ব্নকুুনেলল্র স্ুুতন্স পঙ্স

ভবানী মুখোপাধ্যায়

সসন্ভ্রিচ্স্ গ্পান্যভিলম্পাঙ্ল'

এপখ্ ব্য সেপ্টেম্বর, "৬১ ইহ

এপক্কাস্ণপক্ষ 2

পরিচয় পাবলিশার্স

৩/১, নফর কোলে রোড, কলি কাতা-১৫

ক্ঞাকব £ জীসত্যেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত নিরুপ্মা প্রিন্টিং ওয়ার্কস্‌ ৩/১, নফর তোলে রোড, কলিকাতা-১৫

একটি কিউরিও

সে গল্পটি লিখতাম না। সকলকে সাবধান করবার জঙন্তই হএঞচানও অচেনা দোকান থেকে অপ্রচলিত মূল্য দিয়ে কোনও , লনিবেন না। চেনা দোকান থেকে নগদ টাকা দিয়ে জিনিস সার এলো শব ্ীলোক। ইচ্ছে করেই আমার নামটা গোপন রাখছি বাছি তা গল্পটা পড়লেই আপনার! বুঝতে পারবেন এর বয়স তখন ষোলো বাবার একমান্ত্র সন্তান আমি। প্রত গভর্ণমেপ্টের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ছিলেন। প্রায়ই তাকে টার বাইরে যেতে হ'ত। ইয়োরোপের নানা দেশে, আমেরিকায় (মন? ইজিপ্টেও যেতেন তিনি। আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। গ্রনাটি বলছি সেটি কায়রো শহরে ঘটেছিল বাব একদিন মাঃ £ বললেন--আমি একট! জরুরী “কেবল? পেয়েছি আজই মন" লগ্তনে যেতে হবে। তুই একলা! থাকতে পারবি তো। ? ১৯ বলাম__'খুব পারবো! ক'দিন দেরি হবে তোমার ?" টন চার দিনের মধ্যেই ফিরব।” ষষ্ট ব্ব। চলে গেলেন। মি বিকেলে একাই বেরিয়ে পড়লাম কায়রে। শহরের অতীত টা নেক রহস্যময় কাহিনী আছে মনে হল এই বিজ্ঞানের কৌথাও কি কিছু অবশিষ্ট আছে আর? অন্যমনস্ক লাগলাম রাস্তায়। কতক্ষণ ঘুরেছিলাম জানিন! হঠাৎ গল /র করলাম অনেক রাত হয়ে গেছে আর আমি একট! সরু গলির ডিয়ে আছি। দেখলাম সেখানে সারি সারি অনেক দোকান একটি ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন রাস্তা দিয়ে, তাকে প্রশ্ন করলাম--.

“ওগুলে। কিসের দোকান ? তিনি বললেন,--অনেক রকম দো আছে। ছৃচারটে ভাল “কিউরিও শপ আছে ওখানে তিনি যাবার পরও আমি খানিকক্ষণ দাড়িয়ে রইলাম সেই গলিটার দি চেয়ে। একটা দোকানের একটা উজ্জ্বল আলো মনে হল ইশার আমাকে যেন ডাকছে আমার সঙ্গে টাকা ছিল। ঢুকে পড়ত গলিতে এবং সোজা সেই দোকানটার সামনে গিয়েই দাড়াল" দেখলাম দোকানদার একজন রূপবান যুবক। মনে হল ইচ্ছট চমৎকার বাবহার, ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে পারে ! অনেক ক্ষ অদ্ভুত জিনিস দেখাল আমাকে সে সবের বর্ণনা দিয়ে গঞ্ট ভারাক্রান্ত করব না। কিন্তু যে জিনিসট! আমার সবচেয়ে পছন্দ তা তাপ্ন দোকানে ছিল না। ছিল তার আঙলে। চমৎকাব একটি সোঁণার আংটি আর কমল হীরের তৈরি অপরূপ কমল এ" বসানো তার উপর | দেখে মুদ্ধ হ'য়ে গেলান। যেন ছোন্তর জীবন্ত পদ্প।

জিগ্যেস করলাম_“আপনার হাতের ওই আংটি নিশ্চঘট, জন্য নয়__

“আপনি নেবেন? কেউ নিতে চাইলে আংটি দিতেহ।বে না হলে আমার আঙ্,লে ক্রমশঃ এমন চেপে বলে যাবে থেবঃ তন একে খুলে ফেলতে বাধ্য হব

«কি রকম?

সাধারণ আংটি নয়। এর দামও অসাধারণ, একে শর্তও অসাধারণ। এই দেখুন, আপনি চাইবামাত্র আইটি বসেছে আমার আঙুলে, আর পল্মটি দেখুন, যেন /মারং উঠেছে_

সত্যই দেখলাম পদ্মটি আরও লাল হয়ে উঠেছে। জিগ্যেস্ট --এর দাম কত? আর কেনবার শর্তই বা কি?

জোকটি স্মিতমুখে আমার দিকে চেয়ে রইল কয়েক

শর্পর বলল--“এর প্রধান শর্ত হচ্ছে আবার কেউ যদি আপনার

থেকে আংটিটি চায় তখুনি তাকে সেটি দিয়ে দিতে হবে !,

“এর দাম?

“সেট। বলতে সঙ্কুচিত হচ্ছি

“ঙ্কোচ কিসের ?

“এর দাম হচ্ছে একটি চুম্বন। আপনি আমাকে একটি চুমু খান।

গলেই এর দাম আমি পেয়ে রি আমি এইভাবেই কিনেছিলাম গার একজনের কাছ থেকে __

শুনে রাগ হল, লজ্জ। হল।

বললাম-_'থাক্‌, তাহলে আমি নেব না।,

“কিস্ত আপনি একবার যখন চেয়েছেন, এটির প্রপ্তি একবাঞ্ যখন “'পনার লোভ হয়েছে, তখন আপনাকে নিতেই হবে। আংটি রর হাতে রাখা যাবে না, ক্রমশঃ চেপে বসছে, এই দেখুন আঙুল মনার ফুলে উঠেছে, হীরেটাও আগুনের মতো জ্বলছে আপনাকে হবে এটি-_, বা, “কিন্ত ওট। খুলবেন কি করে? তো আঙুলে চেপে ৰসেছে-_” 7” 'আপনি চুমু খেলেই আবার আলগা হয়ে যাবে। উঃ, সত্যি বড় চষ্ট হচ্ছে, আর দেরি করবেন না

সত্যি দেখলাম ভদ্রলোকের আঙ্ল খুব ফুলে উঠেছে। সত্যিই হচ্ছে তার। আর পদ্মটার প্রতি পাপড়িতে যেন আগুনের ফুলকি!

আর ছিমত করতে পারলাম না। যুবকটিকে জড়িয়ে ধরে চুমু লাম। ভালই লাগল। আর কি আশ্চর্য আংটিটি সঙ্গে সঙ্গে বড় য়ে গেল। খুলে গেল তার আঙ্খল থেকে আমার আঙ্লে রিয়ে দিলেন সেটি, আর সেটি আমার আঙ্খলে এমনভাবে ফিট্‌ করে

গল যেন ফরমাস দিয়ে আমি ওটি ফরিরেছি। |

বাড়ি ফিরে বাবার একটি “কেবল পেলাম। জানিয়েছেন তার ফরতে সাতদিন দেরী হবে। আমি যেন সাবধান থাকি।

সাবধানেই ছিলাম, বাড়ি থেকে কোথাও বেরুইনি। কিন্তু চতুর্থ দিন রাতে আমার শোবার ঘরেই ঘটনাটা ঘটে গেল। গভীর রাত্রে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। যে আঙ্লে আংটিটা পরেছিলাম দেখলাম সে আঙলটা টনটন করছে। তারপরই আমার সরধাঙ্গ শিউরে উঠল: ভয়ে। অন্ধকারে দেখলাম আমার মশারির পাশে কে একজন দাড়িয়ে আছে বেড স্ুইচট1! টিপতেই আলো জ্বলে উঠল। ' দেখলাম জোবব।-পর৷ মুসলমানী টুপি পর! বিরাটকায় এক শেখ আমার মাংটিটার দিকে চেয়ে আছে নিন্সিমেষে তার মুখে গৌফদাড়ির জঙগল। লোলুপ চোখ ছুট ছোট ছোট, ভূরু ছুটি ঝ'কড়া, চোখের তার! সবুজ

প্রশ্ন করলাম, “কে তুমি-?

উর্দুতে উত্তর দিল, যার বাংলা হচ্ছে__“আমি তোমার ওই আংটিটি পেতে চাই ।, _ অন্থভব করলাম আংটি ক্রমশ আমার আঙলে চেপে বসেছে।

বললাম--“সত্যি চান ?'

“বেশকৃ, |

পকিস্ত এর দাম-_;

'এর দাম কি তাও আমি জানি। তোমাকে একটি চুম্বন দিতে আমার আপত্তি নেই ।,

আংটি আরও ছোট হয়ে গেল, দেখলাম পদ্মের পাপড়ির আগুনের আভা ভয় পেয়ে গেলাম। বুঝলাম আপত্তি করবার উপায় নেই।

শেখ আমাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করল। মুখে পেঁয়াজ-রস্থুনের গন্ধ। আংটি নিয়ে মুহূর্তে ন্তহিত হয়ে গেল সে। ঘরের কপাট বন্ধ। কি করে ঘরে ঢুকেছিল তাও বুঝতে পারলাম না। তত ন! কি? জানি না।

কথাটা বাব ৰা কাউকেই বলিনি কিন্ত এখন একটু যুশকিলে পড়েছি। মাস ছুই আগে আমার বিয়ে হয়েছে। ভাবছি আমার স্বামীকে জানাব কি যে বিয়ের আগে ছু'জন পরপুরুষকে আমি চুগ্বন

করেছিলাম ? তিনি কি বিশ্বাস করবেন আমার গল্পটা ? মনে হচ্ছে ন! বাই ভালো। বিবেক কিন্তু দংশন করছে। সত্যি যুশকিলে পড়েছি!

