরণ করতে পারছি না” কিন্তু তার ক্ষুর দীপ্তিতে আমার সুপ্ত পৌরুষ যেন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল কিশোর বয়দের সেই জাগ্রত যৌবনের সন্ধিক্ষণে চৌধুরীবিলের পল্প তো! কোন ছার, আরও কিছু প্রয়োজন হলে সংগ্রহ করতে পারতাম বললাম, বেশ, তোমার লক্ষ্মীর পায়ে চৌধুরীবিলের পল্ম দেবই দেব।

প1 বাড়াতেই মামীম। হাত চেপে ধরে বলল, নতুন গাইটা৷ হধ দিচ্ছে, একবাটি ছুধ খেয়ে যা, কেমন? অনেকটা পথ যেতে হবে !

চোট করে একবাটি হুধ গলাধঃকরণ করে রওনা হলাম কিভাবে পথ পেরিয়েছি, তার সবটা আজও মনে করতে পারছি না। শহর ছেড়ে নেমে পড়লাম মাঠের রাস্তায়, আল ধরে এগিয়ে চলেছি। যাবার সময় উসমান উকিলের আমবাগানের বেড়া ভেঙে একখান। বাখারি নিলাম পক্সবনে কাদ! বেশী। বাখারি রইল ডাঁঙা থেকে ডগ ভেঙে আনতে বাখারি বললাম বলে সেট বাখারি নয়, মোট লাঠির চেয়ে অনুপাতে কম নয়।

পড়ন্ত বেলায় পদ্মবিলের কাশবন পেরিয়ে দোপায়া রাস্তা বেয়ে এলাম জলের কিনারায় প্সচাকের ব্যাপারীর দল দোপায়া পথ ধরে চাক তুলতে আসে কিনারায় কোনো পয্প নেই, পল্ম তখন অগাধ জলে ভাসছে। কিনারায় ব্যাপারীদের মাটির গামল! বাঁধা ছিল। লাফিয়ে উঠলাম তারই একটায়

এক-ছই-ভিন”_কৌচড় বোঝাই হয়ে গেল পদ্ম ফুলে। ফিয়ে এলাম ডাভীয়। সুর্য তখন পাটে বসেছে। রঙ-বেরঙের ভাঙা-ভাঙ।

চন পথে প্রাস্তিয়ে মেঘে আকাশ তখন ঢাকা অত খেয়াল করবার সময় কোথায়, পক্স তুলে সাফল্যের আনন্দে তখন 'ছুটে চলেছি

পাশের কাশবন নড়ে উঠল।

নড়বার সাথে সাথে শোনা গেল খোত ঘোত শব ফিরে তাকালাম। দেখলাম সপরিবারে শুকরী ধেয়ে আসছে। ভাববার অবসর নেই, আত্মরক্ষার তাগিদ বেশী উসমান উকিলের বেড়া-ভাঙ। লাঠিখানা সম্বল। এই সামান্ত হাতিয়ার দিয়ে বন্ত শুকরীর গতি রোধ করে আত্মরক্ষা! কর। কল্পনাও করা যায় না। আশে পাশে কোনো গাছও নেই। শুকরীর ভাবও “রণং দেহি” আমার মনের অবস্থা বলবার মতে! কোনে! অভিধান তৈরী 'হয়নি। ভয়েই হোক আর ভক্তিতেই হোক, কাশবনের দোপায়। রাস্তায় সটান শুয়ে পড়লাম। জয় বরাহদেব। বরাহযুথ নিঃশব্দে আমার পিঠের উপর দিয়ে পাশের ঝোপে প্রবেশ করল। মিটিমিটি চেয়ে যখন দেখলাম পরাক্রাস্ত অবতার অন্তহিত হয়েছে, পাশের কাশবন অচঞ্চল, তখন লাফিয়ে উঠে দিলাম চৌ-চ। দৌড়। শহরের কিনারায় এসে যেন চেতন! ফিরে পেলাম

মামীমার লক্ষ্মীর পায়ে পঞ্ঘ দিয়েছি সত্যি, কিন্ত সেদিন প্রাণ বাচাবার যে আদিম প্রবৃত্তি জেগে উঠেছিল, সেটা মনে হলে মাঝে সাঝে আজও আতকে উঠি। বাঁচবার এই চেষ্টাই তো সভ্যতার অষ্টা, প্রানী-জগতের স্থিতিকাল-ভোর সমাস্তরাল এর গতি।

শুধু আমি নই, সবাইয়ের আদিম বৃত্তি বাচ! আর স্থৃষ্টি করা। এই ছুইয়ের কোথাও কোনো ফাক নেই। গুহামানবও এমনি ধারা ছিল, আজ সভ্য মানবও এমনি ধারা রয়েছে। রূপের পরিবর্তন ঘটলেও স্ব-বূপের পরিবর্তন সামাহ্যাতম ঘটেনি

জেলখানায় ছিলাম অনেকদিন ছিলাম। পাশের সেলে থাকত মিঃ জন্সন। জন্সন খাস ইংরেজ নয়, তিন-চার পুরুষ ধরে ই-বঙ্। গায়ের রঙ তামাটে, চুলগুলে। কদম্ব ফুলের মতো, নাকের মাথা মোট! ইংরেজ রাজ্যে ওদের কতকগুলে৷ চাকরি ছিল একচেটিয়া! যেহেতু জন্মন এবং যেহেতু সে গ্াংলো-ইগ্ডিয়ান, সেই হেতুই পাঠশালায়

দ্বিতীয় পর্ব নাম লেখা শিখবার সাথে সাথে রেলের চাকরি জুটে গেল। চাকরি খারাপ নয়, মালগাড়ির গার্ড। জন্সনী ভাষায় বলব, 165 12102 00৫ €০01985 (সুন্দর অথচ কষ্টদায়ক )।

জন্সন নিজেকে রয়েল ফ্যামিলির লোক বলে পরিচয় দিত। পরিচয় দেবার সঙ্গে সঙ্গে গর্বে বুকটাও ফুলে উঠত।

যখন সে বিচারাধীন তখন জন্সনের বন্ধুরা ঠাট্টা করত। বলত, বন 79591 [37181775655 রাজপুত্তর ) কিন্ত নারীহস্তা

জন্সন বাংলায় কথা বলে না, বড়জোর চোস্ত হিন্দীতে ছু-চার জবান ঝেড়ে দেয়, নইলে ইংরেজের খাসখামারের বয়ান বলতে তার জুটি নেই।

আমার প্রতিবাসী, তবুও সমবাসী নয়। তাই কথা বলবার দরকার হয়নি কখনো মাঝে মাঝে এসে হছু-একটা সিগারেট চেয়ে নিয়ে ষেত। এইটুকুই আমার সাথে পরিচয়, সিগারেটের ধুয়োর সাথে সে পরিচয় উড়ে যেত। ঘনিষ্ঠত। করবার দরকারও হয়নি। '

একদিন জন্সন আদালতে গিয়ে আর সেলে ফিরে এল না। পরের দিন সকালবেলায় শেঠজি এল ঘর সাফ করতে। জিজ্ঞাস! করলাম, শেঠজি, ওঘরের জন্সন কোথায় গেল।

তার ছকুম হয়ে গেছে হুজুর।

কতদিনের মেয়াদ হল ?

শেঠজি ফালতুদের মেট কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে চেয়ে থেকে বলল, মেয়াদ আর শেষ হবে না হুজুর। খুনী আসামী, সাজা হয়ে গেছে। ফাসির হুকুম হয়ে গেছে।

ফাসি! নির্বাক হয়ে চেয়ে রইলাম। খুনী আসামীর সাথে চাক্ষুষ পরিচয় এই প্রথম। তার চেয়েও অভাবনীয়, তাজ। মানুষটিকে আইনের কঠিন অনুশাসনে মৃত্যুকে অযাচিতভাবে অথচ স্থির নিশ্চয় জেনে বরণ করতে হবে। কল্পনায় তার মৃত্যুকে যেন দেখতে পেয়ে স্তন্তিত হয়ে বসে রইলাম।

অতি মৃছৃকণ্ঠে শেঠজি জিতাস! করল, কি ভাবছেন হুজুর ?

