রাজেন্দ্রলাল মিত্র

অলোক রায়

প্রন প্রকাশ £ ১৯৬৯

প্রকাশক প্রশান্তকুমার পালিত, বাগর্থএর পক্ষে, ১/৩ কৃষ্তরায বনু স্ত্রী, কলিকাতা-৪। মুদ্রক এস্‌. রায়, বিদ্রৎ প্রিন্টিং প্রেস, ১৭, ভীম ঘোষ লেন, কলিকাঁতা-।

দামঃ পনেরে। টাকা

স্যগতি। মাতৃদেবীর স্মতিন্ ভদ্দেশ্শে

পুর্বাভাব

উনবিংশ শতাব্দীকে আমর! মনে রেখেছি সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম, একাগ্র স্ঘাজসাস্কার এবং নবজাগ্রত জাতীয়তাবোধের জন্য কিন্তু উনবিংশ শতাষীর জ্ঞানচর্চ,_রেনে্সীসের বিশেষ লক্ষণ হিউম্যানিজম তথ! মনন পাগডত্যের ইতিহাস আজ বিস্তৃতগ্রায়। রাজেন্দ্রলাল মিত্রের জীবন, কর্ম রচনাবলী বাংলাদেশে রেনেন্গীসের ইতিহাসে বহুমূখী প্রতিভা! প্রয়াসের উল্লেখধোগ্য দৃষ্টান্ত প্রায় সাতাত্তর বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কিন্ধু তাঁর কোনো! পূর্ণাঙ্গ জীনীগ্রস্থ যাবৎ লেখা হয়নি, তীর ্স্থাবলী দুপ্রাপ্য, তার গবেষণার যূল্য অনিরূপিত। অবশ্যই বাংলাদেশে অতীতের সংরক্ষণ মূল্যনির্ধারণের ব্যাপারে অবহেলা! শৈথিল্য বনু প্রসারিত। ইংল্যাণ্ডে জোয়েট, বেপ্টলে, ম্যাক্মমূলর প্রভৃতি গবেষকের একাধিক জীবনী রচিত হয়েছে, তীদ্দের সংগৃহীত গ্রন্থের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাঁদের কাছে পরবর্তীষুগের খণ কৃতজ্ঞতার সে স্বীকার করা হয়েছে। ভারতবিগ্া নিয়ে যে-য়োরোগীয় পঙ্িতেরা আলোচন! করেছেন তাদেরও সুদীর্ঘ জীবনী এবং পত্রসংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

রাঁজেন্দ্রলালের জীবনীরচনা আজকের দিনে যথেষ্ট দুয়হ সন্দেহ নেই। 276 77/765$ পত্রিকায় (১৬ জুলাই ১৮৮৯) প্রকাশিত এবং পরে পুস্তিকাকারে মুদ্রিত রাজেন্্লালের জীবিতকালে রচিত সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং “জন্মভূমি” (ভাত ১২৯৮) পত্রিকায় তাঁর পরলোকগমনের পর প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত জীবনকাহিনী ছাড়া অন্ত কোথাও কোনও তথ্যপঞ্জী পাওয়৷ ঘায়নি। পরবর্তীকালে ধারা রাঁজেন্দ্রলালের জীবনকথা বিবৃত করেছেন, তারা সকলেই উপযুক্ত প্রবন্ধ দু'টির সাহাধ্য নিয়েছেন কিন্ত এগুলির মধ্যে নান! অসঙ্গতি আছে (যেমন, রাজেন্দ্রলালের জন্মসন বা তার গ্রস্থপঞ্জী ) এবং কয়েকটি প্রচলিত বিষরণ আমাদের অনুসন্ধানে অগ্রমানিত হয়েছে (যেমন, রাজেন্দ্রলাল ভিয়েনার চ1253158] ০1895

[ -

০4 076 [1019679] 4:0806075-র বিশেষ সভ্য ছিলেন, একথা সকলেই বলেছেন, কিন্তু অস্রিয়ান আকাডেমি অফ সায়ান্সের ডঃ ফ্রিজ. নক অনেক অনুসন্ধান ক'রে আমাদের জানিয়েছেন যে, রাজেন্দ্রলান কখনোই এই সভার সভ্য ছিলেন না। তবে এমন হতে পারে, রাজেন্রুললি উক্ত সভার সঙ্গে পত্রদৌত্যে পরিচিত ছিলেন। ) রাজেন্দ্রলাল সম্বন্ধে প্রচারিত অন্য কয়েকটি কিংবদস্তীও গ্রতিবাদযোগ্য, যেমন তিনি হিন্ু কলেজে মধুস্থদনের সহপাঠী ছিলেন, বা তিনি নেপাল ভ্রমণ ক'রে সংস্কৃত বৌদ্ধ সাহিত্যের পুথি সংগ্রহ করেন।

রাঁজেন্্লালের জীবনী রচনাকালে নান! শ্থত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি, এবং জীবনীটিকে যথাসাধা পূর্ণাঙ্গ ক'রে তোলার চেষ্টা করেছি। প্রধানত সমসাময়িক সংবাদপত্র এবং বিভিন্ন বিঘজ্জন সংসদের পত্রিকা! বিবরণের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীতে রাঁজেন্দ্রনালের সমসাময়িক ব্যক্তিদের জীবনী স্ৃতিকথ! থেকেও সাহায্য পেয়েছি। রাজেন্রনলাল য়োরোপের অনেকগুলি বিহ্জ্জন সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই সেই সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি এবং ঘষে সংস্থাগুলির বর্তমান অস্তিত্ব আছে, সেখান থেকে বাজেন্্লাল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আনিয়েছি।

হাঙ্গেরীর আকাডেমি অফ সায়ান্সের গ্রন্থাগারাঁধ্যক্ষ জর্জ রজসা-র সহায়তায় রাঁজেজ্্রলাল সম্বন্ধে একটি অমূল্য প্রবন্ধ উদ্ধার করি। প্রবন্ধাটি লেখেন রাজেন্দ্রলালের মৃত্যুর পর তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট বন্ধু থিওডর ডুকা। চল্লিশ পৃষ্ঠার সমগ্র প্রবন্ধের মাইক্রোফিল্ম পাঠিয়ে জর্জ রজব সা আমাদের বিশেষভাবে অন্ুগৃহীত করেছেন

জার্ান ওরিয়েন্টাল সোসাইটি ( গটিন্জেন বিশ্ববিদ্যালয় ), বালিন সোসাইটি ফর আযনথে?পলজি এখনলজি এগ্ু প্রিহিস্টরি, ইস্ট ই্ডিয়া আযসোসিয়েসন (লগুন ), ইনক্িটিউটো ইটালিয়ানো। পার ইল মেডিও এড এস্ট্রেমো ওরিক্লেপ্ট এবং আমেরিকান ওরিয়েন্টাল সোসাইটির কর্তৃপক্ষ তাদের পুরানো দণ্তর থেকে রাজেন্জলাল সন্বদ্ধে অনেক তথ্য সরবরাহ করেছেন

[ ]

এলিম়াটিক সোসাইটির ( বোস্বাই ) গ্রন্থাগারাধ্যক্ষ রাজেজলালের কতকগুলি ছুষ্প্রাপ্য লেখার সন্ধান দিয়েছেন এবং রাজেন্্লালের পরলোকগমনের পর এসিয়াটক সোসাইটির ধো্াই শাখার শোকলভাগ় ভঃ পেটারসন প্রদত্ত বক্তৃতার কপি পাঠিয়ে দিয়েছেন। দিল্গীর ন্যাশনাল আরকাইভ্স থেকে রাজেন্্রলালকে প্রদত্ত সরকারী বিভিন্ন সম্মান খেতাবের বিস্তারিত বিবরণ পেয়েছি জীবনী রচনায় এগুলি যথেষ্ট সাহায্য করেছে।

জীবনী রচনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রাজেন্দ্রনালের রচনাকর্মেরও বিস্তারিত বিবরণ দিতে প্রণোর্দিত হয়েছি বাঁজেন্দ্রলালের বিভিন্ন প্রবন্ধ ভারতবর্ষে এবং বাহিরের নান! পত্রপত্রিকাক্স প্রকাশিত হয়েছে বর্তমান গ্রন্থের শেষে রাজেন্দ্লালের বিস্তারিত গ্রন্থপপ্রী এবং বিভিন্ন পত্ত পত্রিকায় প্রকাশিত গ্রস্থাকারে অনংকলিত রচনার একটি তালিকা! দিয়েছি। কলিকাতার অধিকাংশ গ্রন্থাগার, ভারতবর্ষের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থাগার এবং ব্রিটিশ মিউজিয়াম ইগ্ডিয়া হাউসের পুস্তক সংগ্রহে যে-গ্রন্থগুলি পাঁওয়! গেছে ত। তালিকাভুক্ত করা গেল। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের সৌজন্যে একটি পুন্তিকীর ফটোকপি সংগ্রহ করতে পারছি। ্বর্গত মন্মথনাথ ঘোষের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে রাজেন্দ্রলালের রচনাবলী বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ব্যবহারের স্থযোগ পেয়েছি রাজেন্দ্রলালের গ্রস্থপপ্তী ভারতবিষ্ঠা-অন্ুসন্ধিৎ্তুদের বিশেষ সাহাষ্য করবে সন্দেহ নেই।

গ্রন্থের পরিশিষ্টে রাজেন্দ্রলালের কয়েকটি অপ্রকাশিত পত্র মুদ্রিত হয়েছে রাজেন্দ্রলালের বন পত্র এখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে মুদ্রণের অপেক্ষা করছে ভবিষ্াতে স্বতন্তরভাবে রাজেজ্জলালের পল্রাবলী প্রকাশের ইচ্ছা আছে। জীবনী রচনায় পত্রাবলীর গুরুত্ব সর্বাধিক। “পরিশিষ্ট? অংশে রাজেন্্লাল সম্পার্দিত “বিবিধার্থ-সঙ্গ,হ” “রহস্য-লন্দর্ভ” পত্রিকার

[৯১]

"বিস্তারিত ৃচীপত্র (গ্রন্থসমালোচনার ভালিকাঁসই ) পুনমুদ্রিণ করা 'ছইয়েছে পঞ্জিকা ছুটি দুশ্রাপ্য এবং অধিকাংশ রচনাই ্রস্থাকারে প্রকাশিত না হওয়ায় ছচীপত্রগুলি বিশেষ মূল্যবান

রাঁজেন্্রলান মিত্রের রচনাবলী নানা ধারায় স্ুবিস্তীর্ণ ক্ষেতে প্রসাঁরিত। প্রস্তাবনা' পরিচ্ছেদদে তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং গুরুত্ব নির্দেশ করা হয়েছে রাজেন্দ্রলালের প্রধান পরিচয় ভারতবিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক গবেষক রূপে অতীত সম্বন্ধে কৌতুহল এবং ভাঁরত- বিদ্যার চর্চা সে যুগে য়োরোপীয় পণ্ডিতদের মধ্যে দেখা গেলেও, ভারতবর্ষে বিষয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক দৃট্টিভঙ্গি এবং সুষ্ঠ বিচারপদ্ধতি রাজেন্দ্লালের মধ্যেই লক্ষ্য করি। বর্তমান গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে উনবিংশ শতাবীতে ভারতবিষ্ঠাচর্চার ইতিহাঁস বিবৃত হয়েছে যার পটভূমিতে রাঁজেজ্্লালের গবেষণার তাৎপর্য এবং মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। বলাবাহুল্য, উনবিংশ শতাব্দীর ভারতবিষ্াচর্চার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গবেষকদের বিস্তারিত পরিচয় প্রবন্ধটিতে দেওয়া স্ব হয়নি, তবু আলোচনাটি থেকে সেই সময়কার গবেষণার প্রেরণা, পদ্ধতি, উপাক্স, উপকরণ সম্বন্ধে ধারণ করা যাবে।