ছুঁড়িটা

হাওড়া স্টেশনের সামনে রোজ দাড়িয়ে থাকে ছুড়িটা। একমাথা রুক্ষ চুল। চোখের কোণে পিচুটি। পরনের শাড়িট৷ ছেঁড়া, ময়লা ।, গায়ে জামা নেই। যৌবনও শেষ হয়ে গেছে। যেটুকু আছে তার জন্তেই তার পিছু নেয় এখনও অনেক লোক হ্যাংলার মতো৷ ঘোরে ছোড়া গুলো ছ্‌? একটা বুড়োও। যারা ধনী, যারা মোটরে চড়ে” যাওয়া-আসা। করে তারা ওর দিকে ফিরে চায় নঁ। মাঝে মাঝে কেউ কেউ ভিক্ষে দেয়। তার খদ্দের গরীব কুলীর', পকেট- খালি ছোড়ারা, ছ'একটা ডেলি প্যাসেঞ্জার কেরানী কুলীদের কৃপায় সে গুড স্‌ শেডের একধারে শুয়ে থাকে রাত্তিরে। আর ভোর থেকে উঠে সে হাওড়। স্টেশনে ট্রেন এলেই ছুটে যায় প্ল্যাটফর্মের গেটের পাশে। গেট দিয়ে পিল্‌ পিল্‌ করে কত লোক বেরোয় তাদের মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে। স্টেশনের টিকিট কাশেকটার বাবুরা চেনেন তাকে। তারাই তার নামকরণ করেছেন “ছুণড়িটা”। ছু'ড়িটবকে অনুগ্রহ করেন তারা কেউ কেউ হাসি মস্করাও করেন। তার ছেলে মেয়ে নেই। “নিরোধে'র যুগে ছেলেমেয়ে হয় না। সে তার ভাঙা যৌবনকে জোড়াতালি লাগিয়ে ফেরি করে” ব্ড়োয় খালি। কোনও শিশুর স্পর্শ পাবার যোগ্যতা নেই তার। অর্থনীতির কড়। আইনে সে মাতৃত্ব থেকে বঞ্চিত। তার স্মেহ কিন্ত আকড়ে ধরেছে সোনাকে সোনা একটা লোম-ওঠ৷ খোঁড়া কুকুরের বাচ্চা মোটরের ধাকায় তার একটা পা জখম হয়েছিল। ছু'ড়িটা আশ্রয় দিয়েছিল তাকে। গুড শেডের একধারে যেখানে সে শোয় সেখানে মোনাও থাকে।

রামসগিন্‌ কুলী একট৷ ছেঁড়া কাথা দিয়েছে তাকে। মস্ুদন দিয়েছে একট। বালিশ। খল৷ দিয়েছে ছেঁড়া চাদর একট!। শিবলাল দিয়েছিল ছোট একটি হাত-আয়না আর শস্তা একট! চিরশী। ছুটে! জিনিস সে ব্যবহার করে না বড় একটা নিজের মুখ দেখতে ইচ্ছে হয় না। চুল জীচড়েই বা কি করবে? এমনিতেই তো৷ লোক জোটে তার থাল! বাটি কিছু নেই। আছে একটা টিনের বড কৌে। শধু। সেরাম্না করে না। যেদিন যেমন পয়সা জোটে দোকান থেকে কিনে খায়। সোনাকেও খাওয়ায় সে। সোনাই তার জীবনের প্রধান অবলম্বন। আর প্রধান কাজ হচ্ছে প্রত্যেক ট্রেনের প্যাসেঞ্জার দেখা। গেটের পাশে দে রোজ চুপটি করে' ধাড়িয়ে থাকে।

গুড.স্‌ শেডের একট পাশ ছুপুরের সময় নির্জন হয়ে যায়। একটু হায়াও পড়ে। সেই ছায়াতেই মাটির উপর শুয়ে থাকে ছু'ডিট৷। গুড স্‌ শেডের ভিতর ভয়ঙ্কর গরম। শুয়ে অনেক সময় ঘুমোয়। মুখে চোখের কোণে মাছি বসে বলে” মুখটা ঢেকে শোয়। যখন ঘুমোয় না, তখন দিবা-ন্বপ্র দেখে। তার সমস্ত অতীতট। মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে তার মানস-পটে।

মনে হয় তার নাম যে অপ্সরী ছিল একথা কি কেউ বিশ্বাস করবে আজকাল? স্কুলে কিন্ত তার ওই নামই লেখা আছে, এখনও স্ব স্কুলে ভাল মেয়ে ছিল, ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছিল। তারপর হঠাৎ একদিন হেডমিস্ট্রেস তার নামট। কেটে দিলেন। বললেন, তুমি বাড়ি যাও, স্কুলে তোমাকে পড়তে হবে না। সে বাড়ি চলে গেল, মাকে জিজ্ঞাসা করল, কেন তাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিল। সম! উত্তর দিল না। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বললে-_কি 'হবে স্কুলে পড়ে, তোমার পড়ার খরচ আমি টানতে পারৰ না। আর পড়েই বা হবেকি? শেষকালে গতর বেচেই তো! খেতে হবে ।**-***

»**তার বাবার কথা মনে পড়ে তখন। তার বাব। একদিন: দিলী চলে গেল। বলে" গেল সেখানে নাকি ভাল একট। কাজ পেয়েছে।

দিন কতক পরে ফিরে এসে সবাইকে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাবা আর ফেরেনি। মাকে চিঠি লিখেছিল একটা পঞ্চাশটা টাকাও পাঠিয়েছিল মনি-অর্ডার করে। মা সে টাক। ফের দিয়েছিল

***তার মা ঝি গিরি করে? বেড়াত। অনেকদিন রাত্রে ফিরত না। কোন কোন দিন মদ খেয়ে ফিরত মাতাল হয়ে।***ক্রমে ক্রমে সব বুঝতে পারল সে। বুঝতে পারল ম! বেগ্যাবৃত্তি করে। পাড়ার একজন প্রৌঢ় ভদ্রলোক একদিন তাকে বললেন, তোর বাবা তোর মাকে বিয়ে করেনি, “রাখনি” রেখেছিল দিল্লীতে তার বউ ছেলে সব আছে। সে এখন মস্ত লোক। তুই যদি আমার বাড়িতে কাজ করিস তোকে মাসে একশ" টাকা করে দেব। আমার বৌ মরে গেছে। আমার ঘরে একেশ্বরী হয়ে থাক তুই। তোর কোন অভাৰ রাখব না! !

সে তখন প্রত্যাখ্যান করেছিল বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি। পারা যায় না। একদিকে অভাব আর একদিকে প্রলোভন না, নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি সে। তারপর*"'তারপর সব কেমন যেন আবছা হয়ে যায়, মনেপ্পড়ে একটি পশুত্বের ছুল্লোড়ের মধ্যে দিনগুলো। কেটে গেছে খালি মাঝে মাঝে ভালে! যে লাগেনি ত1 নয়, কিন্ত সবসময় ভালো লাগত না ভাল না লাগলেও ভাল লাগার ভান করতে হত। তার কাছে একজন কবি আসতেন, মদ খেয়ে বড় বড় কবিতা আওড়াতেন। কি জঘন্ ,পশু ছিল লোকট! ! একটা কুটেও আসত তার কাছে। বড় লোক, কিন্তু কুটে ! অনেক টাকা দিত। মদ খেয়ে হাউ হাউ করে কাদত। কতরকম লোকই যে আসত। একদিন কিন্তু ওপাড়া ছাড়তে হ'ল, তার মাকে কে খুন করে? গেল একদিন। সে সেদিন বাড়ি ছিল না, এক বাবুর বাগান বাড়িতে গিয়েছিল। সকালে ফিরে এসে দেখে তার মায়ের গলাটা কাট|। বুকের মাঝখানেও একটা ছুরি বসানো

সেই দিনই পালিয়ে যায় সে সেখান থেকে পালিয়েও নিস্তার

পায়নি। পুলিশের কবলে অনেক ছুংখ ভোগ করতে হয়েছিল। তার যা কিছু সম্বল ছিল ওই পুলিশের গর্ভেই গিয়েছে। কেউ তাকে বাঁচায় নি, সবাই তাকে লুট করবার চেষ্টা করেছে। সবাই মিলে তাকে চুষে, চিবিয়ে, ছিবড়ের মতো৷ ফেলে দিয়েছে বাস্তায়। এখন তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না যার! তাকায় তারাও ছিবড়ে। দেশ? আমাদের দেশ নাকি অনেক ভালো, কিন্তকই সে তো কোন প্রমাণ পায়নি। একটাও ভালে। লোক দেখতে পায়নি সে। সত্যি কি ভালে! লোক নেই তাহলে? সবাই কি লোলুপ পশু?