না কিছু নাঁ। আচ্ছ। শেঠজি, তুমি কত বছর জেলে আছ?

পথে প্রানে

জেলে। মনে মনে হিসাব করে বলল, ছাবিবশ বছর হয়ে গেছে হুজুর। শেঠজির সাদ! দাড়ির মাঝ দিয়ে কালো কালো দীতগুলো দেখা গেল। অর্থাৎ শেঠজি হাসল, এর বেশী সে কখনে! হাসে না।

কেন এলে জেলখানায়, তোমার কি কেউ নেই ?

নেই ! আছে হুজুর ঘোল বছর বয়সে কোলকাতায় এসেছিলাম পেটের দায়ে। যে দেখছেন নতুন কয়েদখানা, ওটা তখন তৈরী হচ্ছে। পাড়ারই এক বস্তিতে থাকতাম, রাস্তার গ্যাসের বাতি স্বালাতাম, বেতন পেতাম পাঁচ টাকা তখনকার দিনে পাচ টাক! অনেক টাকা হুজুর তবে বস্তি তো জানেন হুজুর সেখানে মানুষ কখনো মাছুষ থাকতে পারে না।

ত্রিশ জাত, আটত্রিশ মত, বিহান থেকে রাত অবধি ঝগড়া-দাঙ্গ বে-আইনী চোলাই, মিথ্যার বেসাতি, পাপের অন্ধকুঠরি, চোর- বদমীয়েস, সব কিছুর আস্তানা যেখানে সেখানেই গড়ে ওঠে গরীব মানুষের বসতি গরীব ভাল থাকতে চাইলেও নেমে আসতে বাধ্য হয় কাদায়, ধীরে ধীরে তলিয়ে যায় পাপের তলায়, মানুষ আর মানুষ থাকে না হুজুর। এমনি ধারা বন্তিতেই বাস করতাম না করেও উপায় নেই, আমার সামর্থ্য ওর চেয়ে বেশি কিছু দিতে পারে না। তাই নিরুপায় মানুষকে অন্ধকারে নেমে যেতে হয় সবার অজান্তে আমিও নামতে বাধা হয়েছিলাম গরীবী ছুনিয়ার সব চেয়ে বড় অপরাধ।

একদল উড়ে ছিল বনস্তিতেই। সকালে ছুপুরে রাস্তায় জল দিত। রাত তিনটেয় ওর! বের হত হোস্‌ ঘাড়ে করে। “ওরাও বেতন পেত আমার মতোই, অথচ ওদের হাতে পয়সা! থাকত অনেক। প্রায়ই দেখতুম দামী দামী শাড়ি ওরা দেশে পাঠাচ্ছে ধীরে ধীরে ওদের সাথে পরিচয় হল, ওদের সাথে হ্ৃভাত। জন্মাল।

পানিগ্রাহী ওদের সর্দার বে-ই বলল, এসে যাও শেঠ, নামেই শেঠ হলে চলবে না, কাজেও শেঠ হও। সকালবেলায়, বিশেষ করে গুমট রাতের শেষে ঘ্ুমট। যখন গভীর হয়, তখন খোল! জানালার মাঝ দিয়ে ছাত চোকালেই কিছু না কিছু পাওয়। যায়। বুঝলে শেঠ!

স্থিভীক্ পর্ব | রঃ যাদের আছে. তারা তে! দেবে না, তাই নিতে হয়, নিতে জানতে হয়। পাঁচ টাকায় নিজের পেট ভরানই কষ্ট এর উপর ঘর সংসারও রয়েছে।

পানিগ্রাহী হাসত।

কেমন যেন মনে হত হুজুর। ভয় হল। ওদের সাথে সাথ দিতে পারলাম না। এমনি করে ছুটে৷ বছর পেরিয়ে গেল। মাঝে মাঝেই দেখতাম পুলিস হামলা! করছে বস্তিতে, বেধেও নিয়ে যাচ্ছে অনেককে তারপর ক'দিন চুপচাপ

মাস ঘুরতে ন' ঘ্বুরতে কেউ কেউ ফিরে আসত, কেউ আসত ছুমাস ছমাস পরে। জরু-বিবি থেকে যেত কারও মেয়াদ শেষ হলে ফিরে এসে কেউ জরু-বিবি ফিরে পেত, কেউ পেত না। কারও বুক ফাটত, কারও বিকারও হত না। যাদের বুক ফাটত তারা মাথ। ফাটাত, দাঙ্গ। করত, আবার ফিরে যেত কয়েদখানায়। নইলে সেও জোন্টাত নতুন জরু-বিবি।

তবে ওখানে জাতের বালাই নেই। হি'ছুর ঘরে মোছলমান বউ, বাঙালীর ঘরে খোট্ট! মেয়ে সব সময়ই দেখতে পাবেন। এতে কারুরই বলবার কিছু নেই, সবাই ভূলে গেছে তাদের আদি, কখনো চিন্তা করে না তাদের অস্ত, বর্তমানই তাদের সব। গরীবের শ্ত্রীক্ষেত্তর

শেঠজি দম নিয়ে সেলের মেঝেতে চেপে বসল।

দলের তৃমিও সামিল হলে, কেমন?

বস্তিতে বাস করলে এমন ন৷ হয়ে উপায় নেই হুজুর তখন জোয়ানমদ্ধ হয়েছি, মনে মনে ঠিক করেছি মাসে মাসে কিছু জমিয়ে ভূজার দোকান খুলব। জমিয়েও ছিলাম কিছু ঠিক উলটে! দিকের ঘয়টায় থাকত বরকত। চোলাই মদের মামলায় দশমাস মেয়াদ হয়ে 'গেল। ঘরে রইল তার বন্ধ্যা স্ত্রী, বয়স হবে বছর তিরিশ একমাস, হমাস করে ছমাস পেরিয়ে গেল। এতদিন কোনোরকমে সাঙ্গাতদের সাহায্যে সে চালিয়ে নিচ্ছিল

শেষে অচল হয়ে গেল। মাঝে মাঝে নতুন লোককে তার ঘরে দেখতাম। শুনতাম অনেক কথ1। বস্তির জীবনে পুলিস আর

১? পথে প্রা্তর়ে

জরু-বিবি পালান ডালভাতের মতো। পুকুরের জলেও পাথর কুচি ছুড়লে ঢেউ ওঠে এতে কিন্তু বস্তির জীবনে কখনো কোনো ঢেউ ওঠেনি, উঠবেও না।

অনেকট। রাত হয়েছে। কাঠগোলায় রাম-নাম শুনে ফিরেছি। রাস্তায় তেলুরিফুলুরি আর শুকনো৷ চান। খেয়ে রাতের হাঙ্গামা মিটিয়েছি। তিন হাত চওড়া আর ছয় হাত লম্বা! কামরায় সম্পত্তির মধ্যে একখান। ছ্েঁড়। মাহুর আর একট লোটা। সারাদিনের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে অন্ধকারেই গ। এলিয়ে দিতাম, আলো! স্বালান কখনো দরকার হয়নি। পুরাতন অভ্যাস, অভ্যাস নিঃম্বদের স্বভাবজাত।

শেঠজিকে বাধ! দিয়ে বললাম, তুমি এমন সুন্দর কথার বিশ্যাস কি করে শিখলে ?

আবার সেই তুষারধবল দাড়ির মাঝে কালে! কালো দাতগুলে। দেখা গেল।

বলল, আপনাদের মতো কত স্বদেশীবাবুর সেবা করেছি হুজুর, তাদের কাছেই শিখেছি। বাইরের জীবনকে ভোগ করতে চেয়েছি, টাকা চেয়েছি, ভেতরেও শুকনে। থাকিনি কখনো | তবুও কয়েদ- খানার ভেতরে এসে টাকার মোহ কখনো জাগেনি, সব সময় নিজেকে তফাত করে রেখেছি যেটুকু অবসর, কেটেছে আপনাদের সেবা করে। ওহ, বলে শেঠজি দাড়িয়ে পড়ল।

কি হল শেঠজি ?

আপনার ঘড়িটা। ওটা ওখানে রাখবেন হুজুর, চুরি হয়ে যাবে।

জেলখানায় চুরি! বল কি?