স্থাপত্য-তাস্কর্য সামাজিক-রাঁজনৈতিক ইতিহাঁসচর্চায়, ভাষাতত্ আলোচনায় এবং সংস্কৃত গ্রন্থ সম্পাদন! অঙ্বাদে রাজেন্্লালের অসামান্য কৃতিত্বের স্বরূপ উদঘাটিত করার জন্য তার নিজের রচনা! থেকে যথেষ্ট পরিমাণ উদ্ধৃতি উদ্ধার করেছি, এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই যুগের গবেষণা-ধারাটির পরিচয় দ্বেবার চেষ্টা করেছি। রাজেন্দ্রলালের মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধতা বা কখনে। তথ্যগত ভ্রান্তি অসম্ভব নয়, কিন্ত সেই যুগের পটভূমিতে বিচার করলে এই সীমাবদ্ধতা স্বাভাবিক ব'লে মনে হয়। মনে রাখতে হবে, রাজেন্দ্লালের সমকালেই ভারতবিদ্ভাচর্চার প্রকৃত সুচনা আমর! সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি, রাজেন্দ্লালের সেইসব গ্বেষণালন্ধ সিদ্ধান্তের উপর, যেগুলি শতাব্ষীর ব্যবধানেও আধুনিক গবেষকদের দ্বার! স্বীকৃত সমধিত হয়েছে রাজেন্ুলান উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতবিগ্াচর্চায় বাঙালীদের মধ্যে পথিরুতের গৌরব অর্জন

[ ১১ ]

করেছেন, কিন্তু শুধু পথিক্তের লশ্শান নয়, ভার গবেষণা পরবর্তীকালে ভাঁরতবিষ্ঠাচর্চারত পণ্ডিতদের নৃতন পথ প্রদর্শন করেছে

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে রাজেন্দ্রলালের স্থান নির্দেশ করা হয়েছে গ্রন্থের অষ্টম পরিচ্ছেদে শুধু পাঠ্যপুস্তক রচন! নয়; বিষয্োপযোগী গন্ঠের নির্াণ,-গুধু সাময়িক পত্রের সম্পাদন! নক্ষ, আধুনিক সাহিত্য সমালোচনার বুত্রপাত ঘটে রাঁজেন্দ্রলালের হাতে বাংল! পারিভাষিক শব্দ রচনায় রাজেন্দ্রলালের প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়, বিশেষত বর্তমান- ফাঁলে বিদেশী শবের উচ্চারণগত বর্ণবিন্াস এবং অনুবাদের ক্ষেজে সার নির্দেশ আমাদের মনে পড়বে

বর্তমান গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ শুরু করি আঁট বৎসর পূর্বে। তথ্য- সংগ্রহের কাজে যতই অগ্রসর হয়েছি, বিশেষত রাজেন্দ্লালের জীবনী সংকলনের ক্ষেত্রে, ততই নিত্য নৃতন অজ্ঞাতপূর্ব তথ্যের সন্ধান পেয়েছি বর্তমান গ্রন্থ প্রকাঁশকালেও মনে হচ্ছে, এখনো অনেক তথ্য- সংগ্রহ কর! গেল না ভবিষ্যতে হয়তো সেগুলির সন্ধান পাওয়1 যাবে। সে অবস্থায় ভবিষ্যৎ সংস্করণে জীবনী অংশটিতে সংযোজন অনিবার্য হবে

উনবিংশ শতাব্দীর বাংল! সাহিত্য বাঙালী মনীষার ইতিহাস সম্বন্ধে আকৈশোর কৌতুহল পরম শ্রদ্ধা পৌষণ করেছি। এর পিছনে ছিল মাতামহ স্বর্গত মন্থনাথ ঘোষের প্রত্যক্ষ প্রভাব, যিনি উনবিংশ শতাব্ষীর মনীষীদের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে তাদের কীতিকে চিরম্মরণীয় করেছেন। তথ্যসংগ্রহের উপায়, প্রাচীন পুস্তক পত্রপত্রিকা সম্ধান-রীতি এবং জীবনী রচনার পদ্ধতি মাতামহের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেছি। গ্রন্থ প্রকাশকালে তার স্থৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

রাঁজেন্দ্রলাল সম্বন্ধে তথ্যসংগ্রহের প্রথম পর্যায়ে নিত্য উৎসাহ পেয়েছি আমার অধ্যাপক স্বর্গত শশিভৃষণ দাশগুপ্তের কাছ থেকে রাঁজেন্্লাঁলের সংস্কৃত গ্রস্থালোচনা, সম্পাদনা এবং অন্বাদের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ

[ ১২ -

আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। তার অভাব আজ বিশেহভাবে অন্থন্ভব করছি!

রাজেন্রলালের গবেষণারীতি এবং মৌলিক! সম্পর্কে আলোকপাত করেন অধ্যাপক হ্বর্গত স্থগীলকুমার দে। বর্তমান গ্রস্থের কয়েকটি পরিচ্ছেদ তিনি প'ড়ে তীর মতামত দেন এবং একাধিকবার তার শঙ্গে মৌখিক আলোচনার যোগ পেক্সে বিশেষ উপরুূত হই। “ডাষাতত্ব চর্চায় রাজেন্দ্রলাল' পরিচ্ছেদ রচনাকালে অধ্যাপক শ্রীন্থনীতিকুমাঁর, চট্টোপাধ্যায়ের উৎসাহ প্রদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি অধ্যাপক এ. এল, ব্যাসাম রাঁজেন্্রলালের জীবনী রচনার কাঁজে আমাকে উৎসাহিত করেছেন, এবং কানিংহাম সম্বন্ধে একটি গ্রন্থের সন্ধান দিয়েছেন।

বিষয়নির্দেশ এবং গ্রস্থপরিকল্পনার ব্যাপারে সব চেয়ে বেশি খণী আমার অধ্যাপক শ্রীরবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ডের কাছে। দীর্ঘ আঁট বছর তিনি এই কাজে আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করেছেন, পাঁগুলিপি পাঠ করেছেন, এবং গ্রস্থ রচনায় নানা উপদেশ দিয়েছেন তার কাছ থেকে যে অনুপ্রেরণা স্নেহ লাভ করেছি তা কোনোদিন বিস্থাত হবে৷ না।

তথ্যশংগ্রহের কাজে এবং অন্যান্য নানাভাবে সাহায্য করেছেন অধ্যাপক শ্রীদ্দেবীপন্দ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক শ্রীভবতোষ দত্ত এবং অধ্যাপক শ্রীসরোজ দত্ত | গ্রন্থটি মুদ্রণ প্রকাশের ব্যাপারে সকল দ্বায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছেন স্েহাম্পদ শ্রীন্পন মজুমদার, এম-এ ; তার সহযোগিতা সক্রিয় ভূমিকা ছাঁড়া গ্রন্থটি কিছুতেই এত শীঘ্র প্রকাশিত হতে পারতো না। পাওুলিপি প্রস্ভত এবং নির্দেশিকা রচনায় সাহাধ্য করেছেন কল্যাণীয়। শ্রীমতী আলো বন্থ, এম-এ, এবং স্েহাম্পদ শ্রীশৈবাল সেনগুধ, বি-এ। এদের সঙ্গে আমার যে গ্রীতির সম্পর্ক তাতে ধন্যবাদ বাহুল্যমাত্র।

স্কটিশচার্চ কলেজ, অলোক রায় কলিকাতা ১ল! জানুয়ারী ১৯৬৪।

সচীপত্র

প্রস্তাবনা রাজেন্্রলালের জীবনকথা ভারতবিষ্ঠাচর্চার ইতিহাস ইতিহাসচর্চায় রাজেন্্লাল স্থাপত্য- ভাক্কষের ইতিহাস ইতিহাঁসচর্চায় রাজেন্দ্রলাল রাজনৈতিক-_সামাজিক ইতিহাস ভাষাতত্বচর্চায় রাজেন্্লাল সংস্কৃত ভাষা সাহিত্যচর্চায় রাজেন্দ্রলাল বাংল! ভাষা সাহিত্যচর্চায় রাজেন্দ্রলাল

পরিশিষ্ট

১. রাজেন্দ্লাল মিত্রের বংশলতিকা

২, রাজেন্দ্রলালের দেবনাগরী হস্তাক্ষর

৩. রাজেন্দ্রলাল মিজের পত্রাবলী

৪. ক. “বিবিধার্থ-সঙ্গ_হ” পত্রিকার সৃচীপত্র খ. “রহস্য-সন্দর্ভ” পত্রিকার সচীপত্র

ঘটনাপত্পী

গ্রস্থপর্তী

রাজেন্দ্রলান মিত্রের গ্রস্থাবলী রাঁজেন্ত্রনাল মিত্র সম্পকিত রচন৷ , বিবিধ

নির্দেশিকা

খ্রী ১৬6,

১৩৯

১৫৫

১৮৬

১৫

১৯ ২১

তর

৩৫ ৫৩

€৬

৬৩

চিন্র পরিচর

চিত্র নং রাজা রাজেন্্রলাল মিত্র পৃঃ চিত্র নং এসিয়াটিক সোসাইটির সহকারী সম্পাদক গ্রন্থাগারিক রাজেন্দ্রলাল পৃঃ চিত্র নং রাজেন্দ্রলালের পত্রী তৃবনমোহিনী দেবী পৃঃ চিত্র নং যুবক রাজেন্দ্রলালের প্রতিকৃতি পৃঃ চিত্রনং পরিণত বয়সে রাজেন্্লাল প্‌ঃ

চিত্র নং রাজেন্্লাল প্রণীত 77652787776 13%17,19

106972%76 0 1991 গ্রন্থের নাষপত্র পৃঃ চিত্র নং রাজেন্দ্রলাল , পৃঃ চিত্র নং রাজেন্দ্লালের পরলোকগমনের পর থিওডর

ডুক হাঙ্গেরীতে ষে-পুস্তিকা প্রকাশ করেন তার

নামপত্র প্‌ঃ

চিত্র নং ৯» রাঁজেন্দ্রলালের দেবনাগরী হস্তাক্ষর পরিশিষ্ট পৃঃ চিত্র নং ১* রাজেন্দ্রলালের ইংরেজী হস্তাক্ষর পরিশিষ্ট পৃঃ

লংক্ষেপ-সংকেত

[ বাংল! গ্রন্থ পত্র-পত্রিক! ছুটি উদ্ধৃতি চিহ্হের মধ্যে এবং গ্রস্থাস্তর্গত ইংরেজী-বাংলা রচনা একটি উদ্ধৃতি চিন্ের মধ্যে রাখা হয়েছে। ইংরেজী ্রস্থ পত্র-পত্রিকার ক্ষেত্রে ইট্যালিক্স হরফ ব্যবহার কর! হয়েছে ]

তু তুলনা ত্র” জষ্ব্য | | 4৯5 9, 3,774851805 90০12 0: 3210891, 1.” 1720-407925 ০5 1২912100151215 10105. ৩. 4.3. 13, ০7017752101 62 252150 9002660) 07 897441. ০. 1, 2, 9. 67027162101 276 20772125120 9008610,

17006624728 01 2. ও. 3. | 170086087/25 01 076 4251250

চ700, 4, ০, 53. 50026%)) 06 13671£21.