গুড স্‌ শেডিংয়ের পাশের জায়গাটায় হুপুর বেলা শুয়ে শুয়ে মুখে ময়ল। কাপড় চাপা দিয়ে এইসব কথাই রোজ ভাবে ছু'ড়িটা। তার মনে কিন্তু একটা আশা এখনও আছে। তার মনে হয় তার বাব! একদিন ফিরে আসবে। কেন একথা মনে হয় তা সে জানে না, কিন্ত মনে হয় তার বাবা নিশ্চয় আসবে একদিন তাই সে হাওড়া প্ল্যাটফর্মে ঘুরে বেড়ায়। ট্রেন এলেই গেটের সামনে দাড়ায়, প্রত্যেকটি প্যাসেঞ্জারকে নিরীক্ষণ করে দেখে। কিন্তু বাবার দেখা পায়নি আজও | বাবার ঠিকানাও জানে না, জানলে চিঠি লিখত। তবু সে আশ! করে, বাবা একদিন আসবেই প্রতিটি ট্রেনের প্যাসেঞ্জারের ভীড়ের দিকে উন্মুখ হয়ে চেয়ে থাকে বাবা ওদের মধ্যে গ্কাছে কিনা। না, নেই__-রোজই হতাশ হ'তে হয় তাকে।

যদিও দুপুরে শুয়েছিল সে মুখ ঢেকে, হঠাৎ একটা কাগজ উড়তে উড়তে এসে তার মুখের উপর পড়ল। ছাপা হ্যাগুবিল একট!। কাগজটা পড়েই উঠে বসল সে তড়াক করে। কাগজে বড় বড় অক্ষরে তার বাবার নাম ছাপা। তিনি নাকি আগামীকাল এসে মহাজাতি সদনে একটা বন্ুতা দেবেন। তার বাব! বক্তৃতা দেবেন ? কিসের ব্ৃতা ?

পরের দিন সে সকালে উঠে দেখল স্টেশনে বেশ ভীড় হয়েছে অনেকের হাতে মালা টিকিট কালেক্‌টারকে জিজ্ঞাসা করে, জানতে পারল হ্যাণ্ডবিলে যার নাম ছাপা তাকেই অভ্যর্থন করবার জন্যে এসেছেন রা। তার বাবাকে? কি আশ্র্য !

ট্রেন এলো | গেটের বাইরে উন্মুখ হয়ে ্াড়িয়ে ছিল সে। দেখল অনেক লোকের সঙ্গে তার বাবাই তো। আসছেন। গলায় ফুলের মাল।। মাথার চুল পেকে গেছে। কিন্তু গালের কালে! জড়ুলট৷ তো৷ ঠিক আছে। হ্যা, তার বাবাই তো “বাবা” বলে চিৎকার করে উঠল সে।

“দসরো। সরো। সরে! এখান থেকে-

একদল লোক এসে তাকে সরিয়ে দিল। তবু ভীড়ের পিছু পিছু গেল সে। দেখল তার বাব! প্রকাণ্ড একটা মোটরে চড়ে চলে গেল তার দিকে ফিরেও চাইল না।

তারপর দিন মহাজাতি সদনে গিয়েছিল সে লোকে লোকারণ্য দেখল তার বাবা গলায় মাল! পরে বসে আছেন মঞ্চের উপর। একজন এগিয়ে এসে বললেন--এর পরিচয় আপনারা সবাই জানেন। দেশের দুর্দিনে এর অমূল্য উপদেশ আমাদের পথ ননির্ঘেশ করবে ।-- বাবাবাবা-বাবা--ত]রম্বরে চীৎকার করে সে মঞ্চের দিকে ছুটে গেল। কিন্তু পারল না। পুলিশের লোক টেনে বার করে দিল তাকে পুলিশের ব্যাটনের আঘাতে অজ্ঞানও হয়ে গেল সে।

পরদিন কাগজে তার বাবার বক্তৃতা ছাপা হল। তিনি বলেছেন --আমাদের সকলকে চরিব্রবান হতে হবে, চরিত্রই আমাদের মূলধন

ব্যবধান

দশ বছরের টুটুল এসে মাকে বললে--ম। বাইরের ঘরে কে একট। দাড়ি-ওলা বুড়ো এসে বসে আছে। বলছে বাবার সঙ্গে দেখ! করবে। আমি বললাম বাব। নেই বাড়িতে, তবু বসে আছে। বলছে তোমার মায়ের সঙ্গে দেখা করব।'

টুটুলের ম। সুমিত্রা রাজি হল ন1।

ধলল--“আমি কারো সঙ্গে দেখা করব না। বলে দেবাবা ট্যুবে বেরিয়েছেন, আজ ফিরবেন না। মা আপনার সঙ্গে দেখ করবে না।,

নুর্মত্রার মনে হল নিশ্চয় কোন সাহায্যপ্রার্থী। কালই একজন কন্তাদায়গ্রস্ত বুড়ো৷ এসেছিল ছুটে। টাকা না নিয়ে উঠল না। দেখ করলেই বিপদ

টুটুল বেরিয়ে এসে বললো-_-“বাব! ট্যুরে গেছেন, আজ ফিরবেন না। ম! দেখা করবেন না আপনার সঙ্গে ।” টুটুল জানে বাবা ট্যুরে গেছে এটি মিথ্যা কথা তবু'মায়ের প্ররোচনায় সে মিথ্যা! কথাটি বলল গিয়ে

, বুদ্ধ বললেন, “ও তাই নাকি। আচ্ছ। আমি যাচ্ছি তাহলে।

তুশি কোন ক্লাসে পড়?

ক্লাস ফোরে।

“তোমার দাদ। ?

“দাদা পড়া ছেড়ে দিয়েছে তরুণ দলের সেক্রেটারি হয়েছে আজকাল ।'

“তরুণ দলের সেক্রেটারি ? তরুণ দলে কি হয়?

ক্রিকেট খেলা হয়, মাঝে মাঝে গান বাজনার জলস। হয়,

৯৩

থিয়েটার হয় পূজোর সময়। চমতকার থিয়েটার করে দাদায়া। গতবারে আলিবাবাতে দাদা মাবদাল। সেজেছিল। কি দারুণ জমিয়েছিল যে-_”

তাই নাকি। তোমার দিদি কি করে?

“দিদিকে আপনি চেনেন না কি?

'ঠিক চিনি না। তবে তোমার যে দিদি আছে তাজানি। তাই জিগ্যেস করছি-__,

“দিদি আজকাল ভি আই পি!

“ভি আই পি? তার মানে?

“দিদি আজকাল এক মিনিস্টারের মেয়েকে গান শেখায়। দিদিকে নিতে প্রকাণ্ড গাড়ি আসে রোজ।,

“তাই না কি-_,

“দিদির জন্তেই বাবার চাকরিতে উন্নতি হয়েছে! আজকাল বাবা যে পোস্টে বদলি হয়েছেন তাতে খুব উপরি-_+

টুটুল শোন-_+

ভিতর থেকে সুমিত্রার কঠিন কণ্ঠম্বর শোনা গেল।

টুটুল ভিতরে যেতেই ধমক দিয় তাকে বললেন--“কি সব বকবক করছিস বাইরের লোকের কাংছ। বাক্যবাগীশ কোথাকার ওপর থেকে তোর দাদাকে ডেকে দে

টুটুল দাদাকে ডাকতে তিন তলায় চলে গেল।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রকাণ্ড একটি মোটর এসে দাড়াল বাড়ির সামনে তার থেকে নামল একট চটুল। তম্বী। মাথার পিছন থেকে লম্বা বেণী ছলছে। পরনে পিটকাটা ঘাড়কাটা ব্লাউস, কাপড় এমন টাইট করে পর! সবাঙ্গ দেখা যাচ্ছে। চোখে কাজল গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ঘরে এসে ঢুকল। বৃদ্ধের দিকে এক নজর চেয়ে দেখল কিন্তু তার পরিচয় নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। হাতে চাবি-বাধা রতীন রুমালটা ঘোরাতে ঘোরাতে

১১

ভিতরের দিকে ঢুকল। তার আবদার-মাখ। উচ্চ কণ্ঠস্বর বৃদ্ধ বাইরে থেকে শুনতে পেলেন।

“মা ওমা, কোথা তুমি আমাকে এখুনি গভর্নরের বাড়ি যেতে হবে পার্টিতে সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে হবে আমাকে আমি শাড়িটা বদলাতে এলাম এটা! 'ক্রাশড, হয়ে গেছে-_ঃ

বৃদ্ধ জানলা দিয়ে দেখলেন একটি খালি গ্যারাজ রয়েছে। নিশ্চয় মোটরও আছে এদের। মনে হল- কিন্তু-_-। চিন্তাধারা বিদ্বত হল তার। ঘরে প্রবেশ করুল কালে চোং-প্যাণ্ট পরা, একটি ছোকরা গায়ে একটি হাফশা্ট রয়েছে! মনে হল জামাটা রোয়া-ওল। তোয়ালে থেকে তৈরি। মাথায় লম্বা চুল, গালে চওড়া জুলফি, গোঁফ আর. দাড়ির সমন্বয়ে মুখের চারদিকৈ থুতনী পর্যন্ত চুলের একট; আবেষ্টনী। পায়ে চপ্লল। চোখে গগলস্‌।

“আপনি কাকে চান ?

“আমি স্থরথবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি ।”

“বাবা এখন বাড়িতে নেই

“আমি ষদি অপেক্ষা করি?

“না আপনি এখন কেটে পড়ুন

আচ্ছা»

উঠে পড়লেন ভদ্রলোক এবং সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে গেলেন

ঘণ্টা তিনেক,পরে এলেন আবার ভদ্রলোক দেখলেন কপাট ব্ধ। ইলেকদ্রিক বেলের সুইচট। টিপলেন। টুটুল আবার বেরিয়ে এল।

“আপনি আবার এসেছেন ?'