জেলখানা তো! কাশী-মক্কা নয় হুজুর, এদেশের রাজাও চোর, প্রজাগ চোর।

হুজুর জেলে কয়েকবার ঘানি টেনে বেড়ালে বুঝতে পারতেন জেলখানার আসল চেহারা! কি! কয়েদীরা গাজা-ভাঙটা করে, বিড়ি টানে। তাদের তো পয়স। কড়ি নেই, তাই ডিবিসানের বাবুদের পেট মারতে হয়। পাকার সেপাইরা আপনার ছুশো টাকার ঘড়ির বদলে ীচ টাকার মাল জোগাবে। জানেন তো! হুজুর, সুপার ছাড়া সব

'ছিতীয় পৰ ১১ লাই সাহুকার। ভাগ-বাটোয়ারা শুনলে আমাদের মতে। পুরান ুদ্ুও থুধু করতে লজ্জা পায়। সে-সব থাক ছজ্জুর, ঘড়িটা সামলে রাখুন আগে।

ঘড়িটা হাতে বাঁধতে হল।

বললাম, তারপর শেঠজি !

তারপর! শেঠজি আবার বসে দম নিল। তারপর! কুলুপ খুলে ঘরে ঢুকে শোবার ব্যবস্থা করছি, এমন সময় মনে হল কে যেন ঘরে ঢুকেছে জিজ্ঞাসা করলাম, কে-রে অন্ধকারে ?

আমি! আমি রতিয়।।

রতিয়! বরকতের ঘরওয়ালী বস্তিতে ওরাই জরু-বিবি, সব কিছু।

তা, এত রাতে কেন?

হুআন! পয়স। দেবে শেঠ, সারাদিন খাওয়। হয়নি |

মনে হল, বলি, দেব না। বলতে পারলাম না। চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম। সে কাছে এসে দাড়াল, বল, বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি ?

সম্তর্পণে অন্ধকারে আমার বাঁ হাতটা চেপে ধরে বলল, এই দেখ, সব হাড্ডি বেরিয়ে পড়েছে।

তার শুকনো কাধে হাতখানা রেখে বলল, দেখলে তো, না খেয়ে খেয়ে এমনি হয়ে গেছি।

এই বোধ হয় প্রথম মেয়েলোকের ছোয়া লাগল, চমকে উঠলাম ; খুন চন-মন করে উঠল, কেমন ষেন পাগল হয়ে উঠলাম তার নিঃশ্বাস এসে গায়ে পড়ছে গরম নিশ্বাসের তাপে সার! দেহটায় আগুন ধরে গেছে। এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিতেই সে হুড়মুড় করে আমার দেহের উপর গড়িয়ে পড়ল। উ* হুজুর আর বলতে পারব ন।

বলতে বলতে শেঠ থমকে গেল। প্রথম জীবনের নগ্ন সত্যটাকে €সে যেন সহা করতে পারছিল না।

রতিয়া থেকে গেল সেই থেকে। ছুআনা পয়স। হুন্কুর ছআনা পয়সায় যাদের পেটের খিদে মেটে, তাদের দেহের খিদে মেটাতে কতক্ষণ রাতের পর রাত অভিসার

১২ পথে প্রার্তিবে

চলঙ্গ এমনিভাবে, আহার্য জুগিয়ে চললাম নির্ধিকার চিত্তে। তারপর গুরু হল বায়না! আজ শাড়ী, কাল চুড়ি, তারপর একদিন রতিয়া বলল, চল শেঠ, অন্য কোথাও আস্তান৷ দেখি, বরকত আসবার সময় হল।

একথা এতদিন মনে হয়নি। বরকত একমাত্র আমার উঠতি জীবনের অংশীদার অংশীদারকে ফাকি না দিলে জীবনের পু'জিপাটি ঘরে ওঠান যায় কি হুজুর। কিন্তু রতিয়ার মূলধন তার দেহ, আর আমার মূল্য পাঁচ টাকা। সব মিলিয়ে কেমন যেন গোলমাল হয়ে গেল।

বাব! আদম থেকে আরম্ভ করে আজ অবধি মানুষ ঘর চেয়েছে ঘর চেয়েছে বলেই অপরের ঘর ভেঙেছে আমিও ঘর ভেঙে ঘর বাধলাম।

বলেছি তো, মূল্য আমার পাঁচ টাকা

আয় বৃদ্ধির রাস্তা নেই। ছুবছর ধরে ভাল হবার সেই যে চেষ্টা, সে চেষ্টা উবে গেল। একদিন, সেই হাতে খড়ি, আজও মনে আছে। সন্ধ্যেবেলায় গ্যাসের আলে! স্বেলে আসছিলাম। দেখলাম পথের মোড়ে পীচ-ছবছরের মেয়ে, গলায় তার সোনার হার। চোখ ছুটো স্বলদ্বল করে উঠল। ভয় আর ভাবনার শেষ নেই। মইটা গ্যাসের পোস্টে লাগিয়ে মেয়েটার সুখ চেপে ধরলাম, মাল। ছিনিয়ে নিলাম | কেউ দেখল না, কেউ শুনল না, অসহায় শিশুর মুখখানাও অন্ধকারে দেখতে পাইনি। তার মুখ দেখলে হয়ত ছিনিয়ে নিতে পারতাম ন1। মইখান। রেখেই পালিয়ে এলাম না ;--শেঠজি থেমে গেল।

তারপর হুজুর, কত লোকের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছি, কত লোক এল আর গেল আমার দলে দল বাঁধতে না পারলে পেট ভরে না, বিপদ- আপদে কেউ দেখে না, তাই লাইনে দল বীধাই বড় কথা আগের দিনের বড়দিনে লাটসাহেব কোলকাতীয় আসত, তাদের সাথে আসত রাজা-মহারাজার দল সেই রাজা-মহারাজাই আমাদের শিকার তাদের ঘরের মেয়েরা চৌরঙ্গীতে আফত বাজার করতে। তাদের হাতের ব্যাগ, গলার মালা, এগুলো ছিনিয়ে নিতাম

জিজ্ঞাসা করলাম, এতে লাভ কি হত শেঠজি ?

তীয় পর্ব ১৩

আমার তে। কেউ নেই হুজুর এক ভাই ছিল, সে দেশে গাঁয়ে রাখালি করত। তার নামে জমি কিনতে লাগলাম। আজ সেই জমির আয় প্রায় পনেরে। হাজার টাকা তার ছেলের! সুখে স্বচ্ছন্দে দিন কাটাচ্ছে কখনো! কখনো দেহ-মনে আলস্ত অনুভব করলে সেখানে গিয়ে ছু-একমাস বিশ্রাম করে আসি।

রতিয়ার কি হল শেঠজি ?

যার দাম ছআনা, সে কি ঘর করতে পারে। প্রথম যেবার জেলে এলাম, সেবারেই সে পালিয়ে বাঁচল। তাকে হারিয়ে মনমর। হয়ে পড়েছিলাম সেদিন মনে হয়েছিল, রতিয়া পালাল, রেখে গেল তার দেওয়া বৃত্তি

বাইরে ঘণ্টা বেজে উঠতেই শেঠজি উঠে গেল। যাবার সময় বলে গেল, ঘড়িটা সামলে রাখবেন হুজুর জেলখানার রাজাও চোর, প্রজাও চোর

নিয়মিত জীবনের বিরাট অধ্যায় গড়িয়ে গড়িয়ে চলছিল ক্যালেগ্ডারের অভাবে দেওয়ালে দাগ কেটে দিনের হিসাব রাখছি। হঠাৎ একদিন ঝড়ের বেগে জন্সন ঘরে এসে ঢুকল উক্ষখুক্ষ চুল, গাল বসে গেছে, চোখ দুটো! যেন ঠিকরে পড়ছে।

জিজ্ঞাসা করলাম, কি হল জন্সন ?

বিজ 11, নতুন জীবন !

কুঁজোটা তুলেই টকটক করে জল খেতে লাগল। অবাক হয়ে 'আবার জিজ্ভ্রাস। করলাম, কি হয়েছে তোমার ?