9196০7৫4---51660763 0) 48212 £21910121212 1424,

11. 10.১0. 1,290. 25) 0066551000 11102 1892,

চিত্র নং ১]

প্রস্তাবনা

'রাঁজেন্দ্রলাল মিত্র সব্যসাচী ছিলেন'১__ রবীন্দ্রনাথের এই একটি উক্তির মধ্যেই রাজেন্দ্রনীলের অন্পূর্ণ পরিচয় নিহিত আছে। উনবিংশ শতাব্দীতে বা'লা দেশে কর্মে এবং চিন্তায় যে-উদ্দীপন| অনুভূত হয়, তাকে ধারণ করার যোগ্য পুরুষ ছিলেন রাজেন্দ্রলাল। বহু শতাব্দীর অবসাদ আলম্ত সংকীর্ণতার মধা থেকে যখন বেরিয়ে আমা গেল, তখন জগং-সংসারের একটি নৃতন রূপ দৃষ্টিগোচর হওয়াই স্বাভাবিক য়ৌরোগীয় ইতিহাসে এই জাতীয় ঘটনা ঘটেছিল চতুর্শ-যোড়শ শতাঁকীতে, যাঁকে বলা হয় রেনে্সীস বা পুনর্জন্ম ভারতবর্ষে রেনে্সীস সম্ভব ছিল ন|; রাঁজনৈতিক-সাঁমাজিক-অর্থ নৈতিক কারণে ভারতবর্ষে সর্বাম্রক জীগরণ ঘটলো ন| বটে, কিন্তু চিত্তক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠলো যদি একে নবজীগবণ বলি, তাহলে সেই জাগরণ খুব ভ্রুত আমাদের সংকীর্ণ সীমাবদ্ধ ধর্ম-সমাজ-সাহিত্যের ক্ষেত্রকে প্রমারিত ক'রে দিল, বাহিবের জগতের সঙ্গে ঘটলে! আমাঁদের পরিচয় ইংরেজী শিক্ষা আমাদের দেশে শুধু বৈষয়িক উন্নতির পথ খুলে দিল না, সেই সঙ্গে বহিবিশ্বের দরজা জানালাগুনিও এরই মাহায্যে আমাদের সামনে খুলে গেল। ইহচেতনা শুধু আমাদের বাস্বব-সচেতন করলো না, আমাদের জীবন-সচেতনও ক'রে তুললো। মন্ুয্যত্রে একটি নৃতন আদর্শ ষ্টগোঁচর হলো। এই নবোপলন্ মনঘুতের সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন, কিন্ত ইয়ংবেঙ্গলের প্রবাদগ্রতিম সত্যনিষ্ঠা, 'রামমোহনের ুক্তিনির্ভরতা, বিদ্যাসাগরের হ্থাম্বস্তা, রাজেন্্রলালের জ্ঞানান্থশীলন এই পূর্ণ মনুয়াতেরই পরিচয়। এগুলিকে কিন্তু স্বতন্ত্ভাবে দেখলে চলবে না, মিলিতভাবে এদের আত্মপ্রকাশ ঘটলো! উনবিংশ শতাব্দীর মনীষায়, কর্মে, সাহিত্য

র্‌ রাজেন্দ্লাল মিত্র

রবীন্দ্রনাথ তাই রাজেন্দ্রলাল সন্থান্ধে বলেন, “কেবল তিনি মননশীল লেখক ছিলেন ইহাই তাহার প্রধান গৌরব নহে। তাহার মুতিতেই তাহার মনবব্বাত্ব যেন প্রত্যক্ষ হইত।”২ যোরোপীয় রেনেসীসের বিশ্বমানবের আদর্শের সঙ্গে একে মিলিয়ে দেখ! যেতে পারে

উনবিংশ শতাব্দীতে লক্ষ্য করি, একদিকে সমাজ-সংস্কারের উদগ্র নাঁসনা, অন্যদিকে জ্ঞানবিজ্ঞানের সোৎসাহ চর্চা। প্রকৃতপক্ষে এই টির মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না অন্যায় এবং অসত্যের সঙ্গে যুদ্ধ করাই সে-যুগে পুরুষকারের পরিচয় ছিল। কোনো অবস্থাতেই মিথ্যার সঙ্গে সহাবস্থান চলতে পারে না। বলাবাহুল্য, এর পিছনে কোনো ধর্মীয় অনুশাসন ছিল না, চরিত্রবলই প্রধান ছিল। ইয়নেঙ্গলৈর উত্তেজন। হয়তো সমাজের সবস্থরে বিস্তারিত হতে পারেনি, এবং প্র।থমিক উত্তেজনায় সষ্টির সম্ভাবনাও ছিল সীমাবদ্ধ,৩ তবু হিন্দু কলেজের ছাজ্রগোষ্ঠীর বিদেশী ভাষ। শিক্ষ। ব্যর্থ হয়নি কুষ্দাস পালের ভাষায়, ৬০ 178৮ 82612 1120 01073 8 দাবি ডেঠা, 15. 15 ৮110055 01600170[ 61186 ০৮০] 1)15 ৮1065. [10010168050 061350016 91)0010 [001 01618 ০06 1715 1০%/810. 17615 ৮7611 21701016000 0101 1919156 ৪100 80171180090, 172580 6062) 55 10617016501 ০0012 87041500065 006 10) 1)17) 51055 €101% 17085 ৪. 170 15081000855 ০০৮6] 010০ 2810) 8100 010621 6৬619 1)013696 092,8 উনবিংশ শতাব্দীতে সামাজিক, ধর্মীয় এবং রাঁজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন এরাই, অথব। এদের প্ররোচনায় অহোর1। ন্যায়শান্ত্রের চর্চ। বাণলাদেশে দীর্ঘদিন, তবু রীমঘোভনের আবির্ভাব যুক্তিবাদের নৃতন তাতপর্য ঘোষণ। করলে; ইরেজী শিক্ষার প্রয়োজন এই “নবযুক্তিবাদে'র জন্য, এই কথাটি ন| বুঝলে উনবিংশ শতাব্দীর জাগরণের পূর্ণ পরিচয় লাভ করা যাবে না। সন্দেহ এবং সংশয়ের মধ্য দিয়েই সত্যের প্রতিষ্টা, এবং এই সত্য উদ্দেশ্ত-নিরপেক্ষ নয়। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্ত্র বিদ্যাসাগর শুধু শাস্্ পাঠ শাস্ত্র সংকলনের কাজে ব্যাপৃত না থেকে বিধবা বিবাহ গ্রচলন বহু বিবাহ রহিতের কাজে এগিয়ে এলেন।

প্রস্তাবন।

মাইকেল মধুহ্দন “মেঘনাদবধ কাব্য”-এ সিদ্ধরসের ব্যত্যয় ঘটালেন শুধু হিন্দু সংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য নয়, জীবন এবং জগৎ সম্বন্ধে একটি নৃতন বক্তব্য উপস্থাপনের অনিবার্ধ প্রেরণায়। বছ্ধিমচন্দের শ্রীকৃষ্ণ তাই আদর্শ মানব, এব" সে-কথা প্রমাণ করার জন্য সহায় শাস্ত্-পুরাণ তীর স্বাধীন বুদ্ধি। প্রসঙ্গত মনে পড়বে, রঙ্গলাল, মধুস্ছদন, হেমচন্দ্র নবীনচন্দ্রের কথা, ধারা সকলেই ভারতবর্ষের পুরাণ-কাহিনী বা! প্রাচীন ইতিহাসকে তাদের কাব্যের বিষয়বস্তু হিসাবে গ্রহণ করলেন, যদি তার! সকলেই ছিলেন ইংরেজী শিক্ষিত। রাজেন্দ্রলাল বাংল! ভাষীয় রচনা, অন্নবাদ এবং পরিভাষা নির্মাণের কাজে বিশেষ উৎসাহী হওয়া! সত্বেও, বিশ্বাম করতেন ইংরেজী ভাষা-সাহিত্যের চর্চা আমাদের একান্ত প্রয়োজন, তার ভাষায়, “1176 [17005 01106 00610561565 19 06178 17181)]5 10661160002 1806: 03617 28100650015 ০16 01১6 01010661501 ০151115901022 10) 113018 7 2100 0176 50160065) 01) 1106720016১ 8700 0106 2155 01 096 20016180 আ0110 ০0৬৮০ 01761 011510 00 01021) 3) 8100 16 0065 212 00 12391180911) 01010 70:6- €1701061006) 10 15 006 05 006 10100 1151)00£ 2. 16৬ 082918160 5০100] 0090915১১৫০ ৮৮ 07০ 7:0980. 50175191076 0 29010062812 11061800106 17 10100681015, 77065 10050 01020 0560 00০ 100105810) 1768) ৪00 00905801515 00610561525 আা10) 1000016 [০৭ 56680] [97 ৪585 1020 165 50106. রামমোহন কা বি্ভাসাগরের মতো দেশহিতৈষী সংস্কৃতজ্ঞ মনীষীর পক্ষেও তাই ইংরেজী শিক্ষার পক্ষাবলম্বন সে-যুগে অনিবার্য ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর চিত্তজগতে মুক্তির স্বাদ আস! মাত্র, প্রাচীন এবং আধুনিক, ভারতীয় এবং য়োরোপীয় ভাষা সংস্কৃতির মিলন-মিখ্রণ বাঞ্ছিত হয়ে উঠলে|। বলাবাহুলা, এর পিছনে আদর্শবাদ ছিল নিশ্চয়ই, কিন্তু নিছক 'আদর্শবাদ নয়, বাস্তববুদ্ধিও একই সঙ্গে কাজ করেছে ইংরেজী শিক্ষ1 ব্যবহারিক প্রয়োজনেও কতখানি মূল্যবান, তা রাজেন্্রলাল “৬ €1028০12 চ08080102+ বিষয়ক বক্তৃতায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

রাঁজেন্ত্রলাল মিত্র

এই প্রয়োজন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা বাঁ সাফল্য অর্জনের জন্য যতখানি, ঠিক সেই পরিমাঁণেই দেশের ভবিষ্বৎ এবং জাতিগঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিদেশী ভাষা শিক্ষার মধ্য দিয়েই য়োরোপের সাহিত্য-ইতিহাস-বিজ্ঞান আয়ত্ত কর] সম্ভব। মধ্যযুগের সংকীর্ণ গণ্ডী থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে য়োরোপে যেমন একদিন গ্রীক-লাতিন ভাষাচর্চা সাহাব্য করেছিল, আমাদের দেশে ইংরেজী ভাষাচর্চা অনেকটা যেন সেই জাতীয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। অব্য য়োরোপের মধ্যযুগ সম্বন্ধে ধারণা আধুনিক গবেষণার ফলে অনেকখানি পরিবতিত হয়েছে-_ জ্ঞানবিজ্ঞামের চর্চা য়োরোপের মধাযুগেও অব্যাহত ছিল। সেদিক দিয়ে য়োরোপীয় ভাবনার সঙ্গে যোগাঁষোগ ভারতবর্ষে আরও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ; দৃষ্টিভঙ্গি তথা মূলাবৌধের পরিবর্তনের পশ্চাতে ইংরেজী ভাষা- সাহিত্যচর্চার প্রভাঁন ছিল অনেকখানি |