«এই চিঠিখান। দিতে এলাম তোমার বাবা ফিরেছেন ?

না

“এলে এই চিঠিখান৷ দিও তাকে ।,

একটি খামে মোড়া চিঠি দিয়ে চলে গেলেন ভদ্রলোক

১৯৭

ঈষৎ মত্ত অবস্থায় রাত্রি দশটা নাগাদ ফিরলেন সুরথবাবু। স্বামীকে মত্ত অবস্থায় দেখে কিছু বললেন ন। সুমিত্র।। প্রথম প্রথম বলতেন এখন আর বলেন না। মদ খাওয়াট। চা খাওয়ার মতোই এখন দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ এই সত্যটা মেনে নিয়েছেন তিনি

স্থরথবাবু এসেই প্রশ্ন করলেন--“কোন ফোন এসেছিল ?

“এএসেছিল। তোমার স্টেনো মিস মাইতিকে তুমি সন্ধ্যেবেল। আসতে বলেছিলে?

“বলেছিলাম ।,

'আমি মানা করে দিয়েছি। তোমার আপিসেব কাজ তুমি আপিসে কোরো বাড়িতে স্টেনো-ফেনো। আনা চলবে ন1।'

তরীর কণ্ঠন্বরে একটু ঝাজ লক্ষ্য কবে হাত উলটে স্ুরগরবাবু বললেন--€বেশ, রাত বাবোট। পর্যন্ত আপিসেই থাকবে৷ তাহলে চিঠিপত্র এসেছিল ?

“অনেকগুলে। বিল এসেছে মদের বিশ এমাসে তিনশ টাক।।

নুরথবাবু মুখট| স্চালে৷ করলেন একটু !

"ও হ্যা আব এক বুডে। তোমার সঙ্গে দেখা কববে বলে এসেছিল। দেখা না পেয়ে শেষে টুটুলের কাছে একটা চিঠি রেখে গেছে কোনও প্রার্থী বোধহয় ।?

লুমিত্রা চিঠি খানা দিয়ে উপরে চলে গেলেন !

স্বরথবাবু একট! সিগারেট ধরিয়ে খুললেন চিঠিখানা।

শ্রীশ্রীতর্গাশরণং পরমকল্যাণবরেষু স্থর্থ, কুড়ি বছর প্ররে কন্থল্‌ থেকে হঠাৎ এসে পড়েছিলাম তোমাকে খবর দেওয়ার সময় ছিল না। এসে দেখলাম কেউ আমাকে চিনতে পারছে না। তোমাদের কাছে আমার যে ফোটোটা আছে সেটা আমার যৌবনের। এখন আমি পচাত্বর বছরের বৃদ্ধ। তাছাড়!

১৩

গোঁফ দাড়ি রেখেছি আজফাল। চেহারা তো৷ বদলেই গেছে, গলার স্বরও বদলেছে সম্ভবত। আমাকে চিনতে না পারাটাই স্বাভাবিক পেনসন নেবার পরই যখন তোমার চাকরি হল তখনই আঁমি সংসার ত্যাগ করে কনথলে চলে গিয়েছিলাম তখন থেকেই আমি কনথলে আছি। তোমার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আমার পরিচয়ও নেই তেমন কিন্ত আজ একনজর দেখেই বুঝলাম যে ছেলেমেয়েগুলি কেমন যেন অসভ্য হয়ে গেছে ভদ্রবাড়ির ছেলেমেয়েদের মুখে যে ভদ্র নত্র ভাব থাকে. তা যেন ওদের মুখে নেই। তোমার বাড়িঘর 'মাসবাবপত্র ড্রয়িং রুমের সোফা সেট তোমাৰ মোটরের গ্যারেজ দেখে মনে হল যে মাসে তোমার অন্তত ছুই হাজার টাকা খরচ কিন্তু তোমার মাইনে তো! শুনেছি পাঁচশ টাকা অসছৃপায়ে উপার্জন করছ না কি? আমি সংসারের হাঙ্ামে জড়িয়ে পড়তে চাই না ঝুলই তোমাদের কোনও 'খবর নিই নি। এক! এক কনথলে স্রখেই আছি হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস কচ্ছি। আর প্রতি বছর লটারির টিকিট কিনি। বছর বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছি'ড়ে গেল। দেড় লাখ টাকা পেয়ে গেছি টেলিগ্রাম পেয়ে সেইটে নিতেই এসেছিলাম আমি এই বৃদ্ধ বয়সে অত টাকা নিয়ে আর কি করব? ভেবেছিলাম তোমাদেরই দিয়ে যাব টাকাট।। কিন্তু তোমাদের হাব-ভাব চাল-চলন একটুও ভালো লাগল না। তাই ঠিক কব্ছি টাকাটা! কোনও সৎ প্রতিষ্ঠানেই দান করে যাব আমার মা-বাবার স্মৃতিরক্ষার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থন। করি তিনি তোমাদের স্থমতি দিন। আমাদের দেশের আদর্শকে মলিন করবার চেষ্টা করলে তোমর। নিজেরাই মলিন হবে। আদর্শ ঠিক থাকবে এই কথাটি মনে রেখো আমার আশীর্বাদ গ্রহণ

কর। ইতি

ভ্রীদশরথ গঙ্গোপাধ্যায়

১৪

বাবার চিঠির দিকে বিষ্ষীরিত নয়নে চেয়ে রইলেন স্থুরথবাবু। সহসা একট] ছবি ভেসে এল তার মনে-_খুব ছেলেবেলায় বাৰ! তাকে কোলে করে পাঠশালায় পৌছে দিয়ে আসতেন।

মনের ভাব কিন্তু পরক্ষণেই কেটে গেল। সহস। তার মনে হল _-এতগুলে। টাকা বেহাত হয়ে যাবে? কিছুতেই না। খুজেবার করতেই হবে তাকে ।,

টলতে টলতে বাইরে বেরিয়ে গেলেন তিনি

নাচ জমলো শেষে

আমার বন্ধু যোগেন ছুটতে ছুটতে এসে আমার বাড়িতে ঢুকল। ঢুকেই দড়াম করে কপাটট! বন্ধ করে খিল এটে দিল। দেখলাম তার চোখের দৃষ্টি উদ্‌ত্রান্ত, চুলগুলো উসকো খুসকো। নাসারন্ধ বিল্ফারিত।

যোগেন ? সময় হঠাৎ যে। খিল বন্ধ করলি কেন?

যোগেন খানিকক্ষণ চেয়ে রইল আমার দিকে তারপর ফিসফিস করে বলল---তাড়া করেছে-__+

“তাড়া করেছে? কে?”

--কে আবার, সেই হারামজ্ঞাদী, এখন সোহাগ জানাতে এসেছে

-_কার কথা বলছিস্‌, বুঝতে পারছি না ঠিক-_,

--ছুলারী, ছুলারী ! সেই ঢডি বেশ্ঠা ছুড়ি।,

--ি রকম? সে তে! শুনেছিলাম কোন নবাবের দরবারে

বাহাল হয়েছিল__"

“হবে না? নবাবের যে বেশী টাকা জা ওকে মানুষ করলাম নাচগান শেখালাম, খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করলাম _যেই পাখ। গজালো ফুড়,ৎ করে উড়ে গেল। এখন ঢং করতে এসেছে।”

১৫

হা হা হা” হঠাৎ খাপছাড়া। ভাবে হেসে উঠলো যোগেন। আমি একটু হকচকিয়ে গেলাম যোগেন আমার দিকে ফ্যাল্‌ ফ্যাল্‌ করে চেয়ে রইল।

_-“মেয়েট। জিপসির মেয়ে ছিল। জানতে তুমি ?

-_-তুমিই তো বলেছিলে একদিন” -_রোস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। ওর বাব! ভানুমতীর খেল। দেখাত-_- রাস্তা থেকেই কিনেছিলাম মেয়েটাকে এখন ওই আমাকে ভান্ুমতীর খেল! দেখাচ্ছে ম্যাজিক। আশ্চষ ম্যাজিক-_+

_ম্যাজিক 1,

_হ্থ্যা ম্যাজিক আশ্চর্য ম্যাজিক-_হারামজাদী।,

দাল্ত কড়মড় করে থেমে গেল যোগেন।

_-ব্যাপারুটা খুলেই বল না-_+

--খুলে বললে কি বিশ্বাস করবে ? করবে না,

প্রায় আর্তনাদ করে উঠল যোগেন।

_-আবে বলই না শুনি, কপাটট] বন্ধ করে দিলে কেন?

_ছুঁড়ি আমার পিছু পিছু ঘুরছে ওই চৌমাথায় দাড়িয়ে আছে। আদর করে ওর নাম দিয়েছিলাম কিন্নরী এখন কন্পরী ভয়ঙ্করী হয়ে দাড়িয়েছে_

__রাস্তার চৌমাথায় দাড়িয়ে আছে? কই দেখি-__,

কপাটটা খুলতে গেলাম যোগেন ব্যাকুলভাবে ছুটে এসে আমার হাত চেপে ধরল

খুলে নাঃ খুলো৷ না। তুমি কিছু দেখতে পাবে না। আমিই খালি দেখতে পাবো কপাট খুললে এখনই হয়তে৷ এখানে এসে ঢুকবে। হয়তো না খুললেও ঢুকে পড়বে সব পারে ওরা | ভাঙ্গু- মতীর ম্যাজিক জানে তো তোমার রিভলবারটা কোথা ?