লাজার দয়! পেয়েছি, [40126 11৮2 £1)2 12154, রাজা বেঁচে 'থাকুক।

সিগারেটের কৌটাট! টেনে নিয়ে একটার পর একট। সিগারেট সে টানতে থাকে

সে বেঁচেছে!

জন্সন রাজার দয়ায় জীবন ফিরে পেয়েছে।

অভিশপ্ত জীবনের এক ্মগ্্যায় শেষ হয়েছে।

রেলের গার্ড জন্সন, রাজার জাত। দে দয়! পেয়ে বাঁচল, বাঁচল না৷ থেরেসা, তারও বাঁচার হচ্ছ। ছিল, চেষ্টা ছিল। সে-চেষ্টা ছিল সাধারণের চেয়েও অনেক বেশী

জন্সনকে বাইরে বাইরে কাজ করতে হয়। চার-ছদিন পর ফিরে আসে ডেরায়। থেরেস! একাই থাকে ঘরে। নতুন বয়স, প্রচুর অবসর, সেই অবসর যাপনের সুযোগ স্থৃষ্টি করতে সে কখনো! কার্পণ্য করেনি। জন্সন অত জানতও না|

হঠাৎ একদিন জঙ্সন ফিরে আসল অসময়ে থেরেসা তখন ফারলোতে বেরিয়েছে, জন্সনের আজ আসবার কথা নয়, তাই সেও নিশ্চিন্তে বয়ক্রেণ্ড নিয়ে নিষিদ্ধ স্থানে নাচের আসর বসিয়েছে

জন্সন ফিরে এসে থেরেসাকে না দেখে খুঁজে হয়বান। অবশেষে নিষিদ্ধ স্থানে তাকে আবিষ্কার করল আবিষ্কার নয়ত কি! তখন থেরেসার বসনভূষণ লজ্জায় মুখ লুকিয়েছে, মুখ দিয়ে আনন্দের ফেনা বেরুচ্ছে, আর বয়ফ্রেণ্ডেরও সমাবস্থা। রাঙা চোখের পাতাও নড়ছে না। মৌতাত মৌজ শালীনতাকে ব্যঙ্গ করে মেঝের কার্পেটে মুখ থুবড়ে পড়েছে

জন্সন রাজার জাত! রাজরক্ত নারীর অবিষৃত্যকারিতায় টগবগ করে উঠল। সইতে পারল না। পেনসিল কাট! ছুরি ছিল পকেটে, সেখানাই কয়েকবার প্রবেশ করিয়ে দিল হৃদয়হীনার হৃদিস্থানে। বয়ফ্রেণ্ডের জ্ঞান অনেকটা ফিরে এসেছে। সে বুঝল, বিপদ সমূহ এবং পলায়ন বিধেয়। চোখের রঙ মনের রঙকে আটকে রাখতে পারল না। সে দিল ঠৌ-চা দৌড়। অবশ্য যাবার বেলায় জন্সনের নেহস্পর্শ না নিয়ে সেও যেতে পারল না।

থেরেসার ম্বতদেহ পড়ে রইল। জন্সন গেল থানায় অন্গু- শোচনায় নয়, বিভৃঙ্জায়।

জন্সন ভালবাসত থেরেসাকে থেরেসাও বোধ হয় ভালবাসত কিন্তু বাস্তব ভোগকে গণ্ডীর মাঝে রাখতে চায়নি, এই তার অপরাধ !

দ্বিতীয় পর্ব ১৫

জন্সন খুনী, সে নারীর উপর পুরুষের অধিকারকে কায়েম করতে চেয়েছিল। নারীকে ঘর দিয়ে ঘরনী করেছি আর দিয়েছি সম্তান, সেই নারী চায় কিন! ভোগের সীমাস্ত দর্শন করতে! জন্সনের ইঙ্গ- রক্তের চেয়ে বঙ্গরক্ত চনচনিয়ে উঠল, নীতি জ্ঞানটা হঠাৎ টনটনিয়ে মাথ। তুলে ফ্ীড়াল। বিচার করবার বয়সও তার নয়, ক্ষমতাও তার নেই। অসহনীয় অপরাধ। উত্তপ্ত মস্তিষের ইঙ্গরক্ত স্থির করল, অপরাধের শাস্তি মৃত্যু

যোগ্য শাস্তি নিয়েই থেরেস' যীশুর রাজ্যে ফিরে গেছে একমাত্র সে-ই বোধ হয় তার স্বামীকে সুযোগ স্থষ্টি করে দিয়ে গেছে রাজার জয়গান, করবার জন্সন গদগদ হয়ে আবার বলল, 1,01£ 11৮6. €0০ 71176.

জিজ্ঞাসা করলাম, এই বাঁচাটাই কি তুমি চেয়েছিলে ?

বাঁচতে চায় না কোন বেকুফ! বাঁচার রাস্তা তো নির্দিষ্ট নেই,, অনিরিষ্ট রাস্তায় মানুষ বাঁচতে চাইলে কত ধাকা৷ সইতে হয়, তা তো বোঝ

তাহলে একরার দিয়েছিলে কেন ?

জন্সন আবেগের সাথে বলল, এক সময় মনে হত থেরেসাকে খুব ভালবাসি। জগতে তাকে যখন সম্পূর্ণভাবে পাইনি' তখন পরজগতে তার পাশে গিয়ে দাড়াতে পারব, এই ছিল ইচ্ছে। তার, পর! বুঝলে মিস্টার, দেখলাম থেরেস! আমার কেউ নয়, আমিও তার কেউ নই। তার মূলধন ছিল তার রঙিন দৃষ্টি, সেই দৃষ্টিতে আমায় ধাধিয়েছিল। আমায় কেন, অনেককেই ধাধিয়েছিল, সে ধাধা কেটে গেছে মিস্টার তার চিহ্ন মনের কোণে কোনো আঁচড় রেখে, যায়নি। সে চেয়েছিল ভোগের পরিপূর্ণতা আনতে, আমিই বা কেন চাইব না, হয়ত পরিণাম সুখের হবে না, তবুও জীবনকে বঞ্চনা করতে পারব না। সুল হয়েছিল মিস্টার

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জন্সন চীৎকার করে উঠল, বত 11 ি৩জ 116.

নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে জন্সন। সে বাঁচতে চেয়েছে, হয়ত.

2৬ পথে প্রান্তরে

বেঁচেছেও। তার বাঁচার দাবি স্বীকৃতি পেয়েছে কি না সে নিজেও হয়ত ত! জানে না।

সেদিন কাশবনে শুয়োরের ধাকক। সামলে ঘরে ফিরে এসে মনে হল, শুয়োরগুলো যে গায়ের উপর দিয়ে দৌড়ে গেল, সে তো বুঝতে পারিনি। ভীতির পরশে দেহের তত্ত কোবগুলোও বুবিবা! অবশ হয়ে পড়েছিল। নইলে জ্ঞান হারিয়েছিলাম ক্ষণেকের জন্যও

মামীমাকে একদিন বললাম ঘটনা মামীম! হাসল কোনো রকম সহানুভূতি তো দেখালই না, একবার আহাও বলল না, বরং হাসল

তুমি হাসলে যে মামীমা ?

ভান্গুকের গল্প পড়িসনি ?

পড়েছি। কেন বল দেখি?

ঘে বন্ধু ব্পদকালে পালিয়ে যায়, সে বন্ধু নয়।

আর নতুন কথা কি, কিন্তু সেদিন আমার কোনো বন্ধুই ছিল না।

ছিলরে ছিল, তুই দেখতে পাসনি।

একটু ভেবে বললাম, ভগবানই সেই অদৃশ্য বন্ধু, কেমন ?