বুর্কহার্টের রেনে্সাসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ১৮৬০) যদিও আধুনিক এতিহাসিক গবেষণায় অনেক পরিমাণে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে,» কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রেনেসীসের সেই প্রাথমিক ধারণার মধ্যেও 417121২6৮12] 0 4১001004105” একটি প্রধান স্থান গ্রহণ করেছিল বুর্কহার্ট রেনেস্সীস-স্থাঁপত্য-ভাঙ্ষর্য এনং সাহিত্যকর্সের মধো অতীতের যে-পুনক্জ্জীবন দেখেছিলেন, তাঁকেই পরবর্তীকালের এঁতিহাসিকেরা উপযুক্ত তথ্যের সাহাযো যুগগত বিশিষ্টতা মানসভঙ্গির বৃহত্তর পটতৃমিতে তাঁংপর্ষপূর্ণ ব্যাখ্যা দিলেন। বুর্কহার্ট অবশ্য পুরাতত্ব অপেক্ষা মানবিকতাকেই বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন, এবং ব্যক্তিম্বান্থ্যবাদ তাঁর কাঁছে ছিল রেনেসীসের প্রধানতম পরিচয় ।৭ পরবর্তীকালে এরই ফলে “হিউম্যানিজম" বলতে মানবতাবাদ রেনেসীসের একমাত্র লক্ষণ হয়ে দাড়ালো অবশ্ঠ “হিউম্যানিস্ট' শব্দটির এতিহাসিক তাংপর্য বুরকহার্টের জানা ছিল, যার ফলে তার গ্রস্থের একটি পরিচ্ছেদের বিষয়বস্তু “ষোড়শ শতাব্দীতে হিউম্যানিস্টদের পতন '৮; এবং, সেখানে তিনি “হিউম্যানিস্ট” বলতে সাধারণভাবে বুদ্ধিজীবী লেখক-ধঁতিহাসিক-দার্শনিক বুঝিয়েছেন

প্রস্তাবনা

“হিউম্যানিস্ট শবটি অধুনা যে-অর্থে বছলব্যবহ্ৃত হয়ে থাকে, রেনের্সীসযুগে শব্দটি সে-অর্থে ব্যবহৃত হতো! না। ১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দে জার্যান শিক্ষাবিদ চু. 7. 16008107060 তদানীন্তন বৈজ্ঞানিক ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমের জন্য গ্রীক লাতিন ক্লাসিকৃসচর্চার প্রয়োজন আলোচনা করতে গিয়ে শেষোক্ত শিক্ষাকে 17217,2155517555 নামে অভিহিত করেন উনবিংশ শতাব্দীর অনেক এতিহাসিকও শব্দটিকে এই অর্থেই প্রয়োগ করেন। ক্লাসিকাঁল শিক্ষাক্রম হিসাবে 17%77215)57755 শব্দটির ব্যবহার নূতন হলেও, শব্দটির উৎস প্রাচীনতর লাতিন শব্দ 7227/2/52-র মধ্যে খুঁজে পাওয়। যাবে ।128719725625 1 (10000081155) শব্ষের অর্থ ছিল প্রীক-লাতিন সাহিত্যচর্চাকারী শিক্ষক ব! ছাত্র। রেনেস্সীসযুগে এই লাতিন শব্দটির যথেষ্ট ব্যবহার ছিল; আধুনিক [70008121055 অর্থে 9%2527:27722175:21£5 শকটির গুচলন সে-সময় দেখ। গেছে আধুনিক এতিহাসিক তথ্যপ্রমাণসহ দেখিয়েছেন, পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে, এমনকি তার পরে 9452 72778722185 বলতে বিশেষ একধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা বোঝাতো, যার অন্তর্গত ছিল ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্, ইতিহাস, কাব্য এবং নীতিশাস্ত্, 'এবং এগুলির চর্চা হতে যুলত প্রাচীন লাতিন লেখক এবং কিছু পরিমাণে গ্রীক লেখকদের রচনা! পাঠ এবং ব্যাখ্যাবিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে ।৯

প্রসঙ্গটি বিস্তারিত আলোচনার কারণ, প্রাচীন সাহিত্য এবং পুরাঁতত্বের চর্চা মধ্যযুগে বা অধুনা বিংশ শতাব্দীতে করা হলেও রেনেস্গীস যুগে প্রাচীন সাহিত্য-পুরাতত্ব আলোচনার কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল।৯০ প্রথমত, রোনেন্সাসযুগে জ্ঞানের চর্চা অনেক পরিমাণে আম্মসমাহিত এবং উদ্দেশ্যনিরপেক্ষ | দ্বিতীয়ত, গ্রীষ্টধর্ম বিরোধী না হলেও রেনের্সাস প্তিতেরা অধ্যাত্-সাধনার উপায় হিসাবে জ্ঞানচর্চা না করায় তাদের ক্ষেত্রে প্রসারিত হলো তৃতীয়ত, আরিস্ততলীয় দর্শনের বহু পূর্ববর্তী গ্রীক ভাষা সমগ্র সাহিত্যের চর্চ৷ দেখ! দিল রেনে্সাসযুগে চতুর্থত, প্রীচীন সাহিত্যকর্মের প্রতি অন্গরাগ

রাজেন্দ্রলাল মিত্র

্রন্ধা নৃতন সাহিত্যকর্ম স্থষ্টিতে সাহায্য করলো। এই জন্যই আধুনিক

এঁতিহাঁসিক মন্তব্য করেন, 45 ৪. 155010 6015 0:08. 117661650, ০1৪551081 5000165 0০0010120 12 005 17২20981558106 & 107)01৩ ০10012] 71206 17) 0192 01511159610 0 006 0611090, 24 9/616 00016 117010096619 1101:50 আ100 105 ০061 12062116500081 061706770125 ৪00 201)12%2102069) 0022 86 ৪29 €21161 01 18061 00706 10 006 15150015 ০৫ ৬৬ ০5662100 7.0:০০০.১১

আশাকরি, এইবার সহজেই বোঁঝ! যাবে, ফোরোপীয় রেনেনাসের ইতিহাসে পেত্রার্ক (১৩০৪-_-১৩৭৪ ), বৌকাঁচিও ( ১৩১৩--১৩৭৫ ) এবং এরাজমুসকে (১৪৬৬--১৫৩৬) কেন “হিউম্যানিস্ট' বলা হয়।৯২ মানবসংক্রাস্ত সকল বিষয়ে আগ্রহ এবং কৌতুহল নিশ্চয়ই, কিন্ত সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে পেত্রার্ক তরুণ বয়স থেকেই প্রাচীন লেখকদের পুথি সংগ্রহ এনং অনুলিপি রচনায় কী পরিমাণে আগ্রহ পোষণ করছেন, বোকাচি লাঁতিনে “ইলিয়াড”-অডিসি” অনুবাদ করছেন ( যতই ক্রাটপূর্ণ হোক না কেন সে-অন্থবাদ), এরাজমুস শুধু ইউরিপিভিস, গ্ুটারক। লুপিয়াস প্রভতির রচনা লাতিনে অনুবাদ করলেন না, সেই সঙ্গে গ্রীক লাতিন ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ করলেন, এব" এইজন্যই তাদের “হিউম্যানিন্ট' অভিধ। সার্থক। মনে রাখতে হবে, সে-সময়ে কোনে। ব্যাকরণ, ভাঁষ।-পরিচয় গ্রন্থ বা! অভিধান ছিল না, পাগুলিপি ব। পুথি ছিল ছুষ্পাপ্য, এবং দীর্ঘদিন গ্রীক ভাষাও ছিল তাঁদের অনায়ত্ত__এ- অবস্থায় ইতালিতে প্রাচীন সাহিত্যচর্চ। ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং শ্রমসাধ্য। ধারা এই কাজে এগিয়ে এলেন তাদের মধো ছিলেন ০0100-010 ১৪1801 ( ১৩৩১--১৪০৬ ), 2081)006] (0100550109185 (১৩৫০ ?--১৪১৫ ), [07381000181 (১৩৭০---১৪৪৪), [০০919 টব 1০০911 (১৩৬৩--১৪৩৭ )১ 09810 79:500191101 (১৩৮০ ১৪৫৯)।১৩ বলাইবাহুল্য, এদের অনেকে ছিলেন শিক্ষক, রেনে্গাস- যুগে নব্য শিক্ষাব্যবস্থা ক্লাসিক্সের চর্চায় সহায়তা করেছে, কিন্ত অনেকেই ছিলেন সাধারণ মান্ষ-_ ব্যবসায়ী, ভ্রমণকারী বা রাজনীতিক “হিউম্যানিস্ট” পরিচয় তাই শুধু জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় সীমাবদ্ধ ছিল না,

প্রস্তাবম। রন

বহুমুখী ব্যক্তিত্বের বিকাঁশেই তা সম্পূর্ণ” ইতালীয়রা যাকে বলতো 1715 (ইংরেজী ৮1:0০ শব্দের অর্থের সঙ্গে কোনে। যোগ নেই ) তারই প্রকাশ এদের মধ্যে, ধাদের অন্য পরিচয় (017/)675216 বা বিশ্বমানব অভিধায় ।১৪

অবশ্ঠ উনবিংশ শতাব্দীর ভারতবর্ষে ইতালীয় রেনে্সীসের আবির্ভাব সম্ভব ছিল না। য়োরোপে রেনেন্সাসের পটভূমি রচিত হয়েছে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধ'রে, তাছাড়া সেখানকার রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থাও ছিল ভিন্নতর অন্যদিকে গ্রীক-রোমান সাহিত্য শিল্প য়োরোপে নবজীবন স্থষ্টিতে যে-ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, ভারতবর্ষে সংস্কত-পাঁলি-প্রারত সাহিত্য বা হিন্দু-বৌদ্ধ শিল্প ঠিক সে-ভূমিকা' গ্রহণ করেনি। ভারতবর্ষে যে-পরিবর্তন এসেছিল তা ছিল অনেক পরিমাণে আকন্মিক এবং বিশেষভাবেই বহিঃপ্রভাব চালিত। য়োরোপে ইতিহাসের চর্চা গ্রীক-রোমানযুগ থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। রেনেন্টীসযুগের ইতিহাঁস-চেতনা বিশিষ্টতা মণ্ডিত হলেও, এঁতিহাবঞ্চিত নয়। অন্যদিকে উনবিংশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে ইতিহাসচর্চা অভূতপূর্ব ঘটনা এবং অনেক পরিমাণে যোরোগীয় এতিহাসিক গবেষণারীতির অন্নুসরণ। ফলে ভারতবর্ষে নবজাঁগরণ যে-পরিবর্তনের স্চন! করলে। তার মধ্যে পটপরিবর্তনৈর চমংকারিত্ব ছিল, কিন্তু তাঁর বিস্তার গভীরতা ছিল সীমাবদ্ধ

এ-অবস্থায় ফোরোগীয় রেনেক্সীসের হহিউম্যানিস্ট আন্দোলন ভারতবর্ষে প্রত্যাশিত নয়। তবু মনে হয়, রামমোহন, বিগ্যামাগর, বঙ্কিমচন্দ্র যেন কিয়ংপরিমীণে সেই 178-র অধিকারী, ষ1 তার্দের '£রেনে্সাস-মানব* রূপে চিহ্নিত করে। এবং “হিউম্যানিস্ট” পরিচয় এ-ফুগে, আক্ষরিক অর্থে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মধোই অনেকথানি দেখা যায়। রাজেন্্রলীলের জ্ঞানপিপাসা, পরিশ্রম, অধ্যবসায়, বান্তববুদ্ধি এতিহাঁসিকবোধ তাকে নিজের যুগেও অসামান্ততা দিয়েছে এবং এইজন্যই উনবিংশ শতাব্দীর দেশী এবং বিদেশী মনীষীরা রাঁজেজ্ুলালের প্রশংসায় এত সোচ্চার