--€তোমার পেছনেই সেলফে রয়েছে,

যোগেন রিভালবারট। নিয়ে ভান হাতের মুঠোয় শত্ত' করে ধরল।

৯৬

_-দলোডেড আছে তো?

-মআাছে। রিভলবার নিয়ে কি করবে %

_-যিদি ঘরে ঢোকে তো গুলি করব। ওর ম্যাজিককে গুলি করব?

_-আরে ব্যাপারট। কি হয়েছে বলই না খুলে ।,

গুম হয়ে রইল যোগেন খানিকক্ষণ

_তারপর বলল,--“বিশ্বাম করবে? আমাকে পাগল ভাববে ন1 তো?

_-আরে তুমি বলই না আগে ।”

_-তিবে শোন। নবাবের দরবারে যদিও চলে গিয়েছিল তবু কিন্নরীর সঙ্গে চিঠির আদান প্রদান ছিল। একদিন হঠাৎ চিঠি পেলাম “মাপনি যদি আপনার গিবিডিব বাড়ীতে যান, নাচ দেখিয়ে আসব আপনাকে রবিবার ছুটি নিয়েছি সন্ধেবেলা আপনাব বাড়িতে যাব। নাচ দেখাব। ভোরে ফিরে আসব আবার হাঁজ তো! মঙ্গলবাব, রবিবার গিরিডির বাড়িতে ছিলাম সন্ধ্যা থেকে। অপেক্ষা করেছিলাম তাব জন্তে। রাত বারট। বেজে গেল “তবু এল না। জ্যোৎন্সা রাত ছিল। বাড়ির সামনের মাঠটা ভরে গিয়েছিল জ্যোৎন্নীয়। সে-ও যেন অপেক্ষ। করছিল তার। মনে হচ্ছিল ওট! যেন মাঠ নয়, আমারই মন। হঠাৎ দূরে শেল ডেকে উঠল ।' ঘড়িতে দেখলাম একট! বেজে গেছে ভাবলাম এবার শুয়ে পড়ি আলো নিভিয়ে তারপরই ঘটনাটা ঘটল। শুরু হল কিন্নরীর ম্যাজিক। দেখলাম দরজ। দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে কি একটা ঢুকছে। দেখি একট! পা» উরুত শুদ্ধ পা1। পাটা ঘরে ঢুকেই সোজা হয়ে দাড়াল। তারপর আমাকে ঘিরে ঘিরে নাচতে লাগলে।।,

নাচতে লাগল ?

সস্থ্যা নাচতে লাগল। সেকি ভীষণ নাচ। তাগুব নৃত্য ধপাধপ ধপাধপ নেচেই চলেছে তখন বুঝতে পারলাম হারামজাদী

১৭ বনষ্কুল--২

ম্যাজিক করছে। ওরা গুণ করতে পারে, বাণ মারতে পারে। কুশ- পুত্তলিক৷ পুড়িয়ে মানুষকে মেরে ফেলতে পারে হিপনৌটাইজ ধরে যা খুশি করতে পারে জিপসির মেয়ে তো। নিজে না এসে পা পাঠিয়ে দিয়েছে আর কি সে পা! একটা ছোট কলাগাছের জী যেন। কবিরা যাকে বলেছেন রম্ভৌরু, ঠিক তাই। একট। রস্তোর আমাকে ঘিরে লক্ষ ঝন্ষ করতে লাগল চীৎকার করে উঠলাম-_ দূর হারামজাদী। সঙ্গে সঙ্গে সৌ করে বেরিয়ে গেল কপাট দিয়ে) রাগে আমার সবাংগ রিরি করছিল। আমিও বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে। হেঁটে স্টেশনে এলাম, তারপর ট্রেণ আসতেই চলে এলাম কলকাতায়। হাওড়ায় এসে দেখি প্যাসেপ্রারের ভিড়ের মধ্যে সে রয়েছে কিন্নরী কাটা পাটা কাধের উপর। আর একটা পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে তারপর থেকে আমার সঙ্গ ছাড়েনি যেখানে যাচ্ছি সঙ্গে সঙ্গে চলছে। এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আকবার কাধের উপর সেই কাটা পা-টা। বিরিঞ্ির বাড়ি গিয়েছিলাম সে বাড়িতে নেই। তাই তোমার কাছে চলে এলাম। হারামজাদী ওই মোড়ে ধ্াড়িয়ে আছে। বেরুলেই সঙ্গ নেবে। অন্ত কেউ দেখতে পাচ্ছে না কেবল আমিই, পাচ্ছি। আশ্চর্য ম্যাজিক জানে মেয়েটা,

“এটাকে ম্যাজিক, বলছ ?,

হ্যা হ্যা ম্যাজিক, ম্যাজিক। জিপি মেয়েরা অনেক রকম ম্যাজিক জানে ।,

এমন সময় বাইরে থেকে কপাটে ধাঁকৃকা পড়ল।

“কে__,

“আমি বিরিঞ্ি। যোগেন এখানে এসেছে ?”

--কপাট খুলে দিতেই বিরিঞ্চি এসে ঢুকল। সে-ও আমাদের একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু

১৮

বিরিঞ্ি যোগেনের দিকে ফিরে বলল খবরটা শুনেছ? তোমার কিন্নরী রেলে কাটা পড়েছে ।,

যোগেন বলে উঠল সঙ্গে সঙ্গে--বাজে কথা। কিন্নরী মরতে পারে না।+-9106 15 10011016917

“আরে আমি নিজের চোখে দেখলুম। ট্রেণ ছেড়ে দিয়েছিল। মেয়েটা চলস্ত ট্রেণে চড়তে গিয়ে পড়ে গেল ট্রেণের নীচে উরুত শুদ্ধ পা-টা কেটে বেরিয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে মার! গেল।

দেখা গেল তার ব্যাগে কিছু টাকা, নাচবার ঘুঙ্গুর, আর গিরিভির একটা টিকিট রয়েছে-_,

_-বিশ্বীস করলাম ন। তুমি মিথ্যে কথা বলছ ।,

“আরে স্বচক্ষে দেখলাম-__+

--তুমি মিথ্যুক ! তুমি মিথ্যুক | তুমি মিথ্যুক ! কিন্নরী মরে নি, মরতে পারে না।?

--আমি বলছি-_;

_-শাট আপ--”

“বিশ্বাস কর !,

এরপর যোগেন যা করলে তা অবিশ্বীস্ত। রিভলবারট৷ তুলে বিরিঞ্চির বুকে গুলি চালিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেল বিরিঞ্চি,। আমি যোগেনকে ধরতে যেতেই আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছু'ড়ল সে। আমিও পড়ে গেলাম। তারপর সে নিজেও বোধহয় আত্মহতা! করেছিল।

কারণ একটু পরেই দেখলাম সম্ভবত পরলোকে আমরা তিনজন একট নাচের আসরে বসে আছি। সামনে কিন্নরী নাচচে।,

১৯

বাস্তব-অবাস্তব

উদীয়মান একজন আধুনিক লেখক একটি অদ্ভুত দিবান্বপ্র দেখলেন একদিন। উপন্তাস লিখে খুব নাম করেছেন তিনি। যদিও খুব বাস্তবধী লেখক, কিন্ত স্বপ্নটি দেখলেন অদ্ভুত অবাস্তব। খোল! জানল! দিয়ে একটি পরী ডানা মেলে এসে প্রবেশ করল তার ঘরে। বলল--“মহাকালের দরবারে আপনার ডাক পড়েছে। যদি যেতে চান এখনই চলে যান ।,

লেখক সবিস্ময়ে উত্তর দিলেন- “মহাকালের দরবার? সে আবার কোথা ?

পরীর হাতে একটি চমৎকার মাল। ছিল

বললে-_এই মালাটি আপনার কাছে রেখে যাচ্ছি। এটি গলায় পরবামাত্র মহাকালের দরবারে গিয়ে উপনীত হবেন আপনি ।,

মালাটি টেবিলের উপর রেখে পরী জানল! দিয়ে উড়ে চলে গেঙগ। লেখক সবিন্ময়ে লক্ষ্য করলেন মালাটি ক্রমশ$ ছোট হয়ে যাচ্ছে। একটু পরে হয়তো একেবারে লোপ পেয়ে যাবে তাড়াতাড়ি মালাটি পরে ফেললেন। সঙ্গে সঙ্গে য৷ হল তা আরও বিম্ময়কর। সঙ্গস্ত পরিবেশটাই বদলে গেল। লেখকের ছোট ঘরট৷ লুপ্ত হয়ে গেল যেন। মনে হল তিনি যেন মহাশুন্টে বসে আছেন। ডানদিকে দূরে মণিমাণিক্যথচিত একটা বইয়ের শেলফ. রয়েছে তাতে রাখা আছে রামায়ণ, মহাভারত, ইলিয়াভ, অডিসি, প্যারাডাইম লম্ট এবং আরও অনেক বই--সব নাম পড়া গেল না। বাঁদিকে দুরে জ্বলছে একটি অগ্রিকৃণ্ড। লক্‌লক্‌ করে শিখা বেরুচ্ছে তার ভিতর থেকে আর ঘরের মাঝখানে তারই একটি জনপ্রিয় বই নিরালম্ব হয়ে ঝুলছে। ঘরে কোনও লোক নেই। এই বইটিরই দশম সংস্করণ বাজারে চলছে

স্১৩

হঠাৎ শৃন্ত থেকে একটা প্রশ্ন ভেসে এল।

“আপনার এই বইয়ে যৌন ব্যাপার নিয়ে এমন বাড়াবাড়ি করেছেন কেন?