না! ভগবান অনৃশ্ঠ, কিন্ত বন্ধু নয়? বন্ধু তোর মন, যে মন (তোকে বাচতে শিখিয়েছিল।

বাঁচবার মন আর বীচার মতো! সামর্থ্য স্থষ্টিই সব চেয়ে বড় বন্ধু।

অখ্যাত পল্লীর অশিক্ষিত মহিলার কথ শুনে অবাক হয়ে গিয়ে- ছিলাম সেদিন। আজ সেই শিক্ষাটাকে অস্বীকার করতে পারছি না নিজের বাস্তব জীবনের সাথে সঙ্গতি রেখে মামীমা যা বলত, তাতে অহমিক! জেগে উঠত, দুর্দান্ত হয়ে উঠত দেহ, দুর্মদ হয়ে উঠত মন।

শেঠজিও বীচতে চেয়েছে, জনসনও বাচতে চেয়েছে।

সবাই বেঁচেছে। বাচার মতে বাচতে হয়ত কেউ পারেনি, হয়ত “বাচার মভে। বাঁচতে চেয়ে নিদ্ধেকে অণু অধু করে লয় করে দিয়েছে।

ভ্বিতীয় পর্য ১৭

অদৃশ্য বন্ধু তাদের পথ দেখাতে পারেনি। যে পথে তারা পা দিয়েছে, সেপথে মরণকে আপন করে বাঁচাকে ব্যঙ্গ করা ভিন্ন অন্ত কোনো বৃত্তি নেই।

জেলখানার একঘেয়ে জীবনে এই হল নতুনত্ব, এই হল নব শিক্ষায়তনের নব শিক্ষা

কত বাকি রয়ে গেছে জানবার জানবার প্রয়োজন শেষ হয়নি, জানবার পথ বন্ধ নেই, তবুও জানবার কত বাকি !

লঙ্গর থেকে খাবার দিয়ে যেত তরিবত মিঞা

সবাই বলত মিঞাঠাকুর।

মিঞাঠাকুর সাক্ষাৎ ভ্রৌপদী। বড় বড় ডেকচিতে যখন নৌকার বৈঠার মতো হাতা খস্তি নাডত, তখন মনে হত দ্রৌপদীর নব পুং- সংস্করণ না হয়েই যায় না।

এক গামল। হলদে রঙের জলে হাতা ডুবিয়ে ভাতের উপর ঢেলে দিত। ওর নাম মাছের ঝোল। ঝোলে জল থাকত, রঙ থাকত, মাছ থাকত না। মাছ থাকত সানকিতে কোনে মেশিন দিয়ে যেন কাটা অতি সম্তপ্পণে আধ তোলা ওজনের মাছের টুকরে। সানকিতে ফেলে দিয়ে মিঞ্াঠাকুর হাসত।

কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলত, গাঙ্ের মাছ কর্তা রেসের ঘোড়া। গাম না হলে ঘোড়। যেমন কদম ওঠায় না, তেমনি সানকিতে না রাখলে কয়েদখানার মাছের টুকরা! জিবের তলায় পৌছায় না। রেসের ঘোড়ার মতো! টগবশিয়ে দৌড়ে বেড়ায়।

তরিবত হাসে।

একদিন জিজ্ঞাস করলাম, মিঞ্াঠাকুর, এত লোক থাকতে তোমার কপালে ল্গর কেন? .

খোদার কুদরত হুজুর ভালটাও পেয়েছি, মন্দটাও পাব। এই গ্টে। বাদ দিয়ে তো হৃনিয়ার হাটে সওদ| বিকোয় না।

তাই বুঝি তিনশ ছেষট্রি।

১৮ পথে প্রাঙচয়ে হং-্হং করে তরিবত ছেসে আধার কাজে মন দেয়।

ধ্ ১৬

সেলাম কা !

তরিবতের মুখের দিকে চেয়ে হাসলাম জনিতাম কোনে দরকার না হলে তরিবত লম্ব। সেলাম দেয় না।

কি খবর মিঞাঠাকুর ?

ওডোর হয়েছে কতা

কার?

সুখিলবাবু নেত্যব্রাবু বিশেবাবু। আরও দশ-বারো৷ জনের

তরিবত খানিকটা ভেবে নিয়ে বলল, আপনার ওডোর হয়নি কত্বা?

ছাড়পত্র সই হয়নি মিঞাঠাকুর যার! আজ খালাস পেঙ্গ তার৷ কয়েদী নয়, তারা! বেআইনী আইনে আটক ছিল। প্রমাণ ছিল না) তাই খালাস পেল। আমার তে। তা হবার নয়। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে মিঞ্াঠাকুর। বছর না ঘুরতেই ওডোর হবে।

তরিবত্ত হাউ হাউ করে কেদে ফেলল।

কাদছ কেন তরিবত ?

বাবুর! খালাস পাচ্ছে, দেশের লোকে গলায় মাল! দিয়ে সোহাগ জানাচ্ছে কত্ত! আর, কি ভেরম করলাম, মেয়েলোকের পেছনে ঘোড়দোড় না করলে বোধ হয় এহাল আমার হত না। আপনাদের মতে! দি আসতে পারতাম !

চোখ যুছে তরিবত নেমে চলে গেল।

ভাবছিলাম দেশের জন্ত আমাদের চেয়েও যাদের দান বেশী, দাম তাদের কত কম। সে কথা তরিবতকে বুঝিয়ে বলতে পারিনি বোবাবার মতো ক্ষমতাও বোধ হয় সেদিন ছিল না।

দিনগুলো পেরিয়ে যেত আজও পেরোয়। অটোমেটিক যে চাকা ঘুরছে, কেউ থাকলেই কি, না থাকলেই কি, চাকার গতি ব্লথ হয় না কোনে। সময়ই জেলখানার একঘেয়ে জীবনও চাকার তাঞ্জে তালে চট্াত।

স্বীয় পর্ব ১৪৯

তরিবতের জন্য বড়ই ছুঃখ হত।

মানুষের সরল বিশ্বাস অজ্ঞতা স্যষ্টি করে, অজ্ঞতা আইনের চোখে নিরপরাধ গণ্য হবার মাপকাঠি নয়। তরিবত তা জানত না। গাঁয়ের ওসব সাদাসিধা মানুষ নিজেদের মন দিয়েই ভালমন্দ বিচার করে। ইংরেজের কঠিন আইনের নিগড়ে বেঁধে তাদের অসরল আর সভ্য করা হয়েছে। শাশ্বত মানবধর্মের ছুয়ারে তাদের আবেদন ব্যর্থ হয়েছে, সভ্য মানুষকে তারা ভয় করে সভ্য হতে ওরা পারেনি, হয়ত পারবেও না, তাই এত দুর্ভোগ

তরিবতের চোখের জল শুকোয়নি, কাদার তার শেষ নেই, সকাল থেকে শোবার পূর্বযূহুর্ত অবধি পাঁচবার আল্লার ছুয়ারে তার তৃলের মার্জনা চাইছে, মার্জন! সে পেয়েছে কি না জানি না, আরও তিনটে বছর তাকে খেসারত দিতেই হবে। মানুষের ছুয়ারে সামান্ ভুলের যে মার্জনা পায়নি, সে আল্লার ছুয়ারে মার্জনা পাবে কি?

অনেক দিন আমার সেলের মেঝেয় বসে তরিবত কেঁদেছে, জিজ্ঞাসা করেছে, খোদার বদদোয়া থেকে তার রেহাই আছে কি না। জবাব দিতে পারিনি

একদিন বললাম, মিঞাঠাকুর, ছুনিয়! বড় কঠিন ঠাই।

হা কত্বা। তা না হলে, আমারই বিয়ে করা বিবি, সে-ই হল পর। আদালতে ধ্লাড়িয়ে বে-সরমী কথা৷ বলল বেইমানের মতে না-জবানী কথা বলল।

তা নয় মিঞাঠাকুর, 'আকালের বছরে তোমার ঘরে খুদকণাও ছিল না। যার থাকে ন! তার ঘর বাধবার অধিকারও থাকে না। সেটা তো তুমি জানতে না। ত! যদি জানতে ...