রাজেন্্রলাল মিজ্র

রাজেন্্রলালের এঁতিহাসিক কুতিত্ব আমরা দুর্দিক থেকে বিচার ক'রে দেখতে পারি, প্রথমত পথিকৃতের ভূমিকায়, ছিতীয়ত প্রভাব *বিস্তারের গুরুত্বে এবং স্থায়ী মূল্য নির্দেশে উনবিংশ শতাব্দীতে রাঁজেন্দ্রলালের পথিক্কৎ ভূমিকাই মুখ্য ছিল। ভারতীয় পণ্ডিতের তখনও ইভিহীসচর্চ শুরু করেননি য়োরোগীয় পণ্ডিতেরা তখন ভারতবর্ষের প্রাচীন পুরাবৃত্তের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে পথ প্রস্তুত করছেন। কিন্তু য়োরোপীয় পণ্ডিতদের পক্ষে ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস গবেষণাঁয় অনেক বাঁধা ছিল,__ ভাষাগত, ধর্মগত, সমাঁজগত এবং সর্বোপরি বিজয়ী- মানসিকতাগত দূরত্ব (দ্র, “ভারতবিদ্যার্চার ইতিহাস” )। তবু তাদের হেয় প্রতিপন্ন করা যায় না। য়োরোপীয় পপ্ডিতদের ভারতচর্চা কখনো উদ্দেশ্টযুলক হলেও, অধিকাংশ সময়েই তা ছিল নিছক জ্ঞানলিগ্লা সম্পুর্ণ অজানা একটি দেশের অজান! অতীতকে আবিষ্কার ছিল অত্যন্ত ছুরহ। তবু তারা তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করলেন, দেশের ভাষা শিখলেন, সমাজের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা! করলেন, এবং স্বভাবতই এই কাজে তীর! য়োরোপে প্রচলিত এঁতিহাঁসিক গবেষণা- রীতি অঙ্জসরণ করলেন। য়োরোপীয়দের কাছে পরবর্তী ভারতীয় এঁতিহাসিকেরা তথ্যের জন্য যেটুকু খণী তার থেকে অনেক বেশী খণী য়োরোপীয় গবেষণারীতির প্রত্যক্ষ শিক্ষানবীশতার জন্য বলাবাহুলা, এর ভালোমন্দ ছুদিকই ছিল, তবু এ-কথা আজ মানতেই হবে যে, য়োরোপীয় এঁতিহাসিকদের তথাসংশ্রহ, তথাবিষ্লেষণ, রচনারীতি ভারতীয় এঁতিহাসিকদের এখনও প্রভাবিত করছে। শিলালিপি বা মুন্রার গুরুত্ব এবং তার পাঠোদ্ধার, স্থাপত্য-ভাস্বর্ষের মধ্যে ইতিহাসের সন্ধান, ভাষাতব্বচর্চার মধ্য দিয়ে অতীতের পরিচয় লাভ নিঃসন্দেহে য়োরোপীয়দের ভারতবিদ্াচর্চার প্রত্যক্ষ ফল। সাল-তারিখ, বংশলতিকা এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের বিবরণ হয়তে৷ এই কারণেই ভারতবর্ষের ইতিহাসে অধিকতর প্রাধান্য লাভ করেছে

প্রস্তাবন! $

এসিয়াটিক সোসাইটি ছিল সে-যুগে ভারতবিগ্যাচর্চার প্রধান কেন্দ্র। লৌভাগ্যক্রমে অল্প বয়সেই রাজেন্দ্রলাল এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে- ছিলেন এবং য়োরোপীয় গবেষকদের সান্লিধ্যলাভের মধ্য দিয়ে তাদের গবেষণ] পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠার স্থযোগ লাভ করেন বিভিন্ন ভারতীয় এবং য়োরোপীয় ভাষার সঙ্গে ইংরেজী ভাষার উপর রাজেন্্লীলের অধিকারও তাঁকে এব্যাপারে সাহীয্য করেছিল। রাজেন্দ্লালের বিরুদ্ব-লমালোচকেরাঁও তাঁর ইরেজী ভাষা-জ্ঞামন রচনারীতির প্রশংসা করেছেন। যোরোপীয় পণ্ডিতদের কাছে রাজেন্দ্রলাল যে- স্বীকৃতিলাভ করেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাক্মূলর তাই বলেন, 8৪৮৭ [২5161015151] 15805 9817910160£ ০0731:56 101) 102 01580650586. [76 15 ৪. [80016 05 01:9165551017) 900107615৪0 0065 58106 61006) 5010181 ৪170. 0161০ 1) 0010 961552 01 0১০ %/০010. 172 1085 ০010504 581751010 626৪ 8006 4 ০216101 50118001018 06 10081715011069) 21 18 113 ৪11015 001)610:0101)5 1০ 10106 ০0272101216 45£2150 90016) 07 32778691) 1) 1085 010৮60 171005611 ০0100166615 ৪০০৮০ 012 [01610101065 01 1015 01955) 1০০0 11010) 01) 51107560105 ৮16৮/5 010 0106 1)550015 0150 11661720076 20 [0019 10 5)1)101) 5৮615 91810002179 15 10101708170 01), 2700 01001008015 100000160 ৮10] 00056 1011170110155 01 01161015100 5/10101 17061) 110০ 0016010016১ [93561 2109. 8011001178৮ 10110/60 |) 17610 165298101)65 1100 076 110612চ 1165285011655 01 1015 00001)05. 1785 157261257% £5 76772712019 01527 972 52777916, 2772 1765 27 £77%61765 9012 20 ০৮622 £0 2119) 591757720 5070121 1) 1218212770.১১৫

ইংরেজী ভাষায় ইতিহীাসচর্চার ফলে য়োরোপে রাজেন্দ্রলাল যে- পরিচিতি লাভ করেছিলেন, বাংলাদেশে তা তিনি পাননি রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপ প্রকাঁশ করেছেন, “বাংল! ভাষায় তাহার কীতির পরিমাণ তেমন

১০ রাজেন্দ্রলাল মিত্র

অধিক ছিল না এই জন্য দেশের সর্বসাধারণের হৃদয়ে তিনি প্রতিষ্ঠ। লাভ করিতে পারেন নাই ।*১৬ ছুঃখের হলেও, সে-যুগে এই ছিল অনিবার্ধ, এবং ইংরেজী ভাষায় রাজেন্দ্রলালের রচনাবলী বাংলাদেশের জনসাধারণের কাছে অনেক পরিমাণে অপরিচিত থাকলেও, সর্বভারতীম্ম পতিত সমাঁজে এই জন্যই তার রচনাবসী স্থদূরবিস্তারী প্রভাব সঞ্চার করতে পেরেছিল এইখানে রাজেন্্লালের জীবনের একটি তথা স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি প্রথমে বেশ কিছুদিন মেডিকেল কলেজে নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করেন এবং পরে আইন পড়াঁও শুরু করেন। কিন্তু শেষ পর্যস্ত চিকিৎসক বা আইনজীবী হলেন ন! তিনি সে-স্ময়ে তীর মনে ইতিহাস সম্বন্ধে কোনে। আগ্রহ ছিল কিন| জান। যায় না, তবে নিশ্চয়ই এঁতিহামিক হওয়ার সঙ্কল্প সে-যুগে তার পক্ষে স্বাভাবিক ছিল না। এসিয়াটিক সোসাইটিতে তিনি একশত টাঁকা বেতনে যখন সহকারী সম্পাদক গ্রস্থাগারিকের কার্ধভার গ্রহণ করলেন, তখন তা ছিল তাঁর জীবিক! মাত্র। পরে দেখা গেল জীবিক। কেমন ক'রে তার সমগ্র জীবনকে নিয়ন্ত্রিত পরিচালিত করছে এব" চিকিৎসাবিছ্ঠা আইন শাস্বের শিক্ষা অর্থোপাঁজনে সাহাযা ন| করলেও, শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়নি, বাক্‌ল্যাপ্ডের ভাষায়, 71715 10179915086 ০0619 ৪100 27020101196 ৪6061558105 2090160 1100 60 ৪1001098625 1008129 00800001 0০910517075 ০098056 ০0 1)015 50055006120 11661281200 ৪1701000811817 125681015.১৯৭ উনবিংশ শতান্ধী ছিল পরিবর্তনের যুগ; অস্থির, বিজ্রোহী, সম্ভাবনাময় স্লে-সময় রাছেন্দ্রলাল যে-কোনো ক্ষেত্রেই অশেষ সাফল্য অর্জন করতে পাঁরতেন। তিনি গ্রহণ করলেন জ্ঞানচর্চার পথ,__ অনেক দুর্গম এবং বাঁধাসঙ্কুল পথ য়োরোপীয় গুণগ্রাহী প্ডিতেরা একদিকে যেমন তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছেন, তেমনি ফাগুসনের কাছ থেকে সর্বদ1, এবং ওয়েবারের (4657675) 2০৮ 15, 1879) কাছ থেকে তিনি কখনো বিছ্িষ্ট নিন্দাবাদ লাভ করেছেন। আর আমাদের দেশেও বিরূপ সমালোচনা! ছিল, রবীন্দ্রনাথ সে-প্রসঙ্গে লিখেছেন, আমার মনে আছে, এই উপলক্ষে তখনকার কালের মহত্ববিদেষী

প্রন্থাবনা ১১

ঈর্যাপরায়ণ অনেকেই বলিত যে, পণ্ডিতেরাই কাজ করে তাহাদের যশের ফল মিন্ত্র মহাশয় ফাকি দিয়া ভোগ করিয়া থাকেন ।৯৮ এমনকি বিদ্যাসাগর মহাশয় পর্যন্ত রাজেন্্রলালের সংস্কৃত ভাষায় অধিকাঁর সম্বন্ধে সন্দেহ পৌষণ করেছেন, এবং তার খ্যাতিকে ব্যঙ্গ করেছেন ।১৯ হেমচন্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজেন্দ্রলালের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, “অহংত্ব বড বেশী, নহিলে হাজার-রাঙ্গার মাথার চুড়ো তুল্য কে উহার 1২০ যশের আকাজ্া রাঁজেন্্রলালের ছিল না, এমন কথা বলি না, বরং ইতালীয় রেনের্সীসযুগে যশের প্রতি এক নৃতন ধরণের আকাজ্ষার কথা বুর্কহার্ট খুব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন-__ কিন্তু রাঁজেন্দ্লালের প্রয়াস- প্রযত্ব-নিষ্ঠ।র তুলনায় যশ তিনি অল্পই লাভ করেছেন। রেনের্সীসযুগে “অহংত্ব্' বেশী হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল কিন্ত প্রাথমিক উদ্দেশ্য যাই থাঁক না কেন, শেষ পর্যন্ত জ্ঞানচর্চাই উপায় লক্ষ্য হয়ে ওঠে এতিহাঁসিক গবেষণায় রাঁজেন্্লালের সাফল্য এবং কৃতিত্ব কতখানি তা] নিয়ে বিতর্কের অবকাঁশ থাকতে পারে, কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীতে বিরলতম ভারতীয় কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন, যিনি অন্য জীবিকার কন্ঠ প্রস্তত হয়ে ও, অন্যতর ক্ষেত্রে প্রভৃত সাফল্যলাভের স্থযোগ পেয়েও, জ্ঞানচর্চাতেই জীবন অতিবাহিত করলেন | পথিকুতের অর্ধাদী তিনি পেয়েছেন, কিন্তু সেই সঙ্গে অবিশ্বাস এবং বিদ্বেষলাভও পথিরুতের ললাটলিপি |

উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ ভারতবিদ্যাচর্চার স্বর্ণযুগ নিত্যনৃতন শিলালিপি, স্থাপতা নিদর্শন এবং প্রাচীন মুদ্রা আবিষ্কৃত হচ্ছে। য়োরোপীয় পর্যটক, রাঁজ্কর্মচারী এবং ধর্মযাঁজকেরা এগুলি সংগ্রহ করছেন বা বর্ণনা করছেন, এবং কলিকাতায় এসিয়াটিক সোসাহীটিতে রাজেন্্রলাল তাঁদের পাঠোদ্ধার ব। বিশদ্দ বিবরণ সোসাহীটর সভায় বা পত্রিকাদিতে প্রকাশ করছেন। মনে রাখতে হবে, সেই প্রাথমিক প্রয়াস-প্রচেষ্টার মধ্যে তুল ভ্রান্তি অস্বাভাবিক নয়, এবং প্রাচীন ভারতবর্ষের সমগ্র কোনো চিত্র তখনও এঁতিহাঁসিকদের কাছে স্পষ্ট নয়। প্রতি বছর অল্প অল্প ক'রে জ্ঞানের সীমা বেড়েছে পাঠোক্কার