“কে আপনি

“আমি মহাকালের দূত। তার আদেশেই আমি আপনার কাছে এসেছি।;

লেখক কয়েক মুহুর্ত নীরব থেকে শেষে বললেন “আমি গোট' মানুষটাকে দেখাতে চাই। তাই কিছু গোপন করিনি--

“আপনি তে বিজ্ঞানী নন, আপনি রসজ্ষ্টা। তাছাড়া গোট। মানুষটাকেও তো৷ আপনি দেখান নি। মানুষের ঘাম হয়, ঘামের কেমন গন্ধ, ঘামে কি কি উপকরণ আছে, প্রভাতে সন্ধ্যায় শৌচকর্ম করবার সময় প্রত্যেক নরনারী যা যা করে সবের বর্ণনাও তো আপনার পুস্তকে নেই। কেবল ওই যৌন ব্যাপারটা নিয়েই আপনি, মাতামাতি করেছেন কেবল। প্রত্যেক মানুষের একট! অদৃশ্য রহস্যময় দিক থাকে সে সম্বন্ধেও আপনি নীরব। আপনি গোটা মানুষ তে। দেখাতে পারেন নি। আপনার প্রবণতা কেবল যৌন ব্যাপারের দিকে আর অভব্যতার দিকে, এর কারণ কি £

লেখক চটে গেলেন।

বললেন--আমার য। খুশী লিখেছি তাতে আপনার কি ?

“যা খুশী লিখলে সাহিত্য হয় না।”

যে বইটি শুন্ে ঝুলছিল কোন অদৃশ্য হস্ত সেটি নিয়ে সহস। অগ্নি- কুণ্ডে নিক্ষেপ করল। দেখতে দেখতে ভন্মীভূত হয়ে গেল বইটি।

পরমুহুর্তে ঝনঝন করে ফোন বেজে উঠতেই ঘুম ভেঙে গেল লেখকের ঘড়িতে দেখলেন তিনটে বেজেছে। প্রকাশক ফোন করছেন। বললেন--“আপনার বইটির দশম সংস্করণও নিঃশেষ হয়ে গেল। আমরা আরও হহাজার ছাপতে চাই--

লেখক উঠে একটা জাম। গায়ে দিয়ে নীচে নেমে গেলেন।

প্রকাশকের বাড়ি যেতে হবে। নীচে নেমে একটা ট্যাকসি ধরলেন। ট্যাকসিতে চড়ে সিগারেট ধরালেন একটা ভাবলেন-_কি বাজে স্বপ্প দেখলাম একটা মহাকালের দরবার---হ্যাঃ_ ট্যাকসি হু-্ করে প্রকাশকের দোকানের দিকে ছুটতে লাগল

নায়ক-_-১৯২২

বিষয়টি চমৎকার বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা যায়। কবিতা লেখা যায়, নাটকও লেখা যায়। আমি আমার বক্তব্য গল্পে বললাম

আমরা কবে থেকে প্রেমে পড়তে শুরু করেছি এর নির্ভুল তারিখ আজ পর্বস্ত কেউ নির্ণয় করতে পারেননি প্রেমে প্রমে পড়া! পড়া ব্যাপারটার সঙ্গে নানারকম উপমাও দিয়েছেন নানা জাতের লেখক যুগে যুগে। কেউ বলেছেন ওটা যেন নায়াগ্রা। প্রপাত সীতরে যাওয়ার মতো, কেউ বলেছেন ছ্ুরারোহ, পর্বত-উল্লজ্বন, কারো মতে জটিল অরণ্যে পথ-হারিয়ে ফেলা, কেউ আবার ওর উপম! দিয়েছেন অগ্নি-পরীক্ষার সঙ্গে। সবগুলোই সত্য। কিন্তু হাল আমলের--মোটে পঞ্চাশ বছর আগ্নেকার ছোকরা--বিষুঃ ভট্টাচার্যের মনে হতে লাগল যে একটা তপ্ত-লৌহশলাকা তার হৃদয়ে বিদ্ধ হয়ে রয়েছে। | শলাকাটির রূপক-বিবর্ডিত রূপ_নেয়েটি অব্রাঙ্মণ। সুশীলা অপরর্পহুন্দরী, বয়স ষোলো পাশের বাড়িতে থাকে, চোখাচোখি হলে চোখ নামিয়ে নেয়, গাল লাল হয়ে ওঠে, তার বারার সঙ্গে বিষ্ণুর বাবার বন্ধুত্বও খুব, তার হাসি, গান সবই শুনতে পায় বিষুচরণ, কিন্ত হায় সে কায়স্থের মেয়ে অত্যন্ত মনোরমা, অত্যন্ত ভালো, কিন্ত নাগালের বাইরে বিজ্ঞানের ছাত্র বিষুচরণ কবিতা লিখতে লাগল বিখ্যাত কাগজগুলে! তার কবিতাকে তেমন আমোল দিল না৷ যদিও, কিন্ত মফঃস্বল এেঁকে

০৬

প্রকাশিত একটি কাগজে ছাপা হতে লাগল তার গ্রণয়োচ্ছাস। আসার সে কাগজটি যাতে সুখীলার কাছে যায় সে ব্যবস্থাও ক'রে ফেলল বিষুচরণ। পাশাপাশি বাড়ি, দোতলার জানালায় দেখা হল একদিন সুশীলার সঙ্গে।

“ন্ুশী) “অর্ধ্য* কাগজটা পেয়েছ 1”

“পেয়েছি”

সলজ্জ হাসি হেসে চলে গেল সুশীল!

স্থণীল সে যুগের হিসাবে শিক্ষিতা মেয়ে মাইনর পরীক্ষা পাশ। “অর্থ? পত্রিকায় মুদ্রিত ' খঞ্জ-ছন্দের কবিতাগ্চলি যে তারই উদ্দেশ্যে নিবেদিত “অর্থ্য* একথা বুঝতে দেরী হয়নি তার কিন্ত এরপর থেকেই বিষুচরণকে এড়িয়ে চলত সে। জানালার সামনে আর দেখা যেত না তাকে। কিন্তু খঞ্জ-ছন্দের হলেও কবিতাগুলি তার মনে সাড়া জাগিয়েছিল বইকি। ছুরু ছুরু অন্তরে একাধিকবার সে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছিল কবিতাগুলি। “হৃদয়খানি তোমার পায়ে ওগে! দেবি করছি সমর্পণ, ওগো! নিঠুর দয়া করে কর তা গ্রহণ--এই লাইনটি খুবই ভালে। লেগেছিল তার। গ্রহণও হয়তো। করেছিল, কিন্তু মনে মনে। বাইরে কিছু তো৷ করবার উপায় নেই। কথা ভাবাও যে অন্তায়। বিষুদা ব্রাহ্মণ, আর সে কায়স্থ। পারতপক্ষে তাই সে আর বিষ্ুচরণের মুখোমুখি হত না। “অর্ধ্য” পত্রিকাটিও প্রকাশিত হত না নিয়মিত তাই বিষ্ণুর কবিতাগুলিও আর নিয়মিত পৌছত ন৷ তার কাছে। বিষণ ভাবল চিঠি লিখবে গোলাপী রঙের ভালো চিঠির কাগজ আর খামও কিনে আনল। নতুন “ব্র্যাক বার্ড কলমও কিনে ফেলল একটা কিন্ত চিঠি লিখতে গিয়ে হঠাৎ তার মনে হল--এ চিঠি যদি আর কারে হাতে পড়ে। তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। কলঙ্কিনী বলবে সবাই স্ুুশীলাকে | না, না, চিঠি লেখা চলবে ন।। বিবেকে বাধতে লাগল বিষুচরণের। চিঠি লেখা হল না। কি করবে ভাবছে এমন সময় তার মা একদিন তাকে বঙ্গলেন, «বিষণ তুইও মেয়ে দেখবি না! কি 1”

২৩

"* «কোন মেয়ে?

“তোর বাবা পটলভাঙার বাঁড়,য্যে মশাইয়ের মেয়েকে পছন্দ করে এসেছেন। মেয়েটি নাকি অপরূপ সুন্দরী দেবে থোবেও ভালে”

বিষুরণ নিধাক হয়ে রইল কয়েক মুহুর্ত তারপর বলল-_-“আমি যদি অপছন্দ করি বিয়ে ভেঙ্গে দেবে তোমরা 1”

“অপছন্দ করবি কেন? তোর-বাবার মতো খুঁতখুতে লোক যখন পছন্দ করেছেন, তখন তোরও পছন্দ হবে। চমৎকার মেয়ে দেখতে চাস তো ব্যবস্থা করি--”

“দেখতে গেলে আমি অপছন্দ করে আসব। আমার পছন্দ- অপছন্দের যদি তোমর৷ মূল্য দাও তাহলে তোমরা ওর মধ্যে মাথ৷ গলিও না”

«কেন, তুই নতুন আর কি করৰি”

“ধর যদি অন্ত জাতের মেয়েকে বিয়ে করতে চাই”

“পাগল হয়ে গেলি না কি তুই! আমর! ব্রাহ্ম, না খৃষ্টান? শরন্য জাতের মেয়ে বিয়ে করবি কিরে? তুই কুলীন ব্রাহ্মণের ছেলে কুলীন ব্রাহ্মণের মেয়েকে বিয়ে করবি। ক্ষ্যাপা কোথাকার। লেখাপড়৷ শিখে এই বুদ্ধি হয়েছে তোর”

বিষুচরণ আর কিছু বলতে সাহস করেনি। কেবল বলেছিল-- “তবে তোমাদের যা! খুশি কর”