তরিবত বাঁধ! দিয়ে বলল, নছিরনকে কখনো! কষ্ট দেইনি কত্তা, নিজে না খেয়েও তাকে খাইয়েছি। গীরপুরের মোকসেদ হল নাটের গুরু সে-ই বিবি ভাগিয়ে নিয়ে গেল। তালাক দিতে বাধ্য করল। |

মোকসেদ পয়সাওয়ালা, তারই তো! ভোগ করবার অধিকার রয়েছে। তোমার সে অধিকার ছিল ন! মিঞ্াঠাকুর। আগেয় দিনে সংসার গড়ে

পথে প্রোস্তরে

উঠত মহববত আর নেক দিয়ে, আজকের দিনে সংসার গড়ে উঠেছে রূপে দিয়ে জমানা বদল হয়ে গেছে।

কিন্ত ছু বছর যেতে না যেতেই আবার চাষ-আবাদে সোন! ফলল, আবার আমার গোলায় ধান উঠল, মরাই বাধলাম। ফিরে চাইলাম নছিরনকে। আমারই বিয়ে করা বিবি। একদিন পয়স। ছিল না বলে চলে গেছে, আজ পয়স৷ হয়েছে, সে কেন আসবে না? তালাকী বিবিকে নিকা করবার অধিকার আমার কি ছিল ন! !

কেন ছিল না সে কথা তুমি না বোঝ এমন নয়; তাই শোঁক জেগেছিল তোমার মন্চে। পুরান বিবির শোকে তাকে চুরি করে এনেছিলে।

তরিবত রেগে উঠল। বলল, চুরি, বলেন কি কত্তা। আমার বিবি, ক'দিন পরের ঘর করেছে, তাতেই কি সে পর হয়ে গেল। সাত বছরের সথখতুঃখের কথ। সে বেমালুম ভূলে গেল।

তাই হয় মিঞ্াঠাকুর। অন্তত তোমাদের আইন তাই বলে।

তাই বলে! বলুক কত্তা, কিন্ত কি করে নছিরন আমার খেলাপী কথা বগল, তাই ভেবে পাচ্ছি না। ঘর ন! করলে খেলাগী কথা৷ বলতে হবে, কোন বিচার। বিবি-জরু সব যাক তাতে ছঃখ নেই, কিন্ত আমারই বিবি-_ তরিবত ছুঃখে ফুঁপিয়ে উঠল।

তরিবতকে সাম্বন। দেবার কিছু নেই। সে সবসাম্বনার বাইরে। নিজের বিবি পর হয় এট। সে বিশ্বাস করেনি তাই মাশুল দিচ্ছে। কে যে কার আপন, দে-কথা স্বয়ং শ্রষ্টাও বলতে পারে না, আমি তুমি কোন ছার।

তরিবত চায় স্বদেশী বাবুদের মতো মালা গলায় দিয়ে বাইরে বের হতে। মানুষ যশ চায়, অর্থ চায়; মহিষমর্দিনী দেবীর পুজা তো! এই কারণেই হয়ে আসছে যুগধুগাস্ত ধরে। পায়নি কেউ, পাবেও না। আকাঙ্ষার পরিতৃপ্তি কোথায় !

,তরিবত চলে যেতেই মনটা বার্থতার অন্থুশোচনায় গুমরে উঠল।

সেই বন্দীশালার ক'টা দিনের স্মৃতি প্রথর করে তুলত তরিবত,

খ্িতীয় পর্ব ২১

জন্সন আর বান্ধবদের দল। শেঠের শুভ্র দাড়ির মাধখানটায় কালে কালো! ধাতগুলে! আর তার সার! জীবনের ছোট ছোট কাহিনী মুগ্ধ করত, বিতৃষ্জার আবরণ টেনে দিত অবচেতন মনে। জন্সন ভাবিয়ে তুলত ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্নকথা বলে। তরিবত গুমরে মরত, জেই গুমরানিতে আমিও কেমন আচ্ছন্ন হয়ে পড়তাম।

তু্দাস্ত মানুষের ভূল আর নিরভল-ভর! জীবনগুলে। মনের কোণে এমন রেখাপাত করেছে যে, তাদের ভুলতে পারিনি বিস্মৃতির কোন অন্ধকারে এসব অশান্ত চিন্তা লুকিয়ে থাকে, তা কেউ বলতে পারে না। সময়ে অসময়ে মনের কোণে উঁকি দিয়ে শুধু মনকে আচ্ছন্ন করে তোলে

পাতুর মাও কেমন একটা আবেশ স্থপ্টি করেছিল। মনে হয়, জীবনটা ছুর্মদ ছূ্দাস্ত করে গড়ে তোলবার গোড়ায় তার কৃতিত্বই সব চেয়ে বেশী। পরবর্তী জীবনে নান! দেশের নান! শ্রেণীর লোকের সাহচর্যে জীবনটা হয়ে উঠেছে পথচারীর আক্ষেপপুর্ণ পদক্ষেপ-ভর! গতির মতো তার গোড়ায় রয়েছে পাতুর মা-র প্রভাব। প্রত্যক্ষ অপ্রত্যক্ষভাবে আজও সেটা অনুভব করে থাকি

সেই পাতুর ম! এখনে! বেঁচে রয়েছে। যেদিন পাতুর বাবা মার! গেল, সেদিন তার মুখের দ্রিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এত বড় শোকট৷ সে ভুলতে পারবে কি, বাঁচবে কিসে এই শোকসস্তপ্ত জীবন নিয়ে? আমার সে-চিস্তাকে ব্যঙ্গ করেই শুধু সে বেঁচে নেই, সে বেঁচে আছে আরও অনেক কিছু হারিয়ে।

পাতুর বিয়ে। কাকারা বিয়ে ঠিক করেছে। করেছে না বলে বলা! চলে করতে বাধ্য হয়েছে পাড়ার দশজন পাতুর বয়সের দিকে চেয়ে কাকাদের ম্মরণ করিয়ে দিতে লাগল, বিয়েট' অতি প্রয়োজন পাতুর বাব। থাকলে বিয়েটা অনেক আগেই হয়ে যেত, কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে অনেকে অবশেষে বিয়ে একট। ঠিক হল। পাত্র ভাল--.

২২ পথে প্রান্তরে

সবল নুন্থ দেহ, ছাত্রবৃত্তি পাস করে আদালতের বটতলায় মুস্থরীগিরি করে ছু পয়সা কামাইও করে। বয়নের পরিমাপে মানাবেও ভাল।

পাতুর মা সন্ধ্যেবেলায় চুপিচুপি এসে বলল, পাতুর বিয়ে ঠিক হয়েছে, বুঝলি ?

প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে পাত্রের ঠিকুজি-কো্টী শুনে নিয়ে বললাম, ভালই হল।

বিষ্মের সময় থাকিস কিন্তু।

কলেজ খুলে যাবে মামীমা। থাকার ইচ্ছা থাকলেও থাকতে পারব না। &

পাতুর মা কোনে! কথা বলল না, শুধু তার গাল বেয়ে চোখের জল নেমে এল।

হতভাগিনীর অব্যক্ত বাথা আমার বুকে শেলের মতে! বিধতে লাগল। হঠাৎ বলে উঠলাম, বেশ, বিয়ের দিন থাকলেই তো হল।

আঁচলে মুখ মুছে বলল, তো৷ একটাই আমার সম্বল, তার বিয়ে, তুই তার বড় ভাই, তুই না থাকলে বিয়ে সম্পুর্ণ হবে কি? মনে আছে কি তোর, পাতু যেদিন জন্মাল সেদিন পাতাসী মাছ হাতে করে এসে তুই বলেছিলি, ওর নাম রইল পাতাসী 1? সেই পাতাসীই তো তোদের পাতু। তার বিয়েতে তুই না থাকলে সব পণ্ড হয়ে যাবে।

কেমন লজ্জা বোধ হল, আরক্ত মুখে বললাম, সব জানি মামীমা; ওসব কথ! থাক, বিয়ের দিন ঠিক আসব, তুমি জোগাড় করতে থাক।

পাতুর বিয়ের দিন প্রতিশ্র্গতি মতো কলেজ কামাই করেও দুপুরে বাড়ি ফিরতে হল। বিয়েতে জোগাড় ভালই হয়েছিল। আমার করবার মতে। কিছুই নেই। তবুও আসতে হয়েছে।

পাতুর মা-র সাথে দেখা করে এসে নিজেদের বৈঠকখানায় পিতৃ- পিতামহদের পুরাতন বইগুলে। খাটাখাটি করছি, সন্ধযেও পেরিয়ে গেছে, এমন সময় দৌড়তে দৌড়তে পাতুর মায়ের সেই পুরান রাখাল এসে বলল, বাবুর বেটা, দ্যাব-গিবুনি ড্াঁকিচ্ছে।