১২ রাজেন্দ্রলাল মিত্র

এবং যুগনির্দেশ নিয়ে নানা বাঁদ-প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে রাঁজেন্দ্রলাল সেই নবাবিষ্ষারের উত্তেজনায় শতাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন বঙ্ষিমচন্দ্ 'নিজের সম্বন্ধে যে-কথা বলেছেন, রাজেন্দ্রলাল সন্বদ্বেও তা অনেক পরিমাণে প্রযুক্ত হচ্ছে পারে, “যেমন কুলি মজুর পথ খুলিয়া দিলে, অগমা কানন বা প্রান্তর মধ্যে সেনাপতি সেনা লইয়া! প্রবেশ করিতে পারেন, আমি সেইরূপ সাহিতা সেনাপতিদ্িগের জন্য সাহিতোর সকল প্রদেশের পথ খুলিয়া দিবার চেষ্টা করিতাম। বাঙ্গীলার ইতিহাস সঙ্ধদ্ধে আমার সেই মন্থুরদীরির ফল এই কয়েকটি প্রবন্ধ ।২১ রাছেন্্লীলের নিজের ভাষায়, 480 00০ 66] (০£েণ1হাত 21015801965). 200 2. 120010015 190916১২২ এঁতিহাসিক গবেষণার পথিক মাত্রেই কমবেশী পরিমাণে “মজুরদারি ক'রে থাকেন, এবং তার যুল্যও অপরিসীম ভারতীয়দের মধ্যে সে-যুগে রাজেন্দ্রলালের প্রায় একক প্রয়াস-গ্রচেষ্ট পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে এঁতিহানিক গবেষণার পথ প্রস্তত ক'রে দেয় তার অনেক মতামত পরবর্তীকালে গৃহীত হয়নি সত্য, কিন্ত এতিহাসিক গবেষণ। পূর্ববর্তী মতামতের সত্যত্বা পরীক্ষার মধ্য দিয়েই চিরকাল অগ্রসর হয়েছে

এতিহাসিক গবেষণার প্রথম অধ্যায় বিশেষ তথ্যসংগ্রহ বিশ্লেষণের মধোই সীমাঁবদ্ধ। পরবতীকালে সেই বিশেষ তথ্য অবলম্বনেই একটি সম্পুর্ণ চিত্র রচনা সম্ভব হয়। রাজেন্দ্রলালের স্থাপত্য-ভান্বর্য বা রাজনৈতিক ইতিহাসযূলক প্রবন্বগুলির মধ্যে এই সম্পুর্তা নেই। আবার প্রিদ্সেপ-কানিংহামের মতো এতিহাসিক ভৌগোলিক গবেষণার ক্ষেত্রে নৃতন দিগন্ত রাঁজেন্দ্রলাল আবিষ্কার করেননি এ-ক্ষেত্রে তিনি প্রিন্সেপ-কানিংহামের পদ্দান্টসরণ করেছেন। কিন্ত তাতেও রাঁজেন্জলালের গৌরব হ্াসপ্রাঞ্চ হয় না, কারণ সে-যুগে আবিষ্কারকের মহিমা বধিত হয়েছে আলোচকর্দের একাগ্র অভিনিবিষ্ট ব্যাখ্য।-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে রাজেন্দ্রলাল হয়তো নৃতন কিছু আবিষ্কার করেননি, কিন্তু সগ্যাবিষ্কৃত তথ্য- পুঞ্নকে য়োরোপীয় এতিহাসিক পদ্ধতিতে ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম বিচার করতে শিখেছেন, এবং এই বিচার-বিশ্লেষণের মৃল্যও কম নয়।

প্রস্তাবনা ১৩,

রাজেন্দ্রলালের এঁতিহাসিক বিশ্লেষণী-মন, তথ্যনির্ভরতা, ঘুক্তিপারম্পর্য, সত্যনিষ্ঠা এ-যুগেও এতিহাসিকদের শ্লাঘাঁর বস্ত। রাঁজেন্দ্রলাল সম্পাদিত স্কৃত বৌদ্ধ গ্রন্থগুলি সম্বন্ধে মন্তবা করতে গিয়ে বিলাতের রয়াল এসিয়াটিক সোসাইটির জার্ণালে তাই একজন লিখেছেন, 115655 ০11৪, 01)01181) 0৮100 1068185 1৩16601) 616 01)2 0010 091 1000018 18001 7 0055 17856100806 002 £6106191 0106105 06 (1১65০ 0995 8006551016 0০ 50101815) 2150 111 19855 71219812৫ 6) 25 101 075 00016 21001 ০96 ০1101081 ৪101019,২৩ স্থতরাং পরবর্তীকালে উইপ্টারনিজ যখন রাজেন্দ্রলাল সম্পাদিত “ললিতবিস্তর”-কে 565 0115 বা 17652715726 887715 17161217501 12721 গ্রন্থে তার কোনো মতকে 5::0109005 8681৩- 0018২৪ বলেন, বা কাওয়েল-নেইল “দিব্যাবদান” সম্পাদনাকালে২৫ রাজেকন্্লাল-প্রদত্ত পাঠ গ্রহণ করেন না,__ তখন তাঁর জন্য রাজেন্্রলালকে দায়ী করা অন্যায় হবে। মনে রাখতে হবে, রাজেন্্রলালের প্রাথমিক এই প্রচেষ্টাগুলির অসম্পূর্ণতার জন্য দায়ী একাধিক পুখির অভাব এবং ভ্রাস্তিসংকুল কয়েকটি পুথির উপর নির্ভরতা, যা সে-সময়ে ছিল অনিবার্ধ অন্যদিকে রাজেন্দ্লালের ভ্রান্তি পরবর্তীকালে এতিহাসিকদের সত্যতা নির্ধারণে অধিকতর সাহাঁধা করেছে, এবং সে-জন্য এ-যুগের এতিহাসিকের! পথিরুং রাঁজেন্দ্রলালের কাছে খণী।

ভারতবর্ষে ইতিহীসচর্চার হুচন। এসিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ধরা হলেও, ভারতবাসীর মধ্যে এ-বিষয়ে আগ্রহ জেগেছে অনেক পরে। বাংলাদেশে রাজেন্দ্রলাল, এবং বাংলার বাইরে ভাউ দাজী, রামক্ গোপাল ভাগ্ারকর, ভগবান ইন্দ্রজী প্রভৃতি কয়েকজন ছিলেন ভারতবিগ্ঠাচর্চার আদিষুগে প্রথম ভারতীয় পুরাতান্বিক। বলাবাহুল্য, এ'দের প্রভাব অনতিপরবর্তী ভারতীয় এঁতিহাঁসিক গবেষকদের

১৪ রাজেন্জলাল মিজ্র

উপর প্রবলভাবে লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চার মুলে বঙ্কিমচন্দ্রের গ্ররৌচন। ছিল সবাধিক। বঙ্কিমচন্দ্র নিজে বাংলাদেশের ইতিহাস রচনার কথা ভেবেছেন, এবং যদিও তিনি সে-গ্রস্থ শেষ পর্যস্ত লিখে উঠতে পারেননি, তবু বিচ্ছিন্ন একাধিক প্রবন্ধের মধ্যে তাঁর সংকল্প সামর্থ প্রমাণিত হয়েছে ১২৮১ সালের মাঘ মাসের “বঙ্গদর্শন” পর্জিকায় “লাঙ্গীলার ইতিহাস প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছেন) “এক্ষণে বাঙ্গলর ইতিহাসের উদ্ধার কি অলম্ভব? নিতান্ত অসম্ভব নহে। কিন্ধ সে কার্ষে ক্ষমতাবান্‌ বাঙ্গালী অতি অল্প। কি বাঙ্গালী, কি ইংরেজ, সকলের অপেক্ষা যিনি এই দুরূহ কার্ষের যোগা, তিনি ইহাতে প্রবৃত্ত হইলেন না। বাবু রাজেন্দ্রলাল মিত্র মনে করিলে স্বদেশের পুরাবৃত্ত উদ্ধার করিতে পারিতেন। কিন্তু এক্ষণে তিনি যে পরিশ্রম স্বীকার করিবেন, আমর। এত ভরস। করিতে পারি না।” বস্কিমচন্দ্রের আক্ষেপের কারণ, রাজেন্দ্লাল বাংল!দেশের ইতিহাস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি অবশ্য পাল-ও সেন-যুগ সথ্ন্ধে রাজেন্ত্রলালের গ্রবন্ধাটি বঞ্ষিমচন্ত্র বারংবার উল্লেখ করেছেন ; “বাঙ্গালার কলঙ্ক” ( “প্রচার”, শ্রাবণ ১২৯১) প্রবন্ধে তিনি রাজেন্দ্রলালের মতামত বিস্তারিতভাবে আলোচন! করেছেন, পণ্তিতবর ডাক্তার রাজেন্দ্রলাল মিত্র পালবংশীয় এবং সেনবংশীয় রাঁজ।দিগের সম্বন্ধে যে সকল এঁতিহাসিক তত্ব আবিষ্কৃত করিয়াছেন, আঁঘাদের মতে তাহা অথগ্তনীয়। কোন ইউরোপীয় বা এতদ্দেশীয় পণ্ডিত বিষয়ে এতটা মনোযোগী হন নাই কেহই তাহার মতের সংপ্রতিবাদ করিতে পারেন নাই। আমরা জানি যে, তাহার মত সকলের গ্রাহ হয় নাই ; কিন্ত বাহার! তাহার প্রতিবাদী, তাহাঁরা এমন কোন কারণ নিদ্ধীরণ করিতে পারেন নাই, যাহাতে সত্যানুসন্ধিৎনু ব্যক্তি ডাক্তার রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মত অগ্রাহ করিতে সম্মত হইতে পারেন। গথ. কর্তৃক রোম ধ্বংস হইয়াছিল, বজাজেৎ দ্বিতীয় মহম্মদ গ্রীক সামাঁজ্য বিজিত করিয়াছিল, সকল কথা যেমন নিশ্চিত এতিহামিক, বাবু রাজেন্দ্রলাল মিত্র কর্তৃক আবিষ্কিত সেন-পাঁল-সম্বাদ আমরা তেমনি নিশ্চিত এভিহামিক মনে করি এছাড়া বন্গিমচন্দ্রের