বাড়,জ্যে মশাইয়ের মেয়ে সুরেশ্বরীকেই বিয়ে করতে হয়েছিল শেবকালে। সুরেশ্ববীর মতই নেয়নি কেউ বিয়ের আগে। জুরেশ্বরীরও ভালো! লেগেছিল তার দূর সম্পর্কের দাদা জগন্নাথকে। যেমন দেখতে, তেমনি জেখাপড়ায়, তেমনি গানের গলা কিন্তু এক গোত্র যে। তারও ভালোলাগাট! মিলনে প্রস্ফুটিত হ'তে পারেনি বিয়ের সময় ুজনের মনের নেপথ্যলোকের ইতিহাস নেপথ্যেই থেকে গেল। কিন্তু এসব সত্বেও আশ্চর্য প্জনিস হল একটা দুজনেরই ত্জনকে ভালো লেগে গেল। নুশীলাও পির্দীন্ত্রত হয়েছিল বিয়েতে।

সে এসে ভালো একটি শাড়ি উপহার দিল সুরেশ্বরীকে, অর চার কপি মাসিক পত্রিকা-_অর্ধ্য। হেসে বলল-_বিষুবাবু খুব ভাল কবিতা লিখতে পারেন। তাঁর প্রমাণ এই কাগজগুলিতে আছে। পড়ে দেখো ।” স্ুশীল। বাবা-মায়ের একমাত্র সম্তান। তারও বিয়ে হয়েছিল একজন ডাক্তারের সঙ্গে কুল-গোত্র-কোষ্ি মিলিয়েই বিয়ের পর স্ুশীলাকে চলে? যেতে হল কানপুরে নুশীলার স্বামী সেখানেই চাকরি করতেন তখন

প্রায় পাশ বছর কেটে গেছে ওদের বিয়ে হয়েছিল ১৯২২ খুষ্টাবকে, দেখতে দেখতে ১৯৭২ এসে পড়ল। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বমহাযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলন, মহাত্মা গান্ধীর আবির্ভাব, সুভাষ বস্তুর নেতাজীতে রূপান্তরিত হওয়া, হিন্দুস্থান-পাকিস্থান, হিন্দু-মুসলমান, রিফিউজী, বাঙালী-অবাঙালী সমস্তা, বাংলাদেশে বন যুধুধান রাজনৈতিক দলের হুঙ্কার, তাদের অমানুষিক হানাহানি, কালোবাজার, ঘরে ঘরে বেকার ছেলে-মেয়ে, পথে পথে মিছিল আর শ্লোগান, জিনিসপত্রের আতঙ্কজনক মূল্যবৃদ্ধি-_চার আন সের বেগুনু চার টাকা সেরে বিকুচ্ছে-মাছ, মাংস ছৌবার উপায় নেই। সবই দেখেছে তারা, সবই সহ্য করেছে কিন্তু যেটা সহোের সীম! পেরিয়ে গেল সেট পূর্ববঙ্গে ইয়াহিয়া খানের নারকীয় অত্যাচার

সুরেশ্বরীর অনেকগুলি ছেলে-মেয়ে। ছোট ছেলে দীপক্করের বয়স পঁচিশ জুলফি রেখেছে, গোফও রেখেছে জমকালো গোছের চমৎকার বলিষ্ঠ চেহারা পরনে চোং প্যান্ট, হাত কাট" কামিজ; পায়ে চপপল, ভারি ম্মার্ট। এয়ার ফোসে যোগ দিয়েছে সম্প্রতি। বিষুচরণ পক্ষাথাতগ্রস্থ। বিছানায় জড়ব পড়ে থাকেন। তার সেবার ভার নিয়েছে তান বড় ছেলের বউ কমলা বিষুণরপণের মেয়ের সংখ্যাই বেশী, ছেলে রা ছুটি। মেয়েদের সব বিয়ে হয়ে গেছে।

২৫

অনেক দূরে দূরে বিয়ে হয়েছে, কচি কখনও আসে তারা কমলাই বাড়ির গৃহিনী এখন। সুরেশ্বরী ওর হাতেই সব ছেড়ে দিয়েছে৷ সুরেশ্বরীর এখন কাজ সিনেমা দেখে বেড়ানো তোড়ি তার সঙ্গী তোড়ি সুশীলার মেয়ে। একমাত্র সম্ভান তার। বিধবা হয়েছে স্শীলা। বিয়ের পর অনেকদিন ছেলেপিলে হয়নি স্ুশীলার। অনেক দিন পরে বুড়ো বয়সে তোড়ির জন্ম কানপুরে এক ওস্তাদ ওর নাম দিয়েছিল তোড়ি। তোড়ির বয়স এখন উনিশ এম-এ পড়ছে। দেখতে মোটে ভাল নয়, কালে রঙ., খাদ। নাক, চোখ ছুটোই ভালো। ছোট ছোট, কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত ছুটুমিভরা হাসিতে চিকমিক করছে ন্ুশীল! স্বামীর মৃত্যুর পরই চলে এসেছে কলকাতায় নিজের বাড়িতে সে বাপ-মায়ের একমাত্র সম্তান ছিল তাই বাড়িটি পেয়েছে উত্তরাধিকার সুত্রে বিষুচরণের সম্বন্ধে আর তার মোহ নেই। সে এখন দিনরাত ব্যস্ত পরলোক নিয়ে। ঠাকুর ঘরেই বেশীর ভাগ থাকে আর একটা আশ্চর্ধ ব্যাপার, সুরেশ্বরীকে সে-ও ভালবেসেছে। তোড়ির ভার তার উপর দিয়েই নিশ্চিন্ত আছে। তোড়ি অনেক সময় ওই বাড়ীতে খায়, ওই বাড়িতেই ঘুমোয় পর্য্যন্ত তোড়ি সুরেশ্বরীর বন্ধু এখন। তোড়ি সুরেশ্বরীকে নিয়ে কোথায় ন৷ গেছে। সিনেমা তো বটেই, কলেজের সাহিত্য-সভা, কফি হাউস, ক্রিকেট ম্যাচ, গড়ের মাঠে ইন্দিরাজীর বক্তৃতা, নানা জায়গায় চিত্র প্রদর্শনী, সব জায়গায় গেছে সুরেশ্বরী তোঁড়ির সঙ্গে তোডির নানারকম অসঙ্গত আবদার সুশীল সহ্য করে না, সুরেশ্বরী করে। তোড়ির দামী দামী শাড়ি স্ুরেশ্বরীই কিনে দিয়েছে সেদিন একটা দামী পোল কিনতে সাড়ে তিনশে! টাক! খরচ করতে হল সুরেশ্বরীকে। একট। ছোট্ট পিঠ-ঢাক। র্যাপারের জন্তে অত টাক। খরচ করবার ইচ্ছা! ছিল না সুরেশ্বরীর। কিন্ত তোড়ি জেদী। যখন ধরেছে, কিনবেই ষ্টোলের কাশ্মীরি কাজ নাকি আশ্চর্য সুন্দর। কাজের মর্ম সুরেশ্বরী বোঝেনি কিছু, কিন্তু কিনে দিতে হয়েছে। জার

২৬

'একদিন তোড়ি অবাক করে' দিয়েছিল সুরেশ্বরীকে। কোট প্যান্ট পরে" হাজির হল কোথেকে। মাথায় ফেন্ট হযাট। সুরেশ্বরী চিনতে পারেনি প্রথমে হকচকিয়ে গিয়েছিল। খিল খিল করে? হেসে উঠেছিল তোড়ি সুর-মার ভয় দেখে। স্ুুরেশ্বরীকে সে সুর-মা বলে ডাকে বললে--“তোমাকে নিয়ে চীনে হোটেলে যাব। তাই সায়েক সেজেছি। সায়েবি পোষাককে খুব খাতির করে ওরা আমি হব ছেলে, তুমি হবে আমার মা। ওর! কী সুন্দর চিংড়ি মাছ রান্না করে তোমাকে খাওয়া

সুরেশ্বরী যাননি সেখানে যাননি বটে, কিন্তু ওদের বটানিক্যাল গার্ডেনের পিকনিকে যেতে হয়েছিল। সেখানে ওদের খিচুড়ি রাধবার ভার নিতে হয়েছিল। কি যে জ্বালাতন করে তাকে মেয়েটা স্থরেশ্বরীর মুশকিল রাগ করতে পারেন না তিনি মেয়েটার উপর। কি যে একটা মায়া মাখান আছে ওর চোখ-মুখে। আর যখন আব্দার করে কি অপরূপ সুন্দরই না দেখায়।

একদিন তোড়ি কিন্তু এমন একট আবদার করে বসল যে ঘাবড়ে গেলেন সুরেশ্বরী বিকেলবেলা তর তর করে উঠে" এল তোড়ি সিড়ি দিয়ে। তার হাতে একটি সিছুর কৌটে।।

“আমার সিথেয় সিছুর পরিয়ে দাও স্ুর-মা”

“কুমারী মেয়ে সি'থেয় দম দুর পরে নাকি কখনও। তোর মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি”

“আমার বিয়ে হয়ে গেছে আজ সকালে রেজস্রী করে? বিয়ে হয়েছে”

“সে কি! কোথায়, কার সঙ্গে--”

দ্নীপুদার সঙ্গে দীপুদাকে কাল বাংলাদেশের যুদ্ধে যেতে হবে, তাই আজই বিয়েটা সেরে ফেললাম আমরা--সি'ছুর পরিয়ে দাও, করে দেখছ কি--”