দ্যাব-গিরুনির ডাক অনেক শুনেছি। আজ বিয়ে-বাড়িতে ডাক পড়বে জানতাম, তবুও হস্তদস্ত হয়ে কেউ ডাকতে আসবে ভাবতে

স্বিতীয় পর্ন ২৬

পারিনি। তার পেছন পেছন তাদের বাড়িতে হাজির হলাম। প্রয়োজনটা ধে গুরুতর তা বুঝতে কষ্ট হল ন!।

ভীষণ গণ্ডগোল শুরু হয়েছে। পাত্র কন্তা উভয়পক্ষের 'রণং দেহি' ভাব। অনেক কষ্টে যা! ঘটনার বিষয়বন্ত্ব উদ্ধার হল, তাতে বুধলাম একপক্ষের অপরাধ সংখ্যাতিরিক্ত বরযাত্রী আনয়ন, অপর- পক্ষের অপরাধ প্রতিশ্র্তি মতো অলঙ্কারের সামান্য কম সরবরাহ বৈষয়িক ক্ষেত্রে হুইটিই অত্যধিক অপরাধ আমার মতো৷ কলেজে- পড় ছেলের কাছে এটা মোটেই কিছু নয় কিন্তু যাদের কাছে অনেক কিছু তারা সহ-অবস্থান নীতিকে স্বীকার করে না, তারা জানে মনুষ্যজীবনে এই একমাত্র সুযোগ যখন লেনদেনকে পুরোপুরি কায়েম করতে না পারলে জাগতিক বিধান অনুসারে মুর্খ বলে প্রমাণিত হতে হয়।

এই হট্টগোলের মাঝে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলাম না যার আহ্বানে এসেছি তাকেই খুঁজছিলাম। রোদনমুখী মামীমাকে পেতে দেরি হল না। অন্তরালে ডেকে বলল, বাবা তুই না থাকলে এর মীমাংসা হবে না, আমার মেয়ের আর গতি হবে না। শেষে বিয়ে যেন ভগঙুল না হয়।

এক জোড়া সোনার বাল! আমার হাতে দিয়ে বলল, এই বালা আমার শেষ সম্বল, এটা বিক্রি করে এখুনি বরষাত্রীদের ব্যবস্থা কর, আর বাকি সোনার ব্যবস্থা কর বাবা।

আমি একটু ধাঁধায় পড়লাম। রকম অভিজ্ঞতা এই প্রথম তবুও সাহসে ভর করে বললাম, তুমি বাল! তুলে রাখ মামীমা, যদি দরকার হয় তখন নেব। দেখি, সকলকে থামাতে পারি কি না। মিষ্টি কথায় ব্রহ্মা বশ হয়, আর মানুষ বশ হবে না

' বিয়ে আটকে রইল ন৷। জোর করেই বরকে আসনে বসালাম, জোর করেই বরযাত্রীদের খাবার সংগ্রহ করতে বাধ্য করলাম মনটা তবুও খুঁত খুঁত করতে লাগল। একটি পরিবারের সাথে অপর একটি পরিবারের ' বংশপরম্পরায় যে সন্ধন্ধ স্থষ্টি হতে চলেছে, সেই শুভ প্রয়ামে এমন দৌকানদারীই বা কেন আর এমন অশাস্তিই বা

২8 পথে প্রান্তরে

কেন। নিজের কাছে কোনো কৈফিয়ত খুঁজে পেলাম না, যুগ- যুগান্তের সামাজিক ক্লেদ কেমন যেন বোমার মতো ফেটে পড়ে বাইরের জগংটাকেও নোংরা করে তুলেছে ভেবেই পেলাম না এর মূল কোথায়।

কম্যাপ্ক্ষের কৈফিয়ত অর্থের অপ্রতুলতা। তাহলে তার নিশ্চিত পরিণতি, অর্থ যার নেই, তার কি বিয়ে হবে না! তার জবাব সমাজ আজও দিতে পারেনি। বিয়ে দেবার যুক্তি তার! অন্বীকার করেনি অথব! করে না কিন্তু সে-বিয়ে হবে অর্থের মানদণ্ডে, মেয়ে-পুরুষের প্রীতি-ভালবাসার মানদণ্ডে নয়, অভিভাবকের সামর্থ্যের মানদণ্ডে নয়।

অপর পক্ষ দোকানদার। তাদের যুক্তি নববধূকে চিরকাল ভরণ- পোষণ করতে হবে, যৌতুক না পেলে তারাই বা খুশী হবে কেন ? মেয়ে তো! আর কিছু সঙ্গে করে আনবে না। পুত্রের যোগ্যতার চেয়ে পুত্রবধূর মারফতে দোহন যেন পরিপূর্ণতা লাভ করে, এই হল যুক্তির সার।

অতীতের বিস্বিত চিন্তাধারার ক্ষেত্রে নিজেকে যখন দাড় করাই তখন আপন! থেকেই শিউরে উঠি। আজ তোমাকে এই কাহিনী শোনাতে বসে চিন্তার সুত্র ছিড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে, নীরবে এই যুক্তিহীন যুক্তিগুলো৷ আমরা পরিপাক করেছি, করছি এবং করে চলব। সুস্থ মানবজীবন গড়বার উপদেশ অন্যকে দিয়ে নিজে চুপিসারে নিজের সন্তানের জন্য অপরকে দোহন করে ভাগ্য স্থষ্টি করব। বাহারপ থেকে অন্তরকে চিনবার সব পথ রুদ্ধ করে অপরকে বঞ্চনা করব।

দারিদ্র্য বদি শাশ্বত জীবনের অন্তরায় হয়, সে-দারিদ্র্য জয় করবার পথ কোথায়? বেড়ালের বিয়ে দিয়ে পয়সা অপব্যয় করবার কারুর. সামর্ধয রইবে, আর অপরের সাধারণ সুস্থ জীবন যাপন করবার মতো র্যয় করবার সামর্থ্য রইবে না কেন! সমতা নেই সমাজ-ব্যবস্থায়। ঠাই যঙ্দি থাকত, তাহলে অর্থের বিনিময়েও বিবাহের প্রয়োজন হত মা অর্থের অসঙ্গতি মানুষের জীবনে শুভকার্ষে প্রতিবন্ধক হতে পারত চনা। এই সাম্যহীন সমাজে মান্থুষ বড় নয়, বড় তার রুপোর রূপ।

দ্বিতীয় পর্থ ২৫

সেখানে ন্সেহ, মায়া, মমতা শুধু আভিধানিক শব্দ, তার বিকাশ ঘটারার পথ কোথাও নেই। অর্থহীনত! অপরাধ, দারিদ্র্য সর্বগুণ-সংহারক।

ছঃখের সাথেই অনিরুদ্ধ বলেছিল, দাদা, জীবনের বড় কাব্য অর্থ, আর বড় কবি ওমর খৈয়াম। ভোগ অর্থের প্রাচুর্য কবির কাব্য- কাহিনীকে সার্থক করেছে।

হাসপাতালের বেডে রুগ্ন অনিরুদ্ধ তখন বিশীর্ণ মৃত্যুর ক্ষণ খু'জছে। সেই অনিকন্ধের রুগ্ন ত্বকে দুঃখের হাসি ফুটে উঠল।

আমি চুপ করেই বসে ছিলাম অনিরুদ্ধ কথার সাথে কথ! জুড়ে বলল, স্বদেশী করে জেলে এসেছি, আজ জেল হাসপাতালে গো- চিকিৎসা পেয়ে নরজন্ম সার্থক করছি। সবই সত্যি, তার চেয়ে বড় সত্যি জীবনকে বঞ্চনা করেছি। বঞ্চনা করেছি, কেন ন। বঞ্চনা করতে বাধ্য হয়েছি।

তুমি থাম তে ভাই অসুস্থ শরীরের চেয়েও তোমার মন বেশী অনুস্থ হয়ে উঠেছে, সেই অসুস্থতা আরও বেশী ভয়ঙ্কর |

অনিকদ্ধ হাসল, বলল, আমরা কি চেয়েছি? ইংরেজ চলে যাক, নয় কি? কেন যাবে? আমরা আমাদের সুখছুঃখকে পরিচালনা করব, এই তো৷? তাই যদি হয়, তাহলে ভূল হবে দাদা আমরা চাই ইংরেজ যাক, আমর! সুখে থাকি, দুঃখকে জয় করি হছুঃখ কোথায় ? ছঃখের মূলস্ৃত্র রয়েছে টাকার অঙ্কে অঙ্ক কম হল্গে জাগতিক নিয়মকেও আমরা অস্বীকার করি। অঙ্ক ঠিক থাকলে জাগতিক নিয়মকে নিজের ইচ্ছায় চালাতে চেষ্টা করি। অঙ্ক যতদিন ঠিক না হবে, ততদিন হুঃখ যেরূপেই আস্মুক, সে-ছুঃখ অর্থহীনতার নামাস্তর মাত্র।

বলতে বলতে উত্তেজনায় অনিরুদ্ধ হাপিয়ে উঠল। তার কপালে হাত রেখে বললাম, হয়ত তাই, হয়ত নয়। তা বলে তুমি কেন উত্তেজিত হচ্ছ।

এই উত্তেজনার শীত্জই পরিসমাপ্তি ঘটল। ক'দিন পরে অনিরুদ্ধ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে তার মৃতদেহ জেলখানার শেষ কোণায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাওয়া নিষেধ। যেতে চেয়েও যেতে পারিনি সেলের দরজায় বসে অনির্চ্ধের চিতার স্থান দেখতে

পথে প্রাস্থির়ে

'পেভাম। বিকেলে তাকিয়ে থাকতাম আর ভাবতাম, অনিরুদ্ধ অর্থকে যে চোখে দ্বেখে গেছে, সে চোখ সবারই তে! রয়েছে, চোখ থেকেও কেন তার সমাধান হচ্ছে না। হবে কি কোনে দিন ?

অনিরদ্ধ ধনীর সন্তান, টাকাকে সে ভালবাসলেও টাকার মোহ তার ছিল না। সম্পদের আকাঙ্ঙ্ষায় সে স্বদেশী করেনি। সে এসেছিল ইংরেজকে রাজহীন করতে তারপর একদিন মে উপলব্ধি করল, রাজহীন ইংরেজ তত সর্বনেশে নয়, যত সর্বনেশে তার শোৌষণ- ব্যবস্থা ইংরেজ শোষক, সে দেশী শোবক সৃষ্টি করেছে উত্তরাধিকারী- সৃত্রেঃ তাই সমাজের নীচের তলার লোকেরা জাধারণ সরল জীবন খুজে পায়নি সাদা-কালোর উৎীড়নে, তাই তাদের ছুটে আসতে হয়েছে জেলখানায়। নইলে জগ্য়ার মতো! পাষণ্ড কেন এখানে আসল, আর কেনই ব৷ সেদিন কাদল ?

কয়েদী রাজ্যে জগুয়া মানী লোক। সাত সাতবার নরহত্যাসহ ডাকাতি করে একবার মাত্র সাজ হয়েছে দশ বছরের এমন গুমী লোক জেলখানায় কমই থাকে সেই জগুয়া ভোরবেলায় আমার সেলের সামনে ধীড়িয়ে অঝোরে কাদছিল।

জিজ্ঞাসা করলাম, কেন কাদছ মহারাজ ?

ফুপিয়ে ফুঁপিয়ে জগ্ুয়া বলল, শোননি বাবু শেষরাতের কান! !

ওহো, আজ বুঝি মাল খালাস হল।

ই৷ বাবু সেই মোছলমান মাগীটা, যে সোয়ামীকে বিষ দিয়েছিল

একটু আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, সে কি তোমার কেউ হয় ?

না বাবু।

তবে কাদছ কেন?

কাদছিল ওর ছেলের জন্য ওর কাদা শুনে একটা কথা মনে পড়ে গেল। ডাকাতি করে দিন ভালই গুজরান হচ্ছিল বাবু। জগুয়াকে ধরবার মতে পুলিস হিন্দুস্থানে ছিল না। তবুও একদিন ধর়্। দিতে বাধ্য হলাম।

মানে, খুঁলিস ভোমায় ধরতে পারেনি, ইচ্ছে করেই জেলে এসেছ।

“দ্বিতীয় পর্ব হগ

পারেনি, পারত না কখনো শেষ যেবার ডাকাতি করতে গেলাম, ওঃ দে কথা .শুনে কেঁদে উঠবেন বাবু। মালদার লোক। দরজ। ভেঙে ঘরে ঢুকেই সামনে পেলাম একটা মেয়েছেলে। তার কোলে ফুটফুটে সুন্দর একটা ছেলে মদ্দা লোকটা খাটের তলায় লুকিয়েছিল, তাকে টেনে বের করে ছু-চার ঘ! দিতেই সে বউকে দেখিয়ে বলল, চাৰি ওর কাছে। বউটার হাত চেপে ধরলাম, বললাম, চাবি দে। তার কাছে চাবি ছিল না। ছেলেটাকে বুকের সাথে জাপটে ধরে কেদে পা! জড়িয়ে ধরে বলল, চাবি নেই বাবা, আমাকে মেরে ফেল কিন্ত আমার ছেলেটাকে বাঁচাও ওকে মের না।

জগ্ডয়া থেমে গেল। ফতুয়ার হাতায় চোখ মুছে বলল, জানেন বাবু তার কথ। শুনে আমার মনে হল, ষেন আমারই মা আমাকে বুকে চেপে নিয়ে কাদছে। তখুনি ফিরে এলাম বাবু। আর সেই থেকে ডাকাতি ছেড়ে দিয়েছি, সেই দিনই থানায় গিয়ে ধরা দিলাম জগ্ডয়া ডাকাতের মৃত্যু হল! সেই মা, সেই মা কাদছিল আজ সকালে। তার অপরাধের অচ্থুশোচন৷ নয়, তার মৃত্যুর পরোয়ানাকে ভয় করে নয়, সে কাদছিল তার সন্তানের জন্য ! তাই বাবু '"'

জগ্ুয়। হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল।

নরহত্যাকারী ডাকাত জগয়া কাদছে, বিশ্বাস হচ্ছিল না। তার কথার বেগ তখনও শেষ হয়নি, তাই ভেবে পেলাম ন! জগুয়া কাদে কেন, আর সত্যিই কাদে কেন !

অনিরুদ্ধ মরণের মাঝ দিয়েকি পেল, জগুয়। জেলখানায় প্রায়শ্চিত্ত করতে এমে কি পেল! পাওয়া না-পাওয়ার ছণ্ৰধ তাঁদের শেষ হয়েছে কি !

অনিরুদ্ধ ধনীর ছুলাল। ভাবাবেগে এসে বুঝে গেছে, অর্থহীন সাম্যহীন সমাজ-ব্যবস্থায় মানুষ কত অসহায়। আর জগুয়। বুঝেই এসেছে, অর্থের চেয়ে বড় মানুষের হাদয়, সেই হাদয়ে আঘাত হানার চেয়ে হৃদয়কে সঞ্জীবিত করার পথ খোঁজ। দরকার জগয়া তাই কাঁদছে, অনিরুত্ধ মৃত্যুর মাঝ দিয়ে বিক্ষোভ জানিয়ে গেছে।

২৮ পথে প্রান্থারে'

পাতুর মা-র কথা! ভাবতে বসে এদের কথ! কত ভাবেই মনে এসে ধাকা দিচ্ছে। ভাবতে পারছি না, সত্যি সত্যিই পাতুর মা-র ওটা প্রাপ্য কি না।

প্রাপ্য নয় বললেই তে! দোষমুক্তি হয় না

হঠাৎ খবর পেলাম তার একমাত্র বন্ধন পাত সন্তান প্রসবকালে চিরবিদায় গ্রহণ করেছে, বিদায়ের পূর্বে কোনো উপচার সাজান হয়েছিল কিনা তা জান! নেই, কিন্তু পাতুর মা-র পাতু নিঃশব্দে আরও অখ্যাত কোটি কোটি লোকের