প্রস্তাবন! ১৫

আরও কয়েকটি প্রবন্ধে (“বাঙ্গালার ইতিহাস সন্বদ্ধে কয়েকটি কথা?, বক্কে ত্রাঙ্মণাধিকার? ) রাজেন্জলালের মতের সমর্থন আছে রাজেজ্জলালের এতিহাসিক গবেষণার প্রতি এই শ্রদ্ধা “বঙ্নদর্শন”-এর লেখকগোষ্ঠীর ২৬ মধ্যেও সঞ্চারিত হতে দ্েখি। হেমেন্ত্রপ্রসাদ ঘোষ রাজেন্্লালের প্রভাব নির্দেশ কালে বিশেষভাবে রাজরুঞ্জ মুখোপাধ্যায়ের €১৮৪৫_-৮৬ ) নামোল্লেথ করেছেন।২৭ বঙ্কিমচন্দ্র প্রশংসিত নব্বই পৃষ্ঠার “প্রথম শিক্ষা বাঙ্গালার ইতিহাস” (১৮৭৫) গ্রন্থে নয়, “ব্জগদর্শন”-এ প্রকাশিত রাজরু্জের অধিকাংশ মূল্যবান প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে “নান। প্রবন্ধ” (১৮৮৫) গ্রস্থে; এবং রাঁজকুষ্ণ 'এতিভাঁসিক ভ্রম, “প্রাচীন ভারতবধ”, শ্রীহষ” 'ভারতমহিমা” প্রভৃতি প্রবন্ধে স্পষ্টতই রাজেন্দ্রল।লের অনুসরণ করেছেন সংস্কত পুরাণসাহিত্য বিদেশী এঁতিহাসিক গবেষণাকে রাঁককৃষঃ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছিলেন রামদাস মেন ( ১৮৪৫-__৮৭ ) “বঙ্গদর্শন”-এর লেখক ছিলেন। সে-যুগে বাঙালী এঁতিহাসিক পুরাতাত্বিকদের মধ্যে রাজেন্দ্লালের পরই রামদাঁস সেনের নাম করতে হয়। রামদাসের “এতিহামিক রহস্ত্য”-এর (তিন খণ্ড) ১৮৭৪১ ১৮৭৬১ ১৮৭৯) অনেকগুলি প্রবন্ধ রাজেন্দ্রলাল সম্পাদিত “রহশ্যসন্দর্ভ” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। “বৌদ্ধধর্ম, “শাক্যসি'হের দিখ্িজয়”, 'পালিভাঁষ! তৎসমাঁলোচন,, 'শালিবাহন, বা সাতবাহন নৃপতি”, “বৌদ্ধজ/তকগ্রস্থ' প্রভৃতি প্রবন্ধে রাজেন্দ্রলালের প্রভাব অনুভব করা যায়। ভারত রহন্য” ( ১৮৮৫ ) ্রস্থটিতেও রাজেন্দ্রলালের মতোই রাম্দীস প্রাচীন ভারতবর্ষের সামাজিক রীতিনীতির পরিচয় দিয়েছেন। তবে রাঁমদাস অধিকাংশ প্রবন্ধ বাংলা ভাষায় লেখার ফলে বিদেশী পণ্ডিতদের কাছে তেমন পরিচিতি লাভ করেননি সমসাময়িক পত্রিকায় ছুজনের তুলনাশ্ত্রে তাই মন্তব্য করা হয়, 4১5 22 €212250 ৪20 10061801680165 30070618001 [1001917) 21000310655) 106 (18100 1085 9612) 1185 1509 61181 10 01515 ০০এাএপাড) আ10) 0176 5100516 65:021016102 01 101 1২81০100191918 ৬1108, 306 :176 15) হা 0106 1557960) ৪. 8168061 02175668000: €০ 1015 ০200005 00212 6৮67 [00 11108. 1010 10515

১৬ রাজেন্দ্রলাল মিত্র

৪0017081181) 30285 815 ৪. 588160 1১0০015 00 (1১056 1১0 1090৬ 006 77081157101 [২817 1085 9188 21300021181 71101089216 0021 00 013052 13০ 100৬ 0015 130172811) ৪৪ 611] ৪3 01956 7100 1:2০ 8:051190.২৮ “বঙ্গদর্শন”এর আর একজন লেখক প্রফুল্লচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (1--১৯০০ ) ধার “বাল্সীকি তংসাময়িক বৃত্তান্ত” সে যুগে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল প্রফুল্লচন্দ্রের “শরীক হিন্দু” গ্রন্থ সমসাময়িক বিতর্কের ফল। রাজেন্্লালের এঁতিহাঁসিক পদ্ধতি তিনি গ্রহণ না করলেও, যুগগত প্রভাব তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।

এতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে রাজেন্দ্রলীলের যোঁগা শিষ্য নিঃসন্দেহে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ( ১৮৫৩--১৯৩১)। হরপ্রসাদও “বঙ্গদর্শন"-এর অন্যতম লেখক ছিলেন। এসিয়াটিক সোসাইটিতে হরপ্রসাদ রাজেন্দ্রলালের সহকারী হিসাবে দীর্ঘকাল কাঙ্জ করেছেন (সম্ভবত ১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দ থেকে )। 772 52752£7£613542171856 18672626০02 19121 গ্রন্থের ভূমিকার রাজেন্দ্রলাল হরপ্রসাদের কাছে বিশেষ খণ স্বীকার এবং অশেষ প্রশংসা করেছেন সংস্কৃত পুথি সংগ্রহ তালিকা সম্পাদনের কাজ রাজেন্দ্রলালের অবর্তমানে হরপ্রসাদ শান্মীর উপরই এসে পড়ে রাজেজ্জলাল 1798065 07 527572756 211278507105-এর ১ম খণ্ড ১ম ভাগ ১৮৯০ পর্যন্ত প্রকাশ করেন; ১ম খণ্ড ২য় ভাগ ১৮৯২ থেকে হরপ্রসাদ প্রকাশের দায়িত্ব নেন। শান্্ী মহাশয় এই প্রসঙ্গে লেখেন, 7106 00009096101 50115001097. 50809 2৮ 01:65$6176 11) 2643 01 07655 3১ 156 ০1০ ০01165066৮5 00 11105001905 71606063801 [২৪18 [২81৩0019191 105, 1.1... 0.1. দা, ৪10 011০ 1656 95 1005 1)00901৩ 5616.” ২৯ রবীন্দ্রনাথ পরবর্তীকালে রাজেন্জ্লাল এবং হরপ্রসার্দের মধ্যে তুলনাস্থত্রে মন্তব্য করেছেন, “আমার মনে এই দুইজনের চরিত-চিত্র মিলিত হয়ে আছে। উভয়েরই অনাবিল বুদ্ধির উজ্জ্বলতা একই শ্রেণীর। উভয়েরই পাগ্ডিত্যের সঙ্গে ছিল পারদশিতা,_ যে কোনে বিষয়ই তাঁদের আলোচ্য ছিল, তার জটিল

প্রস্তাবনা ১4

্রন্থিগুলি অনায়াসেই মোচন ক'রে দিতেন জ্ঞানের গভীর ব্যাপকতার সঙ্গে বিচারশক্তির স্বাভাবিক তীক্ষতার যোগে এটা সম্ভবপর হয়েছে তাদের বিদ্যায় প্রাচ্য পাশ্চাত্য সাধন-প্রণ[লী সম্মিলিত হয়ে উৎকর্ষ লাভ করেছিল ।”৩০ সাদৃশ্ত নান! ক্ষেত্রে-_- সংস্কৃত পুরাণ এবং সাহিত্যের প্রতি দুজনেরই গভীর আকর্ষণ, যদিও সাহিত্যরসাম্বাদনের ক্ষমতা! হরপ্রসার্দের তুলনায় রাজেন্দ্রলীলের কম; বৌদ্ধধর্ম শাস্ত্রের প্রতি হরপ্রসার্দের কৌতুহল এবং নিষ্ঠাপূর্ণ গবেষণ! অনেকখানি রাঁজেন্্রলালের কাছ থেকে পাওয়া; “পাথুরে প্রমাণের উপর হরপ্রসাঁদের নির্ভরতা কম ছিল না, তবে রাজেন্দ্রলাল অনেক বেশী পরিমাণে সেই জাতীয় প্রমীণের উপর নির্ভরশীল, ঘাঁর ফলে শিলালিপি বা! মুদ্রা পাঠোদ্ধার, সাঁল-তারিখের স্থ্ম ফারাক নিয়ে তর্কবিতর্ক, ভাস্কর্য স্থাপত্যের অনুসন্ধান স্বাতন্্র্য- নির্দেশ ইত্যাদি নিয়ে রাজেন্দ্লাল অনেক বেশী ব্যস্ত; অন্যদিকে হরপ্রসাঁদের রচনায় ইতিহাসের স্বাভাবিক পারম্পর্যের অনুসরণেই এসেছে সম্পূর্ণতর দৃষ্টিভঙ্গি, তথ্যবিশ্লেষণ থেকে শুরু ক'রে সামাজিক ধর্মীয় পটভূমিতে ভারতবর্ষের ইতিহাস ব্যাখ্যার চেষ্টা। প্রসঙ্গত মনে রাখ৷ দরকার, হরপ্রসার্দ ছিলেন প্রকৃত সাহিত্যিক, ষ! রাঁজেন্্লাল কোনোদিন ছিলেন নী, ফলে ছুজনের রচনাভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য ছিল অনিবার্ষ রাঁজেন্দ্রলালের প্রতি হরপ্রসাদ শান্সীর শ্রদ্ধাবোধ একাধিক স্থানে প্রকাশ পেয়েছে ; রাজেন্্ল'লের জীবতকাঁলে বাংলাসাহিত্য পর্যালোচনাকালে তার মস্তবা, "ইহার বিবিধার্থ সঙ্গ_হ বাংলাদেশের সর্বপ্রধান সর্বপ্রথম সাময়িক পত্রিকা। বাঙ্গালা ইংরেজীতে ইনি নিজে দক্ষাগ্রগণ্য, বাঙ্গালার মঙ্গলের জন্য ইহার চেষ্টারও কিছু মাত্র ত্রুটি নাই। ইনি বরণেকুলার লিটরেচর সোসাইটি এবং স্কুল বুক সোসাইটির অন্যতম সভ্য হইয়া কত গ্রস্থকাঁরকে যে উৎসাহ দিয়াছেন তাহা কে বলিতে পারে। কিন্ত ইনি বাঙ্গালা ছাড়িয়া এক্ষণে ইংরেজী লইয়৷ অধিক ব্যস্ত হইয়াছেন। এত বড় লোঁক বাঙ্গালার লেখক হইলে বারঙ্গালার যে উপকার হইত তাহা হুইল না, এজন্য আমরা দুংখিত সন্দেহ নাই। কিন্তু ইনি ভারতের প্রাচীনতত্ব আবিষ্ষার করিয়৷ বাঙ্গালার যেরূপ গৌরববৃদ্ধি করিক্সাছেন,

১৮ রাজেজ্্লাল মিত্র

তাহা আর কোন একজন লোক বা একটি সোসাইটির - ছারা হয় নাই ৩৯

রাঁজেন্্রলালের সমসাময়িক এবং অনতি-পরবর্তী এতিহামিকেরা অনেকেই তার রচন! থেকে বহু উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। সমসাময়িক- কালে য়োরোপীয় এতিহাসিক ধারা রাজেন্দ্রলীলের মতামত আলোচনা করেছেন এবং তার কাছে কৃতজ্ঞত। স্বীকার করেছেন, তাদের কথা৷ বর্তমান গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে রোপার লেব্রিজ ভার 21 2259) 178002552010 £0 07612858019) &ে 36908৮21919 01 18188] (১৮৭৪) গ্রন্থের ভূমিকায় হিন্ূযুগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে রাঁজেন্্রলীলের কাছে খণ স্বীকার করেছেন রমেশচন্দ্র দত্তের ( ১৮৪৮-_ ১৯০৯ ) উপর রাজেন্দ্রলালের প্রভাব আরও অনেক ব্যাপক এবং তাৎপর্য- পূর্ণ মনে হয়। রমেশচন্দ্র তার প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস রচনায় রাজেন্দ্রলালের প্রবন্ধা্দি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন; পরবর্তীকালে তিনি লিখেছেন, 916 0015 ০9০০9100150 ৪০10)012081076 105 85৪6 £50666017658 0০ 01638 ৮০1011068) (যথ। 1%4০-2797%5-এর প্রবন্ধাবলী এবং উড়িস্যা বুদ্ধগয়! সংক্রান্ত গ্রন্থ )1॥ ড/710108 005 011 0. 077/2152218017% £%:27501677 11৮2.১৩২ রাঁজেন্দ্রলালের কাছে পরবর্তী এঁতিহাসিকদের সবচেয়ে বেশী খণ, তার সংস্কৃত পুথি সংগ্রহের তালিকার জন্য রমেশচন্দ্র তো! বটেই, এমনকি বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্্ রায়ও (১৮৬১--১৯৪৪) তার £ 122851079 ০01 1727211 07677151 €(১৯০২-০৯) রচনাকালে রাজেন্দ্রলালের সাহায্য গ্রহণ করেছেন ।৩৩ প্রফুল্লচন্দ্র রাঁয় তার আ্মজীবনীতে লিখেছেন, “105 ড71101285 ০: 51800118 01)015015, 88106101 02 ৬1101161210 1015 ৪8০ 2150 ০0: [২.8100085 ১218 08 0106 8£2 01 %9119858 20০১ 16160 00 515০ 206 1 0126101211691) 06206, [60517000105 105৮1 76 00606101860 11616 0080 006 8100165 21 01)6 17112276762 52788727275 [২9021501918] 10108 02 006 961) 08193 01 1360£81১ 10 0১6 1155 সা: 20:50015015 178 0015 117.৩৪ রাজেন্ত্রলালের