'নির্ধাক বিশ্ময়ে চেয়ে রইল সুরেশ্বরী হঠাৎ তার মনে হল আমি ঘা পারিনি এরা তা পেরেছে

সেদিন বিকেলে ভোড়ি আর দীপঙ্করের “হনিমুন” জমেছিল গড়ের মাঠে একটা ফুচকাওলাকে কেন্দ্র করে তোড়ি হঠাৎ দীপঙ্করের দিকে চেয়ে বললে “তোমার আজ অন্তত একটা সিক্কের পাঞ্জাবী পর! উচিত ছিল। হাজার হোক তুমি নায়ক-_”

দীপঙ্কর হেসে বলল--“আমি নায়ক নই, নীত”--তারপর হো হো করে হেসে উঠল দুজনেই

গল্প লেখা শেষ করে? শুয়েছিলাম ইজিচেয়ারে। চোখ বুজে দেখতে চেষ্টা করেছিলাম তোড়ি দীপক্করকে।

হঠাৎ একটি ছোকরা প্রবেশ করল কপাট ঠেলে ছোকরার গোঁফ, ঈ্াড়ি, জুলফি চমৎকার। পরনে একটি চক্রা-বক্‌রা ছিটের হাফসার্ট, মনে হয় কোনও পরদা বা টেবিল ঢাকা কাপড় দিয়ে বানিয়েছে ওটা কালে চোং প্যান্ট আর চপপল তো৷ আছেই।

“আম্ুন, কে আপনি--”

«আমি ১৯১২এর তরুণ একজন প্রাচীনকে উড়িয়ে দিয়ে নৰীনকে স্থাপন করতে চাকরী টো জায়গঞঃজর কিন্ত আটকে গেছি, তাই আপনার পরামর্শ নিতে এলাম ।”

“কোনও নবীনের কাছে যাও, আমিও তো বুড়ো”

“তবু আপনার পরামর্শ টা! শুনলে কোনও ক্ষতি নেই। দেবেন ?”

“কি বিষয়ে বল-_”

«আমরা ছুটো জায়গায় আটকে গেছি। প্রথম, সেকালের মতো খান্ত্রব্য এখনও রেধে না খেলে ভালো লাগে না। দ্বিতীয় প্রেম করতে হলে পুরুষের চাই মেয়ে আর মেয়ের চাই পুরুষ। এই ছুটে! ব্যাপারে এখনও সেকেলে হয়ে আছি আমরা। কি করি বলুন তো-”

২৮

কি উত্তর দিতাম জানি না। কিন্তু ঘুমটা ভেঙে গেল একটা মোটর দাড়ানোর শবে। স্বপ্র মিলিয়ে গেল। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখলাম আমার নাতনী নিজে মোটর-ড্রাইভ করে ফিরল যেন কোথা থেকে তার টকটকে লাল পিঠকাট! ব্লাউসের নীচে দেখতে পেলাম তার ধপধপে ফরল। রংট।। নাতনী ঘরে ঢুকেই বললে -_“্দাহু তোমার জন্তে একটা নতুন খাবার এনেছি। তোমর৷ তো বরাবর মুর্গীর ঝোল, ন! হয় বড় জোর যুর্গীর রোস্ট খেয়েছ। আমি তোমাকে আজ নতুন একটা! রান্ন। খাওয়াব”

«কি কি”

“চিলি-চিকেন”

শ্রীমতী সীমা

কখন যে কোনদিক দিয়ে কি হয়ে যায় কেমন করে যে ফমকা গেরো৷ শক্ত গিট হয়ঃ শক্ত গেরো আলগ! হয়ে যায় জাগে থাকতে নির্ণয় করা যায় না তা। তভুসিবাবু (ভালে। মাম ভূষণ দে) মালদার লোক কালে। সাদ! নান। পথে মালক্্ী তার শ্তীবৃদ্ধি করে আসছেন বহুকাল থেকে শহরে গোরট্ীতিনেক বাড়ি হয়েছে, ব্যাঙ্কের খাতাতেও জমেছে কয়েক লক্ষ। অনেকে তাকে সিমেম! লাইনে নাবাতে চেষ্টা করেছিল, অনেকে বলেছিল ভালো একটা মাসিকপত্র বার করে সাহিত্য জগতে যুগান্তর আম্ুন, ভুমিবাবু রাজি হন নি। তিনি সুনিশ্চিত পথে চলতে চান। বন্দকী রেখে স্থদে টাকা ধার দেওয়াই তার প্রধান ব্যবসায়! মাঝে মধ্যে অবশ্য চোরা-পথে দমক। কিছু টাকা পেয়ে যান তিনি কিন্তু সেই চোরা- পথেও তিনি আটঘাট ন৷ বেঁধে অগ্রসর হন না। ভূসিবাবু লোক খুব খা্লাীপ নন। গার পরিচিত মহলে সকলেই তাকে ভালবাসে

২৯

ঈষৎ স্ুলকায় ভূসিবাবু এখনও খুব সেকেলে ফতুয়। পরেন, ধান পরেন। পায়ে দেন চীনাবাজারের সেকেলে জুতো সেকেলে ধরনে দানও করেন। ডান হাতের দান বা হাত জানতে পারে না। এমন লোকের স্থথে থাকার কথ।। কিন্তু তার একমাত্র সন্তান মাতৃহীন৷ কন্তা তাকে সুখে থাকতে দিচ্ছে না। অদ্ভুত প্রকৃতির এই মেয়ে হয়েছে ভূমিবাবুর। খারাপ নয় মোটেই, কিন্ত ভুসিবাবু বুঝতে পারেন না তাকে ঠিক। যখন তার বয়স বারো তেরো তখনই একট! অদ্ভুত কাণ্ড করেছিল সে।

বাবাকে এসে বলল--“বাবা, আমার ভালে! নামটা বলে দাও

“কেন?

“তে অহঙ্কার প্রকাশ পায়। তাছাড়া আমি আলোর মতো অত সুন্দর নই তো। আমার রং কালো, গড়নও ভালো নয়, আলো নাম আমার মানাচ্ছে না ঠিক। বদলে দাও ওটা-_;

“কি নাম মানাবে তাহলে তোকে ?

“এই টুপসি, ঝুপসি যাহোক কিছু দাও না একটা-_,

ভুসিবাধু স্মিতমুখে চেয়ে রইলেন কন্থার দিকে ক্ষণকাল। তারপর বললেন_-তুই নিজেই রাখ একটা”

কয়েকদিন পরে নিজেই সে নিজের নামকরণ করেছিল--সীম। ! ক্রমশ ভূসিবাবু হৃদক্র্টম করলেন যে যদিও নিজের নাম রেখেছে সীম। কিন্তু বারবার সীমা অতিক্রম করাই ওর স্বভাব। ভূসিবাঁবুর মাঝে মাঝে মনে হয় খুব ছেলেবেলায় ওর যদি বিয়ে দিয়ে দিতেন ভালে হত তাহলে কিন্তু একমাত্র কম্ঠাকে এত তাড়াতাড়ি পরের ঘরে পাঠাতে মন সরেনি তার। গোপন ইচ্ছা ছিল একটি ঘরজামাই করবার। ভেবেছিলেন টাকার জাল ফেলে একটি মনোমত জামাই ধরবেন। জালে অনেক ছোকরাই ধরা পড়েছিল কিন্তু মনোমত কাউকে পান নি তিনি। বেশির ভাগই কুৎসিত। কেউ ভালগাছের মতো! লম্বা কেউ অতিশয় বেঁটে, কেউ থলথলে মোটা, কারও" খেকুরে-

৩৩

মার্কা চেহারা অধিকাংশই ল্ব। জুলফিদার চোংপ্যান্ট পরা। ম্প্রী একটিও নয়। সীমা লেখাপড়ায় খুব ভালে বি এ-তে প্রথম শ্রেণীর অনা পেয়ে এমএ পড়ছে। এছাড়াও তার অনেক রকম 'হবি”। ফোটো তোলে ইডেন গার্ডেনের, চিড়িয়াখানায়, কলেজের ছেলেমেয়েদের, রাস্তার ভীড়ের--নানারকম ফোটোতে তার অনেক আালবাম ভরতি। তার আর একট। “হবি” খবরের কাগজের “কাটিং: কেটে রাখা সাহিত্য বিষয়ে, বিজ্ঞান-বিষয়ে, রাজনীতি বিষয়ে নান! কাটিং সংগ্রহ করে সে নানা পত্রিক। থেকে প্রত্যেকটির জন্যে আলাদা আলাদ। ফাইল করছে সে। নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে সর্বদা আড্ডাবাজ মেয়ে নয়, ঘরেই থাকে বিশেষ বন্ধু বৃদ্ধ ওস্তাদ গণি মিঞ1| তার কাছে সেতার শেখে মোটরে করে রোজ নিয়ে আসে তাকে ভূসিবাবু টাকার স্ূপের উপর বসে বসে দেখেন মেয়ে তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কুপথে গেলে রাগারাগি করতে পারতেন, কিন্তু সীমা তো কুপথগামিনী নয়-__ অথচ নাগালের বাইরে তাছাড়া এও তিনি অনুভব করলেন ওর যৌবন যে চলে যাচ্ছে। আর বিয়ে না দিলে কবে বিয়ে হবে। অথচ সীমার সঙ্গে বিষয়ে কথা কইতে ভয় করে তার। তবু মরিয়। হয়ে একদিন প্রস্তাবটা করলেন তিনি।

“এবার তোর বিয়ে দেব ভেবেছি সীমা। আপত্তি নেই