প্রত্তাবনা ১৯

প্রাকৃত-ভূগোল, ভূতত্ব, জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রবন্ধাবলীও প্রফুল্পচন্্রকে বিশেষভাবে আকুষ্ট করেছিল ।৩৫

উনবিংশ শতাব্দীর শেষপাদদ থেকেই ক্রমশ বাংলাদেশে ইতিহাস রচনার একটি স্বতন্ত্র প্রেরণ। প্রবল হয়ে ওঠে রাজেন্দ্রলালের ইতিহাস- চর্চার মধ্যে ছিল নিছক জ্ঞানপিপাস!, সত্যাবিষ্ষারের আগ্রহ কিন্ত অনতিপরে ইতিহাঁসচর্চায় ষে-প্রচণ্ড গতিবেগ এল, তার পশ্চাতে ছিল নবোখিত দেশাত্মবোধের উন্মাদনা হয়তো বস্কিমচন্দ্রেরে এতিহাসিক প্রবন্ধগুলির মধ্যেই এর বীজ ছিল, কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই জাতীয় গৌরব প্রমাণের আকাঙ্ষা, বর্তমান দৈন্য বিস্বাতির উপায় হিসাবে অতীতমুখিতা, ব্বদেশকীতির স্মরণে আত্মস্লীঘ! ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠলো দুদিক থেকে এর প্রয়োজনীয়তা ছিল ; প্রথমত, এরই ফলে জনসাধারণের মধ্যে ইতিহাস পাঠের আগ্রহ দেখা দিল; দ্বিতীয়ত, উদ্দেশ্ঘূলক রচন! বলেই এফুগের এঁতিহাসিক প্রবন্ধাবলীর মধ্যে একটি সমগ্র দৃষ্টিভজি প্রকাশ পেল। [বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছেন, “কোন দেশের ইতিহাস লিখিতে গেলে সেই দেশের প্রকৃত যে ধ্যান তাহ। হৃদয়ঙগম কর] চাই ।” (“বাঙ্গালার ইতিহাসের ভগ্নাংশ? )। রবীন্্রনাথও লিখলেন, ইতিহাসের পথ বাহিয়। ভারতবর্ষকে ঘ্দি আমরা সমগ্রভাবে দেখিতে পাই আমাদের লজ্জা পাইবার কারণ ঘটিবে না ।” (“এ্রতিহাসিক চিত্র” )। ] বলাবাহুল্য, রাজেন্্রলালের যুগের সঙ্গে এ-যুগের পার্থক্য সুস্পষ্ট।

এযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ এতিহামিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ( ১৮৬১---১৯৩০ ) তার “সিরাজদ্দৌলা” ১৮৯৮ ) গ্রন্থে অন্ধকুপ হত্যার কলঙ্ক দূর করলেন। তাঁর “মীরকাসিম” (১৯০৬) গ্রন্থটির মধ্যেও দেশাত্মবোধের প্রত্াক্ষ প্রকাশ অক্ষয়কুমারের “উ্রতিহাসিক চিত্র” (১৮৯৯ ) ত্রৈমাসিক পত্রের প্রশংসায় রবীন্দ্রনাথ উচ্ছৃসিত, কারণ ““এঁতিহাসিক চিত্র” ভারতবর্ষের ইতিহাসের একটি স্বদেশী কারখানাম্বূপ খোলা হইল। এখনো ইহার

নু ৯১

২০ রাজেন্দ্লাল মিত্র

মূলধন বেশি জোগাড় হয় নাই, ইহার কল-বলও স্বপ্প হইতে পারে, ইহার উৎপন্ন দ্রব্য প্রথম প্রথম কিছু মোটা হওয়া অসম্ভব নহে, কিন্ত ইহার দ্বারা দেশের যে গভীর দৈন্ত-_ ঘে মহৎ অভাবমোঁচনের আশা কর! যায় তাহা বিলাতের বস্তা! বস্ত! সুক্ম স্ুনিমিত পণ্যের ছার! সম্ভবপর নহে ।”৩৬

এঁতিহাসিক উপন্যাসের সুচন! হয়েছিল বঙ্ধিমচন্জ্রের হাতে ; ক্রমশ এইযুগে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠলো রমেশচন্দ্র দত্ত, হরপ্রসারদ শাস্ত্রী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টায়। শুধু তথ্যসংগ্রহ ব৷ ইতিহাঁস রচনা ক'রেই এঁতিহাসিকদের দায়িত্ব শেষ হলো না, তাকে জনপ্রিয় ক'রে তোলাও প্রয়োজন সেজন্য ইতিহাসকে সাহিত্য রপাশ্রিত হয়ে উঠতে হলো নিখিলনাঁথ রায়ের ( ১৮৬৫--১৯৩২ ) “মুশিদীবাদ কাহিনী” (১৮৯৭) এই জাতীয় গ্রন্থের সুন্দর নিদর্শন কিন্তু রবীন্দ্রনাথ “সিরাজন্দৌলা” এবং “মুশিদাবাদ কাহিনী”র প্রশংসা সত্বেও সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, প্রথম ্রস্থটিতে “কিঞ্চিৎ অধৈর্য আবেগ" প্রকাশিত হয়েছে, দ্বিতীয় গ্রস্থটিতে লেখক যেখানে 'অলঙ্কারপ্রয়োগের প্রয়াস পাইয়াছেন সেখানে তাহার লেখার লাবণ্য বৃদ্ধি হয় নাই, পরন্ত তাহা ভারগ্রস্ত হইয়াছে ।”৩৭ রাঁজেজ্লালের এঁতিহাসিক প্রবন্ধীবলীর সঙ্গে পার্থক্য প্রদর্শনের জন্যই বর্তমান প্রসঙ্গটি উখিত হলো

অবশ্ঠ রজনীকান্ত গুপ্ের (১৮৪৯-__-১৯০০ ) “সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস” (১৮৭৯-১৯০০ )ও “বাঙ্গালার ইতিহাস” (১৮৯৯), রাখালদাস বন্দ্যো- পাধ্যায়ের ( ১৮৮৬--১৯৩০ ) 17762212507 7327£21 (১৯১৫) “বাঙগালার ইতিহাস” (১৯১৫-১৭), কালীপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বাংলার ইতিহাস নবাবী আমল” (১৯০১) “মধ্যযুগের বাংলা” (১৯২৩), এবং সর্বোপরি রমা প্রসাদ চন্দের “গৌড়র(জমাল1” (১৯১২) “গৌড়লেখ- মালা” (১৯১২) নিঃসন্দেহে তথ্যমুলক বিশ্লেষণধ্মী রচনার নিদর্শন এই গ্রস্থগুলির মধ্য দিয়েই রাজেন্দ্রলালের পরোক্ষ প্রভাব বিংশ শতাব্দীর প্রথমপাদ পর্যন্ত প্রবাহিত

পরবর্তীকালে ইতিহাস রচনার ধারা আবার পরিবতিত হয়েছে ।৩৮

প্রস্তাবন! ২১

কিন্তু বর্তমান প্রসঙ্গে সে-আলোচনার প্রয়োজন নেই রাজেন্দ্রলালের প্রত্যক্ষ প্রভাব বহুদিন পূর্বেই অবসিত, পরোক্ষ প্রভাবও আর নেই বললে চলে

ইতিহাসচর্চার পক্ষে এটাই স্বাভাবিক এবং অনিবার্|। আকরগ্রন্থ হিসীবে রাজেন্দ্রলালের অনেক প্রবন্ধ এবং বিশেষত সংস্কৃত পুথির তালিকা আজও

এতিহাসিকেরা ব্যবহার ক'রে থাকেন এর দ্বার! রাঁজেন্দ্রলালের আজীবন ইতিহাসচর্চার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয় না, বরং এঁভিহাঁসিক গবেষণার প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই তার প্রাথমিক প্রয়াস সার্ঘকতর হয়ে উঠেছে অতীতের অন্ধকার জগংকে আলোকিত ক'রে তোল, তথ্য অন্বেষণের মধ্য দিয়ে সত্যকে উদ্ঘাটিত করাই ছিল রাঁজেন্্লালের জীবনের ব্রত ; আধুনিক গবেষণায় সেই অতীতের পটভূমি উজ্জলতর হয়ে উঠেছে, নৃতন আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই উনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসচর্চা এ-যুগে সার্থকতা লাভ করেছে

রাজেন্্রলালের জীবৎকালেই তার পরিচয় দিতে গিয়ে একজন কবি লিখেছেন, “বিজ্ঞেন্্র রাজেন্দ্লাল বিজ্ঞান-আধাঁর, বিলাত পর্যন্ত খ্যাতি হয়েছে বিস্তার; ভূতপূর্ব-বিবরণে দক্ষতা অক্ষয়, ক্ষত্র-বংশে তুলেছেন সেনরাজচয়, রহস্তাসন্দত-পত্র-যোগ্য-সম্পান্ক, পিতৃহীন ধনশালী শিশুর শিক্ষক | ৩৯ প্রধানত এঁতিহাঁসিক এবং পুরাতাত্বিক রূপেই রাঁজেন্দ্লাল পরিচিত হলেও, সে-ই তাঁর একমাজ্র পরিচয় নয়। বাংলা ভাষা! সাহিত্যের ইতিহাসেও তিনি চিরম্মরণীয় হয়ে থাকবেন “বিবিধার্থ সঙ্গ হ” “রহস্য সন্দর্ড”-এর সম্পাদক রূপে যদিও তিনি কোনে! অর্থেই সাহিত্যিক ছিলেন না, তবু মাতৃভাষার প্রতি মমত! এবং আকর্ষণ তাঁকে বাংলা

২২ রাঁজেন্দ্রলাল মিত্র

মাসিকপত্র সম্পাদনা, পরিভাষা নির্মাণ এবং বিগ্যার্থী তরুণদের জঙ্ক নানাধরণের পুস্তক রচনায় প্রবুদ্ধ করেছে বিশেষত বাঁংলায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা! রচনায় তাকে ভারতবর্ষে পথিকুতের মর্ধাদ। দেওয়া ঘায়। সাহিতা সমীলোচনার ক্ষেত্রেও তিনি আদর্শ স্বাপন করেন, যা বহু পরিবর্তনের মধা দ্রিয়ে হলেও আজও অব্যাহত আছে

অন্যদিকে রাঁজেন্দ্রলালের বহুমুখী কর্মপ্রয়াস শুধু জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা পুস্তক প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল ন1, উনবিংশ শতাব্দীর ছিতীয়ার্ধের যাবতীয় রাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